সোলার এক্সপোর উদ্বোধনী আয়োজনে প্রধানমন্ত্রী

Reporter Name
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬
  • ৯ বার
সোলার এক্সপোর উদ্বোধনী আয়োজনে প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশ: ০৩ নভেম্বর ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দেশে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার ও উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে আয়োজিত প্রথম ‘বাংলাদেশ সোলার এক্সপো ২০২৬’-এ যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে দুই দিনব্যাপী এই প্রদর্শনীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি অংশ নেন। সৌরবিদ্যুতের সম্ভাবনা, আধুনিক প্রযুক্তি এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্প্রসারণ নিয়ে আয়োজিত এ প্রদর্শনীকে দেশের জ্বালানি খাতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি আয়োজন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

‘প্রতি ইঞ্চি ছাদ কাজে লাগাই, সৌরবিদ্যুতে আয় বাড়াই’ প্রতিপাদ্যে এবারের সোলার এক্সপো অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ৩ ও ৪ নভেম্বর দুই দিনব্যাপী এই আয়োজনের মাধ্যমে দেশের আবাসিক, বাণিজ্যিক ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের ছাদসহ বিভিন্ন অব্যবহৃত স্থানে সৌরপ্যানেল স্থাপনের সম্ভাবনা তুলে ধরার পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগের সুযোগ সম্পর্কে সংশ্লিষ্টদের ধারণা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, অর্থসচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মিরানা মাহরুখসহ সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা উপস্থিত রয়েছেন। এ ছাড়া মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সংসদ সদস্য, সচিব এবং সংশ্লিষ্ট খাতের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন।

বিদ্যুৎ বিভাগ, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় এবং ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেডের যৌথ উদ্যোগে প্রথমবারের মতো এই সোলার এক্সপোর আয়োজন করা হয়েছে। আয়োজকদের প্রত্যাশা, প্রদর্শনীটি সৌরবিদ্যুতের প্রযুক্তিগত অগ্রগতি সম্পর্কে সাধারণ মানুষ, উদ্যোক্তা, বিনিয়োগকারী ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে আরও বেশি ধারণা দেবে এবং দেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

বর্তমানে বিদ্যুৎ উৎপাদনে জ্বালানি সরবরাহ, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির মূল্য ওঠানামা এবং পরিবেশগত চ্যালেঞ্জের কারণে বিকল্প ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির গুরুত্ব ক্রমেই বাড়ছে। বাংলাদেশেও বিদ্যুতের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি ভবিষ্যতের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সৌরবিদ্যুৎকে আরও কার্যকরভাবে ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে দেশের বিপুলসংখ্যক ভবনের ছাদকে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের কাজে লাগানোর সুযোগকে গুরুত্বপূর্ণ সম্ভাবনা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ছাদে নিজস্ব বড় ধরনের মূলধন বিনিয়োগ ছাড়াই তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে সৌরপ্যানেল স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েও কাজ চলছে। এ ধরনের ব্যবস্থায় প্রতিষ্ঠানের ছাদ ব্যবহার করে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হবে এবং উৎপাদিত বিদ্যুতের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব বিদ্যুৎ ব্যয় কমানোর পাশাপাশি অতিরিক্ত বিদ্যুৎ গ্রিডে সরবরাহের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে নেট মিটারিং ব্যবস্থার আওতায় উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ বিক্রির সুযোগও সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে বাসাবাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও শিল্পকারখানার মালিকদের জন্য সৌরপ্যানেল স্থাপনের অর্থনৈতিক প্রণোদনা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। শুধু বিদ্যুৎ সাশ্রয় নয়, ভবিষ্যতে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনকে বাড়তি আয়ের একটি উৎস হিসেবেও গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে।

সোলার এক্সপোতে সৌরপ্যানেল, ইনভার্টার, স্মার্ট গ্রিড প্রযুক্তি এবং আধুনিক ব্যাটারি সংরক্ষণব্যবস্থাসহ বিভিন্ন প্রযুক্তি ও সরঞ্জাম প্রদর্শন করা হচ্ছে। ফলে সাধারণ দর্শনার্থী থেকে শুরু করে শিল্পোদ্যোক্তা ও সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীরা সৌরবিদ্যুতের সর্বশেষ প্রযুক্তি সম্পর্কে সরাসরি ধারণা পাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।

প্রদর্শনীকে কেন্দ্র করে সৌরবিদ্যুৎ খাতের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে চারটি বিশেষ সেমিনারের আয়োজন করা হয়েছে। এসব সেমিনারে দেশে সৌরবিদ্যুতের সম্প্রসারণ, জাতীয় জ্বালানি মিশ্রে সৌরবিদ্যুতের অংশ বাড়ানো, সরকারি ও বেসরকারি ভবনের ছাদে সৌরপ্যানেল স্থাপন এবং অব্যবহৃত জমি কাজে লাগানোর বিষয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। পাশাপাশি বিনিয়োগ, অর্থায়ন, কারিগরি দক্ষতা, কর্মসংস্থান, কার্বন ক্রেডিট এবং জলবায়ু অর্থায়নের মতো বিষয়ও আলোচনায় গুরুত্ব পাবে।

বিশেষজ্ঞদের অংশগ্রহণে এসব আলোচনা সৌরবিদ্যুৎ খাতের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নির্ধারণে সহায়ক হতে পারে। কারণ একটি কার্যকর নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে শুধু সৌরপ্যানেল স্থাপন করলেই হবে না; এর সঙ্গে প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ, দক্ষ জনবল, নির্ভরযোগ্য প্রযুক্তি, সহজ অর্থায়ন এবং বিদ্যুৎ সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থার সঙ্গে কার্যকর সমন্বয়।

সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সরবরাহ ও চাহিদার ব্যবধান কমানোর পাশাপাশি গ্রীষ্মকালে বিদ্যুতের চাপ ও জনদুর্ভোগ কমানোর লক্ষ্যেও বিভিন্ন পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। এ ক্ষেত্রে সৌরবিদ্যুতের উৎপাদন বাড়ানোকে একটি সম্ভাবনাময় পথ হিসেবে দেখা হচ্ছে। দিনের বেলায় যখন বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ে, তখন ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের মাধ্যমে প্রচলিত বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ওপর চাপ কিছুটা কমানো সম্ভব হতে পারে।

সৌরবিদ্যুতের সম্প্রসারণের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্ভাবনাও জড়িয়ে রয়েছে। দেশে সৌরপ্যানেল, ইনভার্টার, ব্যাটারি, ইনস্টলেশন ও রক্ষণাবেক্ষণসহ বিভিন্ন খাতে নতুন ব্যবসা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে প্রযুক্তি সরবরাহকারী, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও উদ্যোক্তাদের মধ্যে অংশীদারত্ব বাড়লে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বেসরকারি বিনিয়োগ আরও উৎসাহিত হতে পারে।

তবে সৌরবিদ্যুতের সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে নীতিগত ধারাবাহিকতা, সহজ বিনিয়োগ পরিবেশ এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতা নিশ্চিত করা জরুরি। সাধারণ মানুষের জন্য সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের প্রাথমিক ব্যয়, যন্ত্রপাতির মান, রক্ষণাবেক্ষণ এবং উৎপাদিত অতিরিক্ত বিদ্যুতের যথাযথ মূল্য পাওয়ার বিষয়গুলোও গুরুত্বপূর্ণ। এসব ক্ষেত্রে কার্যকর নীতি ও বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা গেলে সৌরবিদ্যুৎ দেশের বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় আরও বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

বাংলাদেশ সোলার এক্সপো ২০২৬ সেই সম্ভাবনাকে সামনে রেখে সরকারি নীতিনির্ধারক, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান, বিনিয়োগকারী, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, উদ্যোক্তা এবং সাধারণ ভোক্তাদের এক জায়গায় নিয়ে আসার একটি উদ্যোগ। বিশেষ করে দেশের শহরাঞ্চলে বিপুলসংখ্যক ভবনের ছাদ এখনও সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের কাজে পুরোপুরি ব্যবহার করা হয়নি। এসব জায়গাকে পরিকল্পিতভাবে কাজে লাগানো গেলে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি জ্বালানি আমদানির ওপর চাপ কমানো এবং পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ব্যবস্থায় অগ্রসর হওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

প্রধানমন্ত্রীর সোলার এক্সপোতে অংশগ্রহণ এবং প্রদর্শনীর বিভিন্ন প্রযুক্তি ও উদ্যোগ পরিদর্শন সৌরবিদ্যুতের প্রতি সরকারের গুরুত্বের বিষয়টিও তুলে ধরছে। দুই দিনের এ আয়োজন শেষ পর্যন্ত শুধু একটি প্রদর্শনীতে সীমাবদ্ধ না থেকে নীতিনির্ধারণ, বিনিয়োগ ও বাস্তব প্রকল্প বাস্তবায়নে নতুন গতি তৈরি করতে পারে—এমন প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।

বাংলাদেশের জ্বালানি ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ চাহিদা ক্রমেই বাড়ছে। সেই বাস্তবতায় প্রচলিত জ্বালানির পাশাপাশি নবায়নযোগ্য উৎসকে কার্যকরভাবে কাজে লাগানোর প্রয়োজনীয়তা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। দেশের মানুষের ঘর, প্রতিষ্ঠান ও শিল্পকারখানার ছাদ যদি বিদ্যুৎ উৎপাদনের নতুন ক্ষেত্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়, তাহলে তা একদিকে বিদ্যুতের চাহিদা মোকাবিলায় সহায়ক হতে পারে, অন্যদিকে তৈরি করতে পারে সাশ্রয় ও বাড়তি আয়ের সুযোগ। সেই সম্ভাবনাকেই সামনে রেখে বাংলাদেশ সোলার এক্সপো ২০২৬ দেশের সৌরবিদ্যুৎ খাতের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন আলোচনা ও উদ্যোগের পথ তৈরি করছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত

Theme Dwonload From ThemesBazar.Com