ষষ্ঠবার রাজশাহী জেলা জামায়াতের আমির আব্দুল খালেক

Reporter Name
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬
  • ২ বার
ষষ্ঠবার রাজশাহী জেলা জামায়াতের আমির আব্দুল খালেক
প্রকাশ: ০৫ নভেম্বর ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

রাজশাহী জেলা জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে আবারও অধ্যাপক আব্দুল খালেকের ওপর আস্থা রেখেছেন সংগঠনের সদস্যরা। ষষ্ঠবারের মতো তিনি দলটির রাজশাহী জেলা আমির নির্বাচিত হয়েছেন। ২০২৭-২০২৮ সাংগঠনিক সেশনের আগামী দুই বছরের জন্য তাঁকে এ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সংগঠনের রুকনদের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হওয়ার পর বুধবার রাতে কেন্দ্রীয়ভাবে তাঁর নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়। এর মধ্য দিয়ে রাজশাহী জেলা জামায়াতের নেতৃত্বে তাঁর দীর্ঘদিনের দায়িত্ব পালনের ধারাবাহিকতা বজায় থাকল।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, অধ্যাপক আব্দুল খালেক বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার সদস্য। তিনি ২০১৫ সাল থেকে রাজশাহী জেলা জামায়াতের আমির হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। নতুন মেয়াদে আবারও নির্বাচিত হওয়ায় সংগঠনটির জেলা পর্যায়ের নেতৃত্বে তাঁর অবস্থান আরও সুসংহত হলো। টানা দীর্ঘ সময় একই দায়িত্বে থাকার বিষয়টি স্থানীয় সাংগঠনিক কার্যক্রমে তাঁর অভিজ্ঞতা ও ভূমিকার ধারাবাহিকতার দিকটিও সামনে নিয়ে এসেছে।

গত বুধবার (৪ নভেম্বর) রাতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আনুষ্ঠানিক ফেসবুক পেজে ২০২৭-২০২৮ সাংগঠনিক সেশনের জন্য নির্বাচিত জেলা ও মহানগর আমিরদের নাম প্রকাশ করা হয়। প্রকাশিত তালিকায় দেশের ৭৭টি সাংগঠনিক জেলা ও মহানগর শাখার নির্বাচিত আমিরদের নাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সেখানে রাজশাহী জেলা শাখার আমির হিসেবে অধ্যাপক আব্দুল খালেকের নাম ঘোষণা করা হয়।

দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে নির্বাচিত জেলা ও মহানগর আমিরদের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান। সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, রুকনদের গোপন ব্যালটের মাধ্যমে নির্ধারিত সাংগঠনিক পদ্ধতি অনুসরণ করে এসব নেতা নির্বাচিত হয়েছেন। নির্বাচনের মাধ্যমে পাওয়া ফলাফল কেন্দ্রীয় পর্যায়ে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশের পর সংশ্লিষ্ট শাখাগুলোর নতুন নেতৃত্বের বিষয়টি নিশ্চিত হয়।

রাজশাহী জেলা জামায়াতের আমির নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছিল গত ২৪ অক্টোবর। এ উপলক্ষে রাজশাহী মহিলা কমপ্লেক্সে জেলা জামায়াতের রুকন সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সম্মেলনে জেলার পুরুষ ও নারী রুকনরা তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। দলীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, এ নির্বাচনে প্রায় ১ হাজার ৫৫০ জন রুকন ভোট দেন। গোপন ব্যালটে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হলেও সেদিন তাৎক্ষণিকভাবে ফলাফল ঘোষণা করা হয়নি। কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে পরবর্তী সময়ে নির্বাচিত আমিরের নাম জানানো হবে বলে সংশ্লিষ্টদের অবহিত করা হয়েছিল।

নির্বাচনের এই প্রক্রিয়ায় রাজশাহী জেলা জামায়াতের সাংগঠনিক সদস্যদের অংশগ্রহণ ছিল গুরুত্বপূর্ণ। সংগঠনের নিয়মিত সদস্য হিসেবে পরিচিত রুকনদের ভোটের মাধ্যমে জেলা নেতৃত্ব নির্ধারণ করা হয়। পুরুষ ও নারী সদস্যদের ভোটগ্রহণে অংশগ্রহণের বিষয়টি দলটির অভ্যন্তরীণ নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রক্রিয়ায় তাঁদের সম্পৃক্ততার দিকটি তুলে ধরে। ভোটগ্রহণের পর ফলাফল কেন্দ্রীয়ভাবে ঘোষণা করার মাধ্যমে নির্বাচনী কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয়।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাংগঠনিক কাঠামোয় জেলা ও মহানগর শাখাগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত ও কর্মসূচি তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়া, স্থানীয় সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা, সদস্যদের মধ্যে সমন্বয় তৈরি এবং বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে জেলা আমিরদের দায়িত্ব রয়েছে। একই সঙ্গে স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনা করাও তাঁদের দায়িত্বের অংশ। ফলে জেলা পর্যায়ে নেতৃত্ব নির্বাচন শুধু একটি পদে দায়িত্ব নির্ধারণের বিষয় নয়, বরং আগামী দুই বছরের সাংগঠনিক পরিকল্পনা ও কার্যক্রমের দিকনির্দেশনার সঙ্গেও সম্পর্কিত।

অধ্যাপক আব্দুল খালেকের ষষ্ঠবারের মতো নির্বাচিত হওয়ার মধ্য দিয়ে রাজশাহী জেলা জামায়াতের নেতৃত্বে অভিজ্ঞতার ধারাবাহিকতা বজায় থাকল। ২০১৫ সাল থেকে দায়িত্ব পালন করে আসায় জেলার সাংগঠনিক কাঠামো, স্থানীয় পর্যায়ের কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং সংগঠনের বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পর্কে তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে বলে দলীয় সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। নতুন মেয়াদে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে এই অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর সুযোগ থাকবে।

তবে দীর্ঘদিন একই নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা বজায় থাকার পাশাপাশি নতুন সাংগঠনিক মেয়াদে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জও সামনে থাকবে। স্থানীয় পর্যায়ে সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনা, সদস্যদের সক্রিয় রাখা, নতুন নেতৃত্ব তৈরির সুযোগ সৃষ্টি এবং সাংগঠনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা যেকোনো রাজনৈতিক সংগঠনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। রাজশাহী জেলা জামায়াতের নতুন মেয়াদেও এসব বিষয় কতটা গুরুত্ব পায়, তা আগামী দিনের কার্যক্রমে স্পষ্ট হবে।

অন্যদিকে, একই সময়ে দেশের বিভিন্ন জেলা ও মহানগর শাখার জন্য নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন করেছে জামায়াতে ইসলামী। ২০২৭-২০২৮ সাংগঠনিক সেশনের জন্য প্রকাশিত তালিকায় ৭৭টি সাংগঠনিক ইউনিটের আমিরদের নাম রয়েছে। এর মাধ্যমে দলটি আগামী দুই বছরের জন্য দেশব্যাপী সাংগঠনিক নেতৃত্বের কাঠামো নির্ধারণ করেছে। বিভিন্ন জেলা ও মহানগরে অভিজ্ঞ এবং নতুন নেতৃত্বের সমন্বয়ে সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

রাজশাহী বিভাগের অন্যান্য জেলাতেও নতুন মেয়াদের জন্য আমিরদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। ঘোষিত তালিকা অনুযায়ী, জয়পুরহাটে মাওলানা গোলাম কিবরিয়া, বগুড়ায় মাওলানা আবদুল হক সরকার, সিরাজগঞ্জে মাওলানা মো. শাহিনুর আলম, পাবনায় অধ্যাপক নজরুল ইসলাম, চাঁপাইনবাবগঞ্জে মাওলানা মো. আবুজর গিফারী, নওগাঁয় মাওলানা মাহফুজুর রহমান এবং নাটোরে ড. মীর নুরুল ইসলাম দায়িত্ব পেয়েছেন। ফলে রাজশাহী বিভাগের আটটি সাংগঠনিক জেলাতেই আগামী দুই বছরের নেতৃত্বের কাঠামো নির্ধারিত হয়েছে।

রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর অভ্যন্তরীণ নেতৃত্ব নির্বাচন গণতান্ত্রিক চর্চা, সাংগঠনিক জবাবদিহি এবং সদস্যদের অংশগ্রহণের সঙ্গে সম্পর্কিত। গোপন ব্যালটে ভোটগ্রহণের মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্ধারণের বিষয়টি দলটির নিজস্ব সাংগঠনিক পদ্ধতির অংশ। এ ধরনের নির্বাচনে সদস্যদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হলে নেতৃত্বের প্রতি সাংগঠনিক গ্রহণযোগ্যতা ও দায়িত্ববোধ তৈরির সুযোগ থাকে। একই সঙ্গে নির্বাচিত নেতৃত্বের ওপর সংগঠনের প্রত্যাশা ও দায়িত্বও বৃদ্ধি পায়।

রাজশাহী জেলা জামায়াতের নতুন মেয়াদে অধ্যাপক আব্দুল খালেকের সামনে তাই একাধিক সাংগঠনিক দায়িত্ব থাকবে। দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে জেলা পর্যায়ের কার্যক্রম আরও গতিশীল করা, কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখা এবং সংগঠনের বিভিন্ন স্তরের মধ্যে সমন্বয় তৈরি করা হবে তাঁর দায়িত্বের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের সঙ্গে সংগঠনের যোগাযোগ ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রেও নতুন নেতৃত্বের ভূমিকা পর্যবেক্ষণে থাকবে।

সব মিলিয়ে, ষষ্ঠবারের মতো রাজশাহী জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির নির্বাচিত হওয়া অধ্যাপক আব্দুল খালেকের দীর্ঘ সাংগঠনিক দায়িত্ব পালনের ধারাবাহিকতায় নতুন অধ্যায় যুক্ত করল। ২০২৭-২০২৮ সেশনে আগামী দুই বছর তাঁর নেতৃত্বে জেলা জামায়াতের কার্যক্রম পরিচালিত হবে। সংগঠনের সদস্যদের ভোটে পুনর্নির্বাচিত হওয়ার পর এখন নতুন মেয়াদে তাঁর সাংগঠনিক পরিকল্পনা, নেতৃত্বের কার্যকারিতা এবং জেলা পর্যায়ে কর্মসূচি বাস্তবায়নের দিকে নজর থাকবে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলের।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত

Theme Dwonload From ThemesBazar.Com