রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্র পুনর্গঠনে ৫০ লাখ টাকা দেবে জামায়াত

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৬ বার
রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্র পুনর্গঠনে ৫০ লাখ টাকা দেবে জামায়াত

প্রকাশ: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

রাজধানীর মিরপুর-১ নম্বর এলাকায় হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটে ক্ষতিগ্রস্ত রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার পুনঃপ্রতিষ্ঠায় ৫০ লাখ টাকা অনুদান দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। সোমবার বিকেলে ক্ষতিগ্রস্ত স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি পরিদর্শন করে এ ঘোষণা দেন দলটির আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি জানিয়েছেন, ঘোষিত সহায়তার পাশাপাশি প্রয়োজন হলে স্থানীয় মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে আরও সহযোগিতা করা হবে।

স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি পরিদর্শনের সময় ডা. শফিকুর রহমান বলেন, প্রাথমিকভাবে যে সহায়তার কথা ঘোষণা করা হয়েছে, তা অব্যাহত থাকবে। ৫০ লাখ টাকার অনুদানকে তিনি সহযোগিতার শুরু হিসেবে উল্লেখ করে প্রয়োজন অনুযায়ী পরবর্তী সহায়তার কথাও জানান। তার বক্তব্য অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানটি দ্রুত স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফিরিয়ে আনা এবং এলাকার মা ও শিশুদের চিকিৎসাসেবা পুনরায় চালু করাই এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।

সোমবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে মিরপুরের ক্ষতিগ্রস্ত স্বাস্থ্যকেন্দ্রটিতে যান জামায়াত আমির। সেখানে তিনি প্রতিষ্ঠানটির অবস্থা দেখেন এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেন। পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে পুনঃপ্রতিষ্ঠার কাজ এগিয়ে নেওয়া হবে। প্রাথমিকভাবে বরাদ্দ করা অর্থ দিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনার কিছু অংশ সংস্কার এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম সংগ্রহের মাধ্যমে সেবা কার্যক্রম আবার চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারটি মূলত মা ও শিশুস্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে যুক্ত একটি প্রতিষ্ঠান। ফলে এর কার্যক্রম বন্ধ বা সীমিত হয়ে যাওয়ায় স্থানীয় মানুষের চিকিৎসাসেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের নিয়মিত চিকিৎসা, পরামর্শ এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম জড়িত থাকায় দ্রুত সেবা চালুর প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি সামনে এসেছে।

সাম্প্রতিক হামলার ঘটনায় স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির অবকাঠামো ও বিভিন্ন সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। ২৪ সেপ্টেম্বর রাতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে বলে জানা যায়। এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির ভবন ও চিকিৎসাসেবার জন্য ব্যবহৃত বিভিন্ন সামগ্রী ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হয়েছে। পরে বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোচনা তৈরি হয়।

স্বাস্থ্যকেন্দ্র পরিদর্শনের পর ডা. শফিকুর রহমান ঘটনাটির নিন্দা জানান এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি করেন। তিনি বলেন, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী অপরাধ করলে তার রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। তার বক্তব্যে এমন অপরাধের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

তবে হামলার পেছনে কারা জড়িত এবং কী কারণে ঘটনাটি ঘটেছে, সে বিষয়ে তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত তথ্য সামনে আসা জরুরি। ডা. শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন, ক্ষমতাসীনদের আশ্রয়-প্রশ্রয় ছাড়া এত বড় ধরনের ঘটনা ঘটানো সম্ভব নয়। এটি তার রাজনৈতিক অভিযোগ; এর সমর্থনে তিনি ওই সময় কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা ঘটনার বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেননি। ফলে অভিযোগটির সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়ার ফলাফল গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

স্বাস্থ্যকেন্দ্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার বিষয়ে জামায়াত আমির বলেন, প্রতিষ্ঠানটির ছয় সদস্যের একটি ট্রাস্টি বোর্ড রয়েছে বলে তারা জানতে পেরেছেন। তাদের সঙ্গে বসে পরবর্তী কার্যক্রম সমন্বয় করার কথা জানান তিনি। তার মতে, ঘোষিত অর্থ হাতে পাওয়ার পর ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনার প্রাথমিক সংস্কার এবং প্রয়োজনীয় কিছু যন্ত্রপাতি কেনা সম্ভব হতে পারে। এর মাধ্যমে মা ও শিশুদের চিকিৎসাসেবা ধীরে ধীরে পুনরায় চালু করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।

স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনা নিয়ে সাধারণ মানুষের উদ্বেগের জায়গাটিও তুলে ধরেন জামায়াত আমির। তার বক্তব্যে চিকিৎসাসেবা যেন রাজনৈতিক বিরোধ বা সংঘাতের প্রভাবের বাইরে থাকে, সে বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। একই সঙ্গে চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।

রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ঘটনা প্রসঙ্গে কথা বলার পাশাপাশি দেশের সাম্প্রতিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও মন্তব্য করেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বিভিন্ন স্থানে হামলা, ভাঙচুর ও দখলচেষ্টার অভিযোগের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন এবং অপরাধীদের রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানান।

সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি ঢাকার ইসিবি চত্বরে একজন জুলাই আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তির স্টুডিওতে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগের প্রসঙ্গও তোলেন। ওই ঘটনার কারণ হিসেবে চাঁদাবাজি নাকি জমিজমা-সংক্রান্ত বিরোধ—এ নিয়ে বিভিন্ন বক্তব্যের কথা উল্লেখ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, কোনো বিরোধ থাকলেও রাতের বেলায় গিয়ে হামলা ও ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর আইনগত সুযোগ আছে কি না। তার বক্তব্য ছিল, জমি বা সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ দেখা দিলে তার সমাধানের জন্য আইনগত ব্যবস্থা রয়েছে; ব্যক্তিগতভাবে হামলা বা ভাঙচুরের সুযোগ নেই।

তিনি আরও বলেন, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সম্পদে হামলা হলে সেটিকে রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে বিচার করা উচিত নয়। অপরাধী যে দলেরই হোক, তাকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি। এমনকি নিজের দলের কোনো ব্যক্তি অপরাধে জড়িত থাকলেও তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান জামায়াত আমির।

এ সময় তিনি সরকারের পক্ষ থেকে জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দেওয়ার কথা বলা হলেও বাস্তবে বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসক, নার্স ও সাধারণ মানুষ হয়রানি বা হামলার শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন। মোহাম্মদপুরে অস্ত্র নিয়ে মহড়া এবং বাড়ি দখলের চেষ্টার অভিযোগের কথাও তিনি উল্লেখ করেন। এসব ঘটনার তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের পুনঃপ্রতিষ্ঠায় ৫০ লাখ টাকার অনুদানের ঘোষণা এমন এক সময়ে এলো, যখন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানটির চিকিৎসাসেবা দ্রুত স্বাভাবিক করার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা চলছে। ঘোষিত অর্থ কীভাবে ব্যয় হবে, কোন পর্যায়ে সংস্কার শুরু হবে এবং কত দ্রুত পূর্ণাঙ্গ সেবা চালু করা সম্ভব হবে—এসব বিষয় পরবর্তী সময়ে প্রতিষ্ঠানটির ট্রাস্টি বোর্ড ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ের ওপর নির্ভর করবে।

স্থানীয় মানুষের জন্য একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের গুরুত্ব শুধু একটি ভবন বা চিকিৎসা সরঞ্জামের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বিশেষ করে মা ও শিশুদের চিকিৎসাসেবার সঙ্গে যুক্ত কোনো প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হলে এর প্রভাব পরিবার ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ওপর পড়ে। ফলে দ্রুত অবকাঠামো পুনর্গঠন এবং চিকিৎসাসেবা ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

এদিকে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবিও জোরালো হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ, হামলাকারীদের পরিচয় এবং ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ চিত্র তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হওয়ার কথা। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে যাতে কোনো স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান এমন হামলার শিকার না হয়, সে জন্য নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার প্রয়োজন রয়েছে।

জামায়াতে ইসলামীর ঘোষিত ৫০ লাখ টাকার সহায়তা বাস্তবায়িত হলে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের প্রাথমিক সংস্কার ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সংগ্রহে তা ভূমিকা রাখতে পারে। তবে স্থায়ীভাবে স্বাস্থ্যসেবা স্বাভাবিক করতে অবকাঠামো পুনর্গঠন, চিকিৎসা সরঞ্জাম, জনবল এবং নিরাপত্তা—সবকিছুর সমন্বিত ব্যবস্থা প্রয়োজন হবে। ক্ষতিগ্রস্ত এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ভবিষ্যৎ কার্যক্রম এখন সেই পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার ওপরই নির্ভর করছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত