কাহালুর ২১ এলাকায় আজ ৭ ঘণ্টা বিদ্যুৎ বন্ধ

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ১৪ বার
কাহালুর ২১ এলাকায় আজ ৭ ঘণ্টা বিদ্যুৎ বন্ধ

প্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বগুড়ার কাহালু উপজেলায় আজ শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) টানা সাত ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে। বৈদ্যুতিক লাইনে জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ কাজের কারণে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত নির্দিষ্ট কয়েকটি এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি শুক্রবার বগুড়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর কাহালু জোনাল অফিস থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে। একই তথ্য একাধিক সংবাদ প্রতিবেদনে প্রকাশিত হয়েছে।

বিদ্যুৎ সরবরাহে কয়েক ঘণ্টার সাময়িক বিরতি সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে নানা ধরনের ভোগান্তি তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় বাসাবাড়ির স্বাভাবিক কাজ, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা, অনলাইনভিত্তিক কাজ এবং বিভিন্ন জরুরি সেবা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। সে কারণে নির্ধারিত সময়ের বিষয়টি আগেভাগে জানিয়ে দেওয়াকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কাহালু জোনাল অফিসের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আজ সকাল ৯টা থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হওয়ার কথা রয়েছে। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী বিকেল ৪টা পর্যন্ত এই পরিস্থিতি চলবে। অর্থাৎ প্রায় সাত ঘণ্টা সংশ্লিষ্ট এলাকার গ্রাহকদের বিদ্যুৎবিহীন থাকতে হবে। রক্ষণাবেক্ষণ কাজ শেষ হওয়ার পর সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার কথা রয়েছে।

যেসব এলাকায় এই সাময়িক বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতার প্রভাব পড়বে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে বুড়ইল, শিলকওর, বীরকেদার, কাইট, দরগাহাট, নারহট্ট, মাধব বাঁকা, বিবিরপুকুর, লোহাজল, শেখাহার, ভোলতা, পাইকপাড়া, আটালিয়া, গুন্দিশ্বর, গুলিশারপাড়া, আমবাগান, কালাই ঘোনপাড়া, অন্তাহার, খামারপাড়া, কাজীপাড়া ও বাথই। এসব এলাকার বাসিন্দাদের নির্ধারিত সময়ের কথা বিবেচনায় রেখে দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় কাজ আগেভাগে সম্পন্ন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বৈদ্যুতিক লাইন ও সরবরাহব্যবস্থার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ কাজ প্রয়োজন। বিদ্যুৎ সরবরাহের অবকাঠামোতে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ না হলে লাইনে ত্রুটি, যান্ত্রিক সমস্যা কিংবা অনাকাঙ্ক্ষিত বিঘ্নের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। সে কারণে গ্রাহকদের সাময়িক অসুবিধার মধ্য দিয়ে হলেও প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।

কাহালু জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মো. শাহাদৎ হোসেন জানিয়েছেন, বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা নিরাপদ ও নিরবচ্ছিন্ন রাখতে জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ কাজ করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে সাময়িক এই অসুবিধার জন্য গ্রাহকদের কাছে তিনি দুঃখ প্রকাশ করেছেন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য সবচেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে, বিদ্যুৎ বন্ধ থাকার সময়টি দিনের দীর্ঘ একটি অংশজুড়ে বিস্তৃত। সকাল ৯টায় সরবরাহ বন্ধ হলে দুপুরের ব্যস্ত সময়ও এর মধ্যে পড়বে। ফলে ঘরে বিদ্যুৎনির্ভর রান্নার সরঞ্জাম, পানির পাম্প, ফ্যান, ফ্রিজ, ইন্টারনেট রাউটারসহ বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা সম্ভব হবে না। গরমের মধ্যে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকলে শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি এবং অসুস্থ মানুষের দৈনন্দিন স্বাচ্ছন্দ্যেও প্রভাব পড়তে পারে।

ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেও সাময়িক এই বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতা কিছুটা চাপ তৈরি করতে পারে। ছোট দোকান, ওয়ার্কশপ, কম্পিউটারভিত্তিক প্রতিষ্ঠান, ফটোকপি ও প্রিন্টিংয়ের কাজ কিংবা অনলাইনে পরিচালিত বিভিন্ন ব্যবসায় বিদ্যুতের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। সাত ঘণ্টা সরবরাহ বন্ধ থাকায় এসব কার্যক্রমের স্বাভাবিক গতি কমে যেতে পারে। অনেক ব্যবসায়ীকে বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করে দিনের গুরুত্বপূর্ণ কাজ সামাল দিতে হতে পারে।

শিক্ষার্থীদের জন্যও সময়টি গুরুত্বপূর্ণ। শনিবার হওয়ায় অনেক শিক্ষার্থী দিনের বেলায় পড়াশোনা, অনলাইন ক্লাস বা পরীক্ষার প্রস্তুতিতে সময় দিতে পারে। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকলে আলো, ফ্যান, কম্পিউটার ও ইন্টারনেট ব্যবহারের ক্ষেত্রে সমস্যায় পড়তে হতে পারে। বিশেষ করে অনলাইনভিত্তিক পড়াশোনা বা কাজের সঙ্গে যুক্তদের জন্য আগেভাগে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া কার্যকর হতে পারে।

বাসাবাড়িতে ফ্রিজ ও অন্যান্য বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার নিয়েও অনেকে সতর্ক থাকতে পারেন। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকার সম্ভাবনা থাকায় প্রয়োজনীয় বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি অপ্রয়োজনে চালু না রাখা এবং বিদ্যুৎ ফিরে আসার সময় হঠাৎ ভোল্টেজ ওঠানামা হলে সংবেদনশীল যন্ত্রপাতি সুরক্ষিত রাখার বিষয়ে সচেতন থাকা জরুরি। বিশেষ করে কম্পিউটার, টেলিভিশন ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক যন্ত্র ব্যবহারে সতর্কতা অবলম্বন করা যেতে পারে।

তবে রক্ষণাবেক্ষণ কাজের উদ্দেশ্য সাময়িক অসুবিধার বিনিময়ে দীর্ঘমেয়াদে বিদ্যুৎ সরবরাহব্যবস্থাকে আরও নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য রাখা। বিদ্যুৎ অবকাঠামোর নিয়মিত ও জরুরি রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে সম্ভাব্য ত্রুটি চিহ্নিত করা, পুরোনো বা সমস্যাযুক্ত অংশে প্রয়োজনীয় কাজ করা এবং সরবরাহ ব্যবস্থার নিরাপত্তা বজায় রাখার সুযোগ তৈরি হয়। ফলে নির্ধারিত কাজটি গ্রাহকদের জন্য সাময়িক ভোগান্তি তৈরি করলেও এর লক্ষ্য বিদ্যুৎ ব্যবস্থার স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা।

এ ধরনের পরিস্থিতিতে স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো নির্ধারিত সময়টি সম্পর্কে সচেতন থাকা এবং প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া। পানি সংরক্ষণ, মোবাইল ফোন ও প্রয়োজনীয় ইলেকট্রনিক ডিভাইস চার্জ করে রাখা, বিদ্যুৎনির্ভর জরুরি কাজ আগে সম্পন্ন করা এবং বয়স্ক বা বিশেষ প্রয়োজন রয়েছে এমন পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি মাথায় রেখে ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রেও বিদ্যুৎনির্ভর কাজের সময়সূচি সাময়িকভাবে পরিবর্তন করা প্রয়োজন হতে পারে।

কাহালুর সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে আজকের সাত ঘণ্টার এই বিদ্যুৎ বিরতি পরিকল্পিত রক্ষণাবেক্ষণ কাজের অংশ হিসেবে নেওয়া হয়েছে। তাই এটি সাধারণ লোডশেডিংয়ের মতো অনির্ধারিত পরিস্থিতি নয়; বরং নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সরবরাহ বন্ধ রাখার বিষয়টি আগেই জানানো হয়েছে। এতে গ্রাহকদের নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ থাকছে।

স্থানীয় গ্রাহকদের কাছে বিদ্যুৎ বিভাগের পক্ষ থেকে সাময়িক অসুবিধা বিবেচনায় নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রক্ষণাবেক্ষণ কাজ শেষ করে দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার প্রত্যাশা রয়েছে। তবে বাস্তব কাজের পরিস্থিতির ওপর সময় কিছুটা কমবেশি হতে পারে কি না, সে বিষয়ে আলাদা কোনো তথ্য জানানো হয়নি। তাই সংশ্লিষ্ট গ্রাহকদের নির্ধারিত সময়কে সামনে রেখেই প্রস্তুত থাকার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।

সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ না থাকার কারণে কাহালুর বিস্তৃত কয়েকটি এলাকার মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় সাময়িক ছন্দপতন ঘটতে পারে। তারপরও বিদ্যুৎ সরবরাহব্যবস্থার নিরাপত্তা ও নিরবচ্ছিন্নতা বজায় রাখার জন্য প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণ কাজ দ্রুত ও যথাযথভাবে সম্পন্ন হবে—এটাই এখন সংশ্লিষ্ট গ্রাহকদের প্রত্যাশা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত