পুরোনো ফেসবুক পোস্ট নিয়ে হামিমের পাল্টা অভিযোগ

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ১৩ বার
পুরোনো ফেসবুক পোস্ট নিয়ে হামিমের পাল্টা অভিযোগ

প্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কবি জসীম উদ্দীন হল ছাত্রদলের আহ্বায়ক শেখ তানভীর বারী হামিমের ১২ বছর আগের একটি ফেসবুক আইডির বিভিন্ন পোস্টের স্ক্রিনশট নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা তৈরি হয়েছে। এ নিয়ে ইসলামী ছাত্রশিবিরের বিরুদ্ধে গুজব ও অপপ্রচার চালানোর অভিযোগ তুলেছেন হামিম। তাঁর দাবি, যে ফেসবুক আইডির পুরোনো পোস্টের স্ক্রিনশট নিয়ে আলোচনা হচ্ছে, সেগুলো ২০১৪ সালের এবং তখন তিনি অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন।

শনিবার রাত ১টা ৪৭ মিনিটে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে হামিম এ অভিযোগ করেন। ওই স্ট্যাটাসের সঙ্গে তিনি কয়েকটি স্ক্রিনশটও প্রকাশ করেন। নিজের বক্তব্যে তিনি পুরোনো পোস্টগুলোর সময়কাল এবং সেগুলোকে বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থানের সঙ্গে যুক্ত করার প্রচেষ্টার সমালোচনা করেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া স্ক্রিনশটগুলোতে বিএনপি এবং দলটির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের আদর্শের প্রতি সমর্থনসূচক বিভিন্ন বক্তব্য দেখা যায়। একই ফেসবুক আইডির আরও কিছু পুরোনো পোস্টের স্ক্রিনশট নিয়েও আলোচনা হয়েছে, যেখানে একসময় ইসলামী ছাত্রশিবিরের পক্ষে বক্তব্য দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করা হচ্ছে। এসব পুরোনো পোস্টকে কেন্দ্র করেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের মন্তব্য ও পাল্টা বক্তব্য দেখা দিয়েছে।

নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে হামিম বলেন, ওই আইডির পোস্টগুলো প্রায় ১২ বছর আগের। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ২০১৪ সালে তিনি অষ্টম শ্রেণিতে পড়তেন। ফলে সেই সময়ের সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বা মতামতকে বর্তমান সময়ের অবস্থানের সঙ্গে মিলিয়ে দেখার বিষয়টি নিয়ে তিনি আপত্তি জানিয়েছেন।

হামিম তাঁর ফেসবুক স্ট্যাটাসে অভিযোগ করেন, পুরোনো আইডির পোস্ট নিয়ে তাঁকে ঘিরে গুজব ছড়ানো হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, একটি পোস্টে তৎকালীন ছাত্রদলের এক নেতাকে ট্যাগ করা হয়েছিল এবং সেটিকেও অপপ্রচারের অংশ হিসেবে ব্যবহার করার চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে নিজের ছোট বোনের সঙ্গে তোলা একটি ছবিকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপত্তিকর মন্তব্য করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

পুরোনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হওয়া বাংলাদেশে নতুন ঘটনা নয়। বিশেষ করে কোনো রাজনৈতিক কর্মী বা নেতার বহু বছর আগের পোস্ট, ছবি কিংবা মন্তব্য নতুন করে সামনে এলে তা বর্তমান রাজনৈতিক পরিচয় ও অবস্থানের সঙ্গে মিলিয়ে আলোচনা শুরু হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পুরোনো কনটেন্ট দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার কারণে অনেক সময় পোস্টের প্রকৃত সময়কাল, প্রেক্ষাপট ও বক্তব্যের উদ্দেশ্য আলাদাভাবে যাচাই না করেই নানা ধরনের মন্তব্য তৈরি হতে পারে।

হামিমের ক্ষেত্রেও মূল বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে একটি পুরোনো ফেসবুক আইডি। তাঁর প্রকাশিত বক্তব্য অনুযায়ী, ওই অ্যাকাউন্টের পোস্টগুলো এমন একটি সময়ে করা হয়েছিল, যখন তিনি অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন। ফলে ওই সময়ের পোস্টগুলো কী প্রেক্ষাপটে লেখা হয়েছিল এবং সেগুলো বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থানের সঙ্গে কীভাবে সম্পর্কিত—এ প্রশ্নকে তিনি নিজের বক্তব্যে গুরুত্ব দিয়েছেন।

তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া স্ক্রিনশটের সত্যতা, সম্পূর্ণ প্রেক্ষাপট এবং পোস্টগুলোর প্রকৃত সময়কাল আলাদাভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। একটি স্ক্রিনশট থেকে কোনো ব্যক্তির দীর্ঘ সময়ের রাজনৈতিক অবস্থান বা বর্তমান পরিচয় সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঝুঁকিপূর্ণ। একইভাবে পুরোনো পোস্টের বক্তব্য বর্তমান অবস্থানের প্রতিনিধিত্ব করে কি না, সেটিও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ব্যাখ্যা ও অন্যান্য নির্ভরযোগ্য তথ্যের ভিত্তিতে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

এ ধরনের ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের দায়িত্বশীল আচরণও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। কোনো ব্যক্তির পুরোনো পোস্ট বা ছবির স্ক্রিনশট সামনে এলে সেটি কখন প্রকাশ করা হয়েছিল, পোস্টটি সম্পূর্ণভাবে কী বলা হয়েছিল এবং পরবর্তী সময়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি তাঁর অবস্থান সম্পর্কে কী বলেছেন—এসব বিষয় যাচাই না করে তথ্যটি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দিলে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে।

হামিম তাঁর বক্তব্যে আরও অভিযোগ করেন, পুরোনো একটি পোস্টে তৎকালীন ছাত্রদলের এক নেতাকে ট্যাগ করার বিষয়টিকেও নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্কে আনার চেষ্টা চলছে। তিনি এর পাশাপাশি নিজের পরিবারের সদস্যকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপত্তিকর মন্তব্যের বিষয়টি উল্লেখ করেন। ব্যক্তিগত ছবি ও পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মন্তব্যের ক্ষেত্রে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দায়িত্বশীলতার প্রয়োজনীয়তাও এ ঘটনায় সামনে এসেছে।

রাজনৈতিক অঙ্গনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এখন গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগমাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। বিভিন্ন দলের নেতা-কর্মী ও সমর্থকেরা নিজেদের বক্তব্য, রাজনৈতিক অবস্থান এবং প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করতে ফেসবুকসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করেন। একই সঙ্গে এসব প্ল্যাটফর্মে পুরোনো বক্তব্য নতুন করে সামনে আসা, সম্পাদিত ছবি বা স্ক্রিনশট ছড়িয়ে পড়া এবং বক্তব্যের অংশবিশেষ নিয়ে বিতর্ক তৈরির ঘটনাও দেখা যায়। ফলে রাজনৈতিক বিতর্কের ক্ষেত্রে তথ্য যাচাই ও প্রেক্ষাপট বোঝার গুরুত্ব আরও বেড়েছে।

শেখ তানভীর বারী হামিম এর আগেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন রাজনৈতিক বিষয়ে সক্রিয় ছিলেন। তাঁর প্রকাশিত বক্তব্যকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন সময়ে বিতর্কও তৈরি হয়েছে। চলতি ঘটনায়ও তিনি নিজের ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্টে প্রকাশ্য অবস্থান নিয়ে পুরোনো পোস্টের ব্যাখ্যা দিয়েছেন এবং এগুলোকে কেন্দ্র করে ছড়ানো তথ্যকে গুজব ও অপপ্রচার হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

তবে হামিমের অভিযোগের বিষয়ে ইসলামী ছাত্রশিবিরের কোনো বক্তব্য এই প্রতিবেদনের জন্য পাওয়া যায়নি। ফলে তাঁর অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে স্বাধীনভাবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। রাজনৈতিক বিরোধ বা মতপার্থক্যের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া যেকোনো অভিযোগের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য জানা এবং তথ্য যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ।

এদিকে হামিম তাঁর স্ট্যাটাসের শেষাংশে নিজের অবস্থান নিয়ে সমালোচনার জবাব দেওয়ার পাশাপাশি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের উদ্দেশে কড়া ভাষায় মন্তব্য করেছেন। তাঁর বক্তব্যে পুরোনো পোস্টের বিষয়টি নিয়ে বিরক্তি ও ক্ষোভের প্রকাশ দেখা যায়। ফলে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাজনৈতিক বিতর্ককে আরও তীব্র করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পুরোনো ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া এই বিতর্কে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে তথ্যের সময়কাল ও প্রেক্ষাপট। ২০১৪ সালের কোনো পোস্টকে ২০২৬ সালের রাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে সরাসরি তুলনা করার আগে ওই সময়কার পরিস্থিতি, ব্যক্তির বয়স, বক্তব্যের পূর্ণাঙ্গ বিষয়বস্তু এবং বর্তমান অবস্থান বিবেচনা করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে কোনো অভিযোগ বা স্ক্রিনশট ছড়িয়ে পড়লে তা যাচাই ছাড়া সত্য হিসেবে গ্রহণ না করার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ।

সব মিলিয়ে, ১২ বছর আগের একটি ফেসবুক আইডির পোস্টকে কেন্দ্র করে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। হামিম এসব পোস্টের প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করে শিবিরের বিরুদ্ধে গুজব ছড়ানোর অভিযোগ করেছেন। অন্যদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া পুরোনো পোস্টগুলোর প্রকৃত প্রেক্ষাপট ও উদ্দেশ্য নিয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই ছাড়া কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়। ফলে এই বিতর্কের পরবর্তী গতিপথ নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য, তথ্যের যাচাই এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার ওপর।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত