প্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
তুরস্ক ও মালয়েশিয়ার নারী প্রতিনিধিদলের বাংলাদেশ সফরকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মহিলা বিভাগের উদ্যোগে সেমিনার, পরিচিতিমূলক সভা ও মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়েছে। রাজধানীর মগবাজারে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে নারী নেতৃত্ব, শিক্ষা, সামাজিক ও মানবিক কার্যক্রম, তরুণীদের দক্ষতা উন্নয়ন এবং সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা বিনিময়সহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। একই দিনে ‘গ্লোবাল ইউনিটি অন মুসলিম’ শীর্ষক আরেকটি সেমিনারেও অংশ নেন সফররত প্রতিনিধিদলের সদস্যরা।
শুক্রবার রাজধানীর মগবাজারে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় তুরস্কের অতিথিদের পাশাপাশি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সদস্য এবং ইসলামী ছাত্রীসংস্থার কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যরা অংশ নেন। তুরস্কের প্রতিনিধিদলে ছিলেন এসরা সাইদওগলু এবং ড. ফৌজিয়াহ বিনতি মোহাম্মদ হাসান। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশ সফরের অংশ হিসেবে দুই দেশের নারী প্রতিনিধিদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ তৈরি করতেই এ ধরনের আয়োজন করা হয়।
সভাটি সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মাহবুবা জাহান। উদ্বোধনী বক্তব্য দেন দলটির কেন্দ্রীয় মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি নূরুন্নিসা সিদ্দিকা এমপি। বক্তব্যে তিনি জামায়াতে ইসলামীর নারী বিভাগের বিভিন্ন কার্যক্রমের কথা তুলে ধরেন। একই সঙ্গে নারীর নৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন, সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে নারীর অংশগ্রহণ এবং পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময়ের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
নূরুন্নিসা সিদ্দিকা বলেন, তুরস্কের নারী প্রতিনিধিদের বাংলাদেশ সফর এবং এ ধরনের মতবিনিময় দুই দেশের নারীসমাজের মধ্যে যোগাযোগ ও সহযোগিতা বাড়ানোর একটি সুযোগ তৈরি করেছে। তার বক্তব্যে নারীসমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অংশগ্রহণ এবং অভিজ্ঞতা বিনিময়ের বিষয়টি গুরুত্ব পায়। বিশেষ করে সামাজিক উন্নয়ন ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে নারীদের ভূমিকা নিয়ে দুই দেশের অভিজ্ঞতা ভাগাভাগির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
মতবিনিময় সভায় ইসলামী ছাত্রীসংস্থার পরিচিতি ও কার্যক্রম তুলে ধরেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল নাহিয়ান ফাইরুজ নাজিফা। সংগঠনটির কাঠামো, কার্যক্রম ও তরুণীদের নিয়ে বিভিন্ন উদ্যোগ সম্পর্কে তিনি অতিথিদের অবহিত করেন। এর পর তুরস্কের প্রতিনিধিরা নারী নেতৃত্ব, শিক্ষা, সামাজিক উন্নয়ন, মানবিক কর্মকাণ্ড এবং তরুণীদের দক্ষতা ও নেতৃত্ব বিকাশের বিষয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন ও মতামত তুলে ধরেন।
আলোচনায় উঠে আসা বিষয়গুলোর মধ্যে নারী নেতৃত্বের বিকাশ বিশেষ গুরুত্ব পায়। তরুণীদের শিক্ষার পাশাপাশি সামাজিক ও সাংগঠনিক ক্ষেত্রে তাদের সক্ষমতা বাড়ানোর বিভিন্ন দিক নিয়েও মতবিনিময় হয়। দুই দেশের বাস্তবতায় নারীদের সামনে থাকা বিভিন্ন সুযোগ ও চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মধ্য দিয়ে ভবিষ্যতে সহযোগিতার সম্ভাব্য ক্ষেত্রগুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়।
বাংলাদেশে বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কার্যক্রমে নারীদের অংশগ্রহণের পাশাপাশি সংগঠনভিত্তিক কর্মকাণ্ডে তাদের ভূমিকা নিয়েও অনুষ্ঠানে আলোচনা হয়। তুরস্কের প্রতিনিধিরা এসব কার্যক্রম সম্পর্কে জানতে আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং তরুণীদের নেতৃত্ব বিকাশে কী ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, সে বিষয়ে প্রশ্ন করেন। আয়োজকরা তাদের সংগঠনের সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম ও অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।
একই দিন বিকেলে রাজধানীর আলফালাহ মিলনায়তনে ‘গ্লোবাল ইউনিটি অন মুসলিম’ শীর্ষক একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। এতে সফররত প্রতিনিধিদলের সদস্য ও মানবতাবাদী কর্মী ড. ফৌজিয়াহ বিনতি মোহাম্মদ হাসান মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন। সেমিনারে মুসলিম সমাজের মধ্যে যোগাযোগ, নারীসমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অংশগ্রহণ এবং পারস্পরিক সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।
সেমিনারে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মহিলা বিভাগের সহকারী সেক্রেটারি মার্জিয়া বেগম এমপি, আইন ও মানবসম্পদ বিভাগীয় সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট সাবিকুন্নাহার এমপি, সম্মিলিত নারী প্রয়াসের সেক্রেটারি ফেরদৌস আরা বকুল এবং ইসলামী ছাত্রীসংস্থার কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল নাহিয়ান ফাইরুজ নাজিফা।
আয়োজকদের বক্তব্য অনুযায়ী, এসব অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে নারী নেতৃত্ব, শিক্ষা, সামাজিক উন্নয়ন ও মানবিক কর্মকাণ্ডের বিভিন্ন অভিজ্ঞতা ভাগাভাগির সুযোগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে বিভিন্ন দেশের নারী সংগঠন ও প্রতিনিধিদের মধ্যে সরাসরি মতবিনিময় হলে একে অপরের কার্যক্রম, সাংগঠনিক পদ্ধতি এবং সামাজিক উদ্যোগ সম্পর্কে জানার সুযোগ তৈরি হয়। বাংলাদেশের নারী প্রতিনিধিদের জন্যও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের অভিজ্ঞতার সঙ্গে পরিচিত হওয়ার একটি ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে বলে তারা মনে করছেন।
তবে এ ধরনের আন্তর্জাতিক মতবিনিময়ের গুরুত্ব শুধু আনুষ্ঠানিক সভা বা বক্তব্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। নারীসমাজের শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, নেতৃত্ব তৈরি এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের মতো বিষয়গুলো বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞতার আলোকে আলোচিত হলে বাস্তব পরিস্থিতি ও প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন ধারণা বিনিময়ের সুযোগ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক যোগাযোগ ভবিষ্যতে সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্রও তৈরি করতে পারে।
তুরস্ক ও মালয়েশিয়ার নারী প্রতিনিধিদলের বাংলাদেশ সফরকে কেন্দ্র করে আয়োজিত এসব কর্মসূচি তাই মূলত অভিজ্ঞতা বিনিময় ও যোগাযোগ বৃদ্ধির একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে সামনে এসেছে। অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা নারী নেতৃত্ব ও সামাজিক উন্নয়ন নিয়ে নিজেদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরার পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মের দক্ষতা বৃদ্ধির বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেছেন।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মহিলা বিভাগ ভবিষ্যতেও নারীসমাজের শিক্ষা, সামাজিক উন্নয়ন, মানবিক কার্যক্রম ও সাংগঠনিক অংশগ্রহণ নিয়ে বিভিন্ন ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময়ের মাধ্যমে এসব ক্ষেত্রে নতুন অভিজ্ঞতা অর্জন এবং পারস্পরিক যোগাযোগ আরও বিস্তৃত করার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
শুক্রবারের দুই কর্মসূচিতে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল নারীসমাজের অংশগ্রহণ, নেতৃত্ব বিকাশ, শিক্ষা ও সামাজিক কর্মকাণ্ড। তুরস্কের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় এবং পরে ‘গ্লোবাল ইউনিটি অন মুসলিম’ সেমিনারে অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে সফরটির আনুষ্ঠানিক কার্যক্রমে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। দুই দেশের নারীসমাজের মধ্যে যোগাযোগ ও অভিজ্ঞতা বিনিময় ভবিষ্যতে কীভাবে আরও বিস্তৃত হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।