স্পেনের টেক্সটাইল মেলায় বাংলাদেশের ১৮ প্রতিষ্ঠান

Reporter Name
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬
  • ৮ বার
স্পেনের টেক্সটাইল মেলায় বাংলাদেশের ১৮ প্রতিষ্ঠান

প্রকাশ:২২ অক্টোবর ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ইউরোপের কৌশলগত ও বৈশ্বিক ফ্যাশন বাণিজ্যের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র স্পেনের ঐতিহাসিক বার্সেলোনা শহরে আন্তর্জাতিক মানের তিন দিনব্যাপী পোশাক ও বস্ত্র প্রদর্শনীর পর্দা উঠেছে। ‘বার্সেলোনা টেক্সটাইল এক্সপো ২০২৬’ শীর্ষক বিশ্বখ্যাত এই মেলায় বাংলাদেশের সুপরিচিত ও প্রতিশ্রুতিশীল ১৮টি তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান সক্রিয়ভাবে অংশ গ্রহণ করছে। মূলত ইউরোপীয় ইউনিয়নের সুবিশাল বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের সুনাম ধরে রাখা, সরাসরি রপ্তানি বৃদ্ধি করা এবং বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ফ্যাশন ব্র্যান্ডগুলোর সাথে সংযোগ স্থাপন করে নতুন আন্তর্জাতিক ক্রেতা খুঁজে নেওয়াই এই মেলায় অংশগ্রহণের মূল লক্ষ্য। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো বা ইপিবি এক আনুষ্ঠানিক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিশ্ব বাণিজ্য মঞ্চে বাংলাদেশের এই গৌরবময় উপস্থিতির কথা আনুষ্ঠানিকভাবে গণমাধ্যমকে অবহিত করেছে।

স্পেনের অত্যন্ত আন্তর্জাতিক পরিচিতিসম্পন্ন ফিরা দে বার্সেলোনা মোন্টজুইক প্রদর্শনী কেন্দ্রে জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে এই আন্তর্জাতিক মেলার সূচনা হয়, যা আগামীকাল শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে সমাপ্ত হতে যাচ্ছে। তিন দিনব্যাপী এই বাণিজ্য প্রদর্শনীতে বাংলাদেশ ছাড়াও বিশ্বের প্রায় ১২টি ভিন্ন দেশের ৩০০টিরও বেশি শীর্ষস্থানীয় প্রস্তুতকারক ও বস্ত্র উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান তাদের সর্বশেষ তৈরি পণ্য ও উদ্ভাবন প্রদর্শন করছে। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার অংশ হিসেবে ইপিবির আর্থিক সহযোগিতা এবং স্পেনের মাদ্রিদে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের সার্বিক দিকনির্দেশনায় ১৪টি বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান সরাসরি ইপিবির অধীনে অংশগ্রহণ করেছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে নিজস্ব ব্র্যান্ডিং জোরদার করতে আরও চারটি প্রখ্যাত দেশীয় প্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণ নিজেদের উদ্যোগে মেলার প্রদর্শনীস্থলে উপস্থিত থেকে দেশের সুনাম বৃদ্ধি করছে।

গত বুধবার উৎসবমুখর পরিবেশে মেলার শুভ সূচনা লগ্নে আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী কেন্দ্রে বর্ণাঢ্য বাংলাদেশি প্যাভিলিয়নের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন স্পেনে নিযুক্ত বাংলাদেশের মান্যবর রাষ্ট্রদূত মাসুদুর রহমান। এই তাৎপর্যপূর্ণ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বৈশ্বিক বাণিজ্যের গতিপ্রকৃতি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিতদের মধ্যে ছিলেন ইপিবির সম্মানিত পরিচালক মোহাম্মদ ওয়ারেছ হোসেন, স্পেনে নিযুক্ত বাংলাদেশের কমার্শিয়াল কাউন্সেলর রুহুল কুদ্দুস, প্রথম সচিব (শ্রম) মাহিদ আল হাসান এবং বিকেএমইএর অন্যতম পরিচালক মো. আবদুল হান্নান। বাংলাদেশি প্যাভিলিয়নে তুলে ধরা দেশীয় বস্ত্রের আন্তর্জাতিক মান ও আধুনিক নকশা উপস্থিত বিভিন্ন দেশের আমদানিকারক ও নকশাবিদদের মধ্যে গভীর আগ্রহের জন্ম দিয়েছে।

প্যাভিলিয়ন উদ্বোধনকালে আয়োজিত সংক্ষিপ্ত সমাবেশে রাষ্ট্রদূত মাসুদুর রহমান বাংলাদেশের সামগ্রিক অর্থনীতি, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এবং বিপুল কর্মসংস্থান তৈরিতে তৈরি পোশাক ও তৈরি বস্ত্রখাতের অপরিসীম ও অতুলনীয় অবদানের কথা স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি তাঁর বক্তব্যে অত্যন্ত ইতিবাচক তথ্য তুলে ধরে বলেন যে, সাম্প্রতিক বাণিজ্য বিশ্লেষণে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অভ্যন্তরে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল পণ্যের সবচেয়ে বড় রপ্তানি গন্তব্য হিসেবে জার্মানিকে টপকে শীর্ষস্থান দখল করে নিয়েছে স্পেন। ইউরোপীয় বাজারের এই বৈপ্লবিক পরিবর্তন মূলত বাংলাদেশের টেক্সটাইল কারখানার উন্নত উৎপাদন সক্ষমতা, আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন পণ্যের গুণগত ধারাবাহিকতা এবং আন্তর্জাতিক বড় পোশাক ব্র্যান্ডগুলোর বাংলাদেশের প্রতি ক্রমবর্ধমান বিশ্বস্ততারই এক বাস্তব প্রমাণ হিসেবে কাজ করছে।

এবারের আন্তর্জাতিক টেক্সটাইল প্রদর্শনীতে বৈশ্বিক আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়া যুক্ত করতে এক বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। মেলার মূল প্রদর্শনীর পাশাপাশি বিশ্বখ্যাত ফ্যাশন পূর্বাভাস প্রদানকারী প্রখ্যাত সংস্থা পেক্লার্স প্যারিসের সরাসরি পরিচালনায় ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে ট্রেন্ড ইন্টেলিজেন্স’ শীর্ষক এক যুগান্তকারী ও কারিগরি সেমিনারের আয়োজন করা হয়েছে। এই আন্তর্জাতিক সেমিনারে কীভাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে আগামী দিনের ফ্যাশন ট্রেন্ড, ক্রেতাদের মানসিকতা এবং বাজারের পরিবর্তন পূর্বাভাস করা যায়, তা নিয়ে বৈশ্বিক বিশেষজ্ঞরা আলোচনা করেন, যা অংশগ্রহণকারী বাংলাদেশি উদ্যোক্তা ও ডিজাইন বিশেষজ্ঞদের জন্য এক অমূল্য অভিজ্ঞতা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

মেলার মূল প্যাভিলিয়নে বাংলাদেশের উৎপাদকরা তাদের চমৎকার সব তৈরি পোশাক ও বৈচিত্র্যময় বস্ত্র প্রদর্শন করছেন। মেলায় প্রদর্শিত পণ্যের তালিকায় স্থান পেয়েছে উচ্চমানের ওভেন ও নিট কাপড়, আধুনিক রেডিমেড গার্মেন্টস বা তৈরি পোশাক, নান্দনিক গৃহসজ্জার সুতি ও কৃত্রিম বস্ত্র, উন্নত সুতা এবং নিত্যনতুন ফ্যাশনসামগ্রী। আন্তর্জাতিক ক্রেতা, পাইকারি সরবরাহকারী, বৈশ্বিক ফ্যাশন নকশাবিদ এবং ব্র্যান্ড ম্যানেজারদের সাথে সরাসরি যোগাযোগের এক অভূতপূর্ব সুযোগ এনে দিয়েছে এই বাণিজ্যিক প্ল্যাটফর্ম। এর মাধ্যমে ইউরোপ মহাদেশের শীর্ষস্থানীয় ফ্যাশন ব্র্যান্ড ও বিশ্বস্ত খুচরা বিক্রেতা বা রিটেইলারদের সাথে দীর্ঘমেয়াদী ব্যবসায়িক সম্পর্ক গড়ে ওঠার পাশাপাশি বাংলাদেশ বড় অঙ্কের নতুন রপ্তানি কার্যাদেশ বা পারচেজ অর্ডার পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

স্পেনের অত্যন্ত ঐতিহাসিক ও আন্তর্জাতিকভাবে সুপরিচিত ‘ফিরা দে বার্সেলোনা মোন্টজুইক’ প্রদর্শনী কেন্দ্রে মহা সমারোহে শুরু হওয়া এই তিন দিনব্যাপী বাণিজ্য মেলাটি আগামীকাল শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে তার পর্দা টানবে। বিশ্ব বাণিজ্যের এই সুবিশাল মেলায় বাংলাদেশ ছাড়াও বিশ্বের প্রায় ১২টি শীর্ষস্থানীয় দেশের ৩০০টিরও বেশি বৃহৎ বস্ত্র ও টেক্সটাইল উৎপাদক কারখানা ও শিল্পপ্রতিষ্ঠান তাদের নিজস্ব পণ্য ও উদ্ভাবনী প্রযুক্তি প্রদর্শন করছে। বাংলাদেশ সরকারের সুনির্দিষ্ট অর্থনৈতিক কূটনীতির অংশ হিসেবে ইপিবির অর্থায়ন ও সর্বাত্মক আর্থিক সহায়তা এবং স্পেনের মাদ্রিদস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের নিবিড় ব্যবস্থাপনা ও দিকনির্দেশনায় দেশীয় ১৪টি প্রতিষ্ঠান ইপিবির প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে অংশগ্রহণ করেছে। এর পাশাপাশি বিশ্ববাজারে নিজস্ব স্বকীয়তা ও স্বতন্ত্র ব্র্যান্ডিং ফুটিয়ে তোলার সাহসিকতায় অনুপ্রাণিত হয়ে আরও চারটি শীর্ষস্থানীয় দেশীয় পোশাক রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণ নিজেদের ব্যক্তিগত উদ্যোগে ও খরচে মেলার প্রধান প্যাভিলিয়নে নিজেদের উৎপাদিত পণ্য নিয়ে অবস্থান নিয়েছে।

গত বুধবার সকালে অত্যন্ত আনন্দঘন ও জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী কেন্দ্রের মূল প্রাঙ্গণে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় প্যাভিলিয়নের আনুষ্ঠনিক উদ্বোধন করেন স্পেনে নিযুক্ত বাংলাদেশের মান্যবর রাষ্ট্রদূত মাসুদুর রহমান। বৈশ্বিক পোশাক শিল্পের ভবিষ্যৎ ও গতিপথ নির্ধারণকারী এই ঐতিহাসিক উদ্বোধনী আয়োজনে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও কূটনৈতিক অঙ্গনের বহু গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে সশরীরে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন ইপিবির সম্মানিত পরিচালক মোহাম্মদ ওয়ারেছ হোসেন, স্পেনে নিযুক্ত বাংলাদেশ দূতাবাসের কমার্শিয়াল কাউন্সেলর রুহুল কুদ্দুস, দূতাবাসের প্রথম সচিব (শ্রম) মাহিদ আল হাসান এবং তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারকদের শীর্ষ সংগঠন বিকেএমইএর অন্যতম পরিচালক মো. আবদুল হান্নান। বাংলাদেশি প্রদর্শনী স্টলে স্থান পাওয়া উন্নত ও টেকসই বস্ত্র, নান্দনিক ডিজাইন এবং আধুনিক সেলাইয়ের মান দেখে মেলায় আগত ইউরোপীয় আমদানিকারক, ডিজাইনার ও পাইকারি বিক্রেতারা গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

প্যাভিলিয়ন উদ্বোধনের শুভলগ্নে আয়োজিত এক বিশেষ সংক্ষিপ্ত সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাষ্ট্রদূত মাসুদুর রহমান বাংলাদেশের সার্বিক অর্থনীতি, বৈদেশি মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালীকরণ, শিল্পায়ন এবং লাখো মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে তৈরি পোশাক ও সামগ্রিক টেক্সটাইল খাতের ঐতিহাসিক ও অপরিহার্য অবদানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। স্পেনের বাজারে বাংলাদেশের বিস্ময়কর সাফল্যের নতুন উপাত্ত তুলে ধরে রাষ্ট্রদূত বলেন যে, সাম্প্রতিক রপ্তানি পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, সমগ্র ইউরোপীয় ইউনিয়নের অভ্যন্তরে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল পণ্যের সবচেয়ে বড় রপ্তানি গন্তব্য হিসেবে দীর্ঘদিনের শীর্ষে থাকা জার্মানিকে টপকে এখন স্পেনের রাজকীয় বাজার প্রথম স্থান অধিকার করে নিয়েছে। এই পরিবর্তন কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়; বরং এটি বাংলাদেশের কারখানাসমূহের বিশ্বমানের উন্নত উৎপাদন সক্ষমতা, মাননিয়ন্ত্রণের ধারাবাহিকতা, বিশ্বস্ততা এবং পরিবেশবান্ধব পরিবেশবান্ধব গ্রিন ফ্যাক্টরি গড়ে তোলার প্রতি আন্তর্জাতিক ফ্যাশন জায়ান্টদের আস্থা ও গভীর বিশ্বাসের বাস্তব প্রতিফলন।

তিন দিনব্যাপী এই বৈশ্বিক বাণিজ্যিক মহাযজ্ঞে আধুনিক প্রযুক্তিভিত্তিক জ্ঞানের সমন্বয় ঘটাতে উদ্যোক্তাদের জন্য এক বিশেষ প্রযুক্তিগত আয়োজন রাখা হয়েছে। মেলায় সাধারণ প্রদর্শনী ছাড়াও বিশ্বের অন্যতম খ্যাতিমান ও স্বনামধন্য ফ্যাশন পূর্বাভাস প্রদানকারী ফরাসি প্রতিষ্ঠান ‘পেক্লার্স প্যারিস’-এর প্রত্যক্ষ পরিচালনায় ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে ট্রেন্ড ইন্টেলিজেন্স’ শীর্ষক একটি অত্যন্ত সময়োপযোগী ও কারিগরি সেমিনারের আয়োজন করা হয়। বিশ্বজুড়ে ফ্যাশন শিল্পের ওপর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই কীভাবে প্রভাব ফেলছে, ভোক্তাদের নতুন রুচি পূর্বাভাস দেওয়া এবং আগামী দিনের গ্লোবাল ট্রেন্ডস কীভাবে দ্রুত ধরা সম্ভব—তা নিয়ে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা বিষদ আলোচনা করেন। মেলায় অংশ নেওয়া বাংলাদেশি প্রগতিশীল উদ্যোক্তা ও ডিজাইন দলের জন্য এই কারিগরি সেমিনার এক অনন্য সাধারণ অভিজ্ঞতা ও জ্ঞান অর্জনের সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে।

বার্সেলোনার এই বিশ্ব বাণিজ্য মেলায় বাংলাদেশের প্রদর্শনী স্টলগুলোতে তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল খাতের বিস্ময়কর নানা বৈচিত্র্য প্রদর্শন করা হচ্ছে। মেলায় স্থান পাওয়া দেশীয় উচ্চমানের পণ্যের মধ্যে রয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিতে তৈরি ওভেন ও নিট ফ্যাব্রিক, বিশ্বমানের আন্তর্জাতিক রেডিমেড গার্মেন্টস বা তৈরি পোশাক, নান্দনিক গৃহসজ্জায় ব্যবহৃত হোম টেক্সটাইল, উন্নত প্রক্রিয়াজাত সুতা এবং নানাবিধ ফ্যাশনসামগ্রী ও ট্রিমস। বিশ্বখ্যাত আন্তর্জাতিক ক্রেতা, পাইকারি আমদানিকারক, বহুজাতিক ফ্যাশন ব্র্যান্ডের পারচেজ ম্যানেজার ও বিশ্বখ্যাত ডিজাইনারদের সাথে বাংলাদেশের প্রস্তুতকারকদের সরাসরি এক ছাতার নিচে যোগাযোগের এক অমূল্য সংযোগস্থল হিসেবে কাজ করছে এই মেলা। এর মাধ্যমে ইউরোপীয় ফ্যাশন ব্র্যান্ড ও বিশাল নেটওয়ার্কযুক্ত খুচরা বিক্রেতা বা রিটেইলারদের সাথে দেশীয় কারখানাগুলোর সরাসরি ও দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্ক গড়ে উঠবে এবং নিকট ভবিষ্যতে বাংলাদেশ রেকর্ড পরিমাণ নতুন রপ্তানি কার্যাদেশ বা পারচেজ অর্ডার বাগে আনতে সক্ষম হবে বলে বাণিজ্য বিশেষজ্ঞরা আশা প্রকাশ করছেন।

আন্তর্জাতিক এই মেলায় সরাসরি অংশ নেওয়া বাংলাদেশের উদীয়মান ও প্রতিষ্ঠিত ১৮টি তৈরি পোশাক প্রতিষ্ঠানের তালিকা অত্যন্ত সমৃদ্ধ। এই প্রতিনিধি দলে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে ডে ফ্যাশন, এ এম সি নিট কম্পোজিট, সারা ফ্যাশন, বেঙ্গল গ্লোরি, কনকর্ড গার্মেন্ট ওয়্যার, ইউনাইটেড ক্রিয়েশন, এ এম সি অ্যাপারেল, গ্লিমার ফ্যাশনস ডিজাইন অ্যাপারেল, জিন্স অ্যান্ড জ্যাকেট, আহাভা কম্পোজিট, এন ডব্লিউ আর এম টি, মানহা অ্যাটায়ার কম্পোজিট এবং গেট ওয়ার্ল্ড অ্যাটায়ার ট্রিমস। জাতীয় রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো বা ইপিবির সাম্প্রতিকতম বাণিজ্য নথি ও পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দা সত্ত্বেও চলতি ২০২৬-২৭ অর্থ বছরের প্রথম প্রান্তিকে অর্থাৎ জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর মাসের হিসাব অনুযায়ী বাংলাদেশ কেবল স্পেনের বাজারেই ১১৪ কোটি ৮৪ লাখ ৬০ হাজার মার্কিন ডলার সমমূল্যের পণ্য সফলভাবে রপ্তানি করেছে। যেখানে পূর্ববর্তী অর্থবছরের ঠিক একই সময়সীমায় দেশটিতে বাংলাদেশের সামগ্রিক রপ্তানির পরিমাণ ছিল ১০০ কোটি ৯৮ লাখ ৪৪ হাজার ডলার। পরিসংখ্যানের এই বিপুল অঙ্কের ধনাত্মক প্রবৃদ্ধি প্রমাণ করে যে আন্তর্জাতিক বৈরী পরিস্থিতির মধ্যেও স্পেনের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের চাহিদা দিন দিন আরও সুদৃঢ় ও সম্প্রসারিত হচ্ছে।

মেলায় সরাসরি অংশ নেওয়া ১৮টি বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি নাম হলো ডে ফ্যাশন, এ এম সি নিট কম্পোজিট, সারা ফ্যাশন, বেঙ্গল গ্লোরি, কনকর্ড গার্মেন্ট ওয়্যার, ইউনাইটেড ক্রিয়েশন, এ এম সি অ্যাপারেল, গ্লিমার ফ্যাশনস ডিজাইন অ্যাপারেল, জিন্স অ্যান্ড জ্যাকেট, আহাভা কম্পোজিট, এন ডব্লিউ আর এম টি, মানহা অ্যাটায়ার কম্পোজিট এবং গেট ওয়ার্ল্ড অ্যাটায়ার ট্রিমস। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর সাম্প্রতিক প্রকাশিত তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থ বছরের প্রথম প্রান্তিকে অর্থাৎ জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর সময়কালে বাংলাদেশ কেবল স্পেনের বাজারেই ১১৪ কোটি ৮৪ লাখ ৬০ হাজার মার্কিন ডলার সমমূল্যের পণ্য সফলভাবে রপ্তানি করেছে। বিগত অর্থ বছরের একই সময়ে স্পেনে রপ্তানির পরিমাণ ছিল ১০০ কোটি ৯৮ লাখ ৪৪ হাজার ডলার। পরিসংখ্যানগত এই বিপুল প্রবৃদ্ধি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সংকটের মধ্যেও স্পেনের বাজারে বাংলাদেশের মজবুত অবস্থান ও উজ্জ্বল ভবিষ্যতের বার্তাই বহন করছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত

Theme Dwonload From ThemesBazar.Com