সারজিস আলমকে প্রধান করে এনসিপির নতুন উপ-কমিটি

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৭ বার
সারজিস আলমকে প্রধান করে এনসিপির নতুন উপ-কমিটি

প্রকাশ: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও বিস্তৃত ও সমন্বিত করার লক্ষ্যে ২৩ সদস্যের একটি সাংগঠনিক উপ-কমিটি গঠন করেছে। নতুন এই উপ-কমিটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন দলটির উত্তরাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। সোমবার রাজধানীর বাংলামোটরে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত রাজনৈতিক পর্ষদের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

দলীয় সূত্র ও বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানা গেছে, সোমবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত অনুষ্ঠিত বৈঠকে এনসিপির সাংগঠনিক কার্যক্রম, কেন্দ্রীয় কাঠামো এবং মাঠপর্যায়ের সংগঠনকে আরও কার্যকরভাবে পরিচালনার বিষয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন দলটির আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। দীর্ঘ বৈঠকের পর সাংগঠনিক উপ-কমিটি গঠনসহ দলীয় কার্যক্রম পরিচালনায় নতুন কাঠামোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

নতুন দায়িত্ব পাওয়ার মধ্য দিয়ে সারজিস আলমের ওপর দলের সাংগঠনিক কার্যক্রমের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশের সমন্বয়ের দায়িত্ব যুক্ত হলো। বর্তমানে তিনি এনসিপির উত্তরাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠকের দায়িত্বে রয়েছেন। নতুন উপ-কমিটির নেতৃত্বে তাকে দায়িত্ব দেওয়ার ফলে উত্তরাঞ্চলকেন্দ্রিক সাংগঠনিক কাজের পাশাপাশি দেশের অন্যান্য অঞ্চল ও বিভাগে দলের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের সমন্বয়ের ক্ষেত্রেও তার ভূমিকা থাকবে বলে দলীয় সিদ্ধান্ত থেকে বোঝা যাচ্ছে।

এনসিপির নতুন সাংগঠনিক কাঠামোয় শুধু কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের ওপর নির্ভর না করে বিভাগ ও মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব বণ্টনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সাংগঠনিক উপ-কমিটিতে রাজনৈতিক পর্ষদ থেকে দুজন উপ-প্রধান থাকবেন। পাশাপাশি দেশের প্রতিটি বিভাগে একজন করে বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এবং একজন করে সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক দায়িত্ব পালন করবেন। এর মাধ্যমে কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত ও মাঠপর্যায়ের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর একটি কাঠামো তৈরি করা হয়েছে।

দলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সাংগঠনিক কার্যক্রমে গতিশীলতা আনা এবং বিভাগ ও মাঠপর্যায়ের কাজ আরও কার্যকরভাবে সমন্বয় করতেই এই উপ-কমিটি গঠন করা হয়েছে। নতুন কাঠামোর মাধ্যমে বিভিন্ন পর্যায়ের সাংগঠনিক দায়িত্ব নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হচ্ছে, যাতে দলীয় কার্যক্রম পরিচালনায় দায়িত্বের ক্ষেত্রগুলো আরও স্পষ্ট থাকে।

সারজিস আলমের নতুন দায়িত্বের বিষয়টি এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন এনসিপি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সাংগঠনিক কাঠামো বিস্তারের দিকে এগোচ্ছে। ২৮ সেপ্টেম্বরের রাজনৈতিক পর্ষদের বৈঠক নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশের ৬৪ জেলায় কমিটি গঠনের পর দলটি উপজেলা পর্যায়ে সংগঠন গঠনের দিকে নজর দিচ্ছে। অক্টোবরের মধ্যে সব উপজেলায় কমিটি গঠনের পরিকল্পনার কথাও বৈঠক-সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সাংগঠনিক কাঠামো বিস্তারের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে স্থানীয় পর্যায়ের যোগাযোগ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। কারণ একটি রাজনৈতিক দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম শুধু কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে না; মাঠপর্যায়ে কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ, স্থানীয় পর্যায়ে সাংগঠনিক দায়িত্ব বণ্টন এবং বিভিন্ন ইউনিটের কার্যক্রমের মধ্যে সমন্বয়ও এর অংশ। নতুন উপ-কমিটির বিভাগভিত্তিক কাঠামো সেই সমন্বয়কে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার একটি উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বৈঠকে দলের কেন্দ্রীয় কাঠামো পুনর্গঠন ও দায়িত্ব বণ্টনের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। রাজনৈতিক পর্ষদের সদস্যদের বিভিন্ন উপ-কমিটির নেতৃত্বে দায়িত্ব দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়েছে। কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যদের এসব উপ-কমিটির বিভিন্ন দায়িত্বে যুক্ত করার মাধ্যমে দলের সাংগঠনিক কার্যক্রমকে নির্দিষ্ট দায়িত্বের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।

এ ছাড়া বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ে রাজনৈতিক কর্মশালা আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথাও বৈঠক-সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে এসেছে। এসব কর্মসূচির মাধ্যমে দলীয় কাঠামোর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে সমন্বয় ও সাংগঠনিক যোগাযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে। তবে এসব কর্মসূচির বাস্তবায়ন, সময়সূচি ও পরবর্তী সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত সম্পর্কে বিস্তারিত আনুষ্ঠানিক ঘোষণা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আসার অপেক্ষায় রয়েছে।

রাজনীতির মাঠে সংগঠন শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে দায়িত্ব বণ্টন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বিশেষ করে নতুন রাজনৈতিক দলের জন্য কেন্দ্র থেকে ইউনিয়ন বা উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত সাংগঠনিক কাঠামো গড়ে তোলা একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। এ কারণে এনসিপির নতুন উপ-কমিটি গঠন এবং সারজিস আলমকে এর প্রধান করার সিদ্ধান্ত দলটির সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের পরবর্তী ধাপের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি প্রশাসনিক ও সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত হিসেবে সামনে এসেছে।

সারজিস আলম এর আগে থেকেই এনসিপির উত্তরাঞ্চলীয় সাংগঠনিক কার্যক্রমে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। নতুন দায়িত্বে তাকে ২৩ সদস্যের উপ-কমিটির নেতৃত্ব দেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন বিভাগের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সমন্বয় করতে হবে। উপ-প্রধান, বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও সহ-সাংগঠনিক সম্পাদকদের নিয়ে গঠিত কাঠামোর মাধ্যমে এই কাজ পরিচালিত হবে।

এনসিপির জন্য এখন মূল বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে নতুন সাংগঠনিক কাঠামো কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা যায়। জেলা পর্যায়ের পর উপজেলা পর্যায়ে সংগঠন বিস্তারের পরিকল্পনা, বিভাগীয় পর্যায়ে দায়িত্ব বণ্টন এবং কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে মাঠপর্যায়ের সমন্বয়—সব মিলিয়ে দলটির সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের পরিধি বাড়ানোর উদ্যোগ স্পষ্ট হয়েছে। তবে এসব সিদ্ধান্তের বাস্তব ফলাফল নির্ভর করবে মাঠপর্যায়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের কার্যক্রম, স্থানীয় সাংগঠনিক বাস্তবতা এবং দলীয় সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের ধারাবাহিকতার ওপর।

২৮ সেপ্টেম্বরের বৈঠকে নেওয়া সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে সারজিস আলমের নতুন দায়িত্বের বিষয়টি তাই শুধু একজন নেতার পদায়নের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না; এর সঙ্গে এনসিপির সামগ্রিক সাংগঠনিক কাঠামো পুনর্বিন্যাসের বিষয়টিও যুক্ত হয়েছে। এখন নতুন উপ-কমিটি কীভাবে কাজ শুরু করে, বিভাগ ও উপজেলা পর্যায়ে সংগঠন বিস্তারের পরিকল্পনা কীভাবে বাস্তবায়িত হয় এবং কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে মাঠপর্যায়ের সমন্বয় কতটা কার্যকর হয়—এসব বিষয়ই পরবর্তী সময়ে দলটির সাংগঠনিক কার্যক্রমের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত