সর্বশেষ :
সংসদে ৯.৩৮ লাখ কোটি টাকার বাজেট পাস: নতুন যুগে বাংলাদেশ ডেটা সেন্টারে ডিজিটাল রিয়েলটির ৩.৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থানে বাংলাদেশ ব্যাংক হলদিয়ায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড: পেট্রোকেমিক্যাল কারখানায় দগ্ধ ৩০ স্ত্রী হত্যায় প্ররোচনা: কারাগারে অভিনেতা জাহের আলভী সুপ্রিম কোর্টে ট্রাম্পের মিশ্র অভিজ্ঞতা: জয় ও তিন ধাক্কা পোশাক ও ছাঁটাই প্রস্তাব নিয়ে সংসদে রুমিন ফারহানার সরব উপস্থিতি এআই চিপে দক্ষিণ কোরিয়ার বড় বিনিয়োগ: সম্ভাবনা ও ঝুঁকি হরমুজ প্রণালীতে মাইন অপসারণে ফ্রান্সের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান ইরানের বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন ডেপুটি গভর্নর সরোয়ার হোসেন

মুন্সীগঞ্জে হত্যা মামলার আসামিদের বাড়িতে আগুন, এলাকায় উত্তেজনা বৃদ্ধি

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৫
  • ৫২ বার

প্রকাশ: ১৮ আগস্ট ২০২৫ | নিজস্ব প্রতিবেদক | একটি বাংলাদেশ অনলাইন

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় শুটার মান্নান ও হৃদয় বাঘ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে হত্যা মামলার অন্যতম আসামি লালু, সৈকতসহ তাদের আত্মীয়-স্বজনদের আটটি বসতঘরে অগ্নিসংযোগ ঘটিয়েছে প্রতিপক্ষের লোকজন। ঘটনাটি ঘটে ১৭ আগস্ট সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে ইমামপুর ইউনিয়নের হোগলাকান্দি গ্রামে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, গত ২৮ জুলাই সকাল দশটার দিকে মেঘনা নদীর বড় কালীপুরা এলাকায় প্রতিপক্ষ লালু-পিয়াস গ্রুপের গুলিতে নিহত হন গজারিয়ার শীর্ষ সন্ত্রাসী শুটার মান্নান। একই ঘটনায় হৃদয় বাঘসহ আরও ছয়জন আহত হন। গুরুতর অবস্থায় হৃদয় বাঘকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইতে ভর্তি করা হয়, সেখানে শনিবার বিকাল সাড়ে চারটার দিকে তার মৃত্যু হয়। রোববার বিকালে স্থানীয় কবরস্থানে জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়।

দাফনের কিছুক্ষণ পর নিহত হৃদয় বাঘের সমর্থকরা প্রতিশোধ হিসেবে হত্যা মামলার অন্যতম আসামি লালু, সৈকত ও তাদের আত্মীয়-স্বজনদের আটটি বসতঘরে আগুন দেন। পরে খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ফায়ার সার্ভিস।

গজারিয়া ফায়ার সার্ভিসের ইনচার্জ মোহাম্মদ আলী রাত সাড়ে নয়টায় জানান, ‘অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে এমন আটটি বাড়ি পেয়েছি, এর মধ্যে পাঁচটি সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে এবং বাকি তিনটি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চারটি ইউনিট অগ্নিনির্বাপণে কাজ করেছে। আগুন আমাদের নিয়ন্ত্রণে এসেছে, তবে সম্পূর্ণ নির্বাপন করতে কিছুক্ষণ সময় লাগবে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনও নির্ধারণ করা যায়নি, তবে দেখা গেছে ঘর থেকে কিছুই উদ্ধার করা যায়নি।’

স্থানীয় ইউপি সদস্য ও নিহত হৃদয় বাঘের আত্মীয় আমিরুল ইসলাম মেম্বার বলেন, ‘লালু একজন চিহ্নিত সন্ত্রাসী। তার অত্যাচারে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ। মান্নান ও হৃদয় বাঘ হত্যাকাণ্ডের মাস্টারমাইন্ড হিসেবে তার বিরুদ্ধে ক্ষোভ ছিল। এলাকাবাসী হয়তো একজোট হয়ে প্রতিশোধ নিয়েছে, তবে পুরো ঘটনা আমি নিশ্চিতভাবে জানি না।’

অন্যদিকে লালুর মা সানোয়ারা বেগম অভিযোগ করেন, ‘হামলাকারীরা লালু, তার বড় ভাই সানাউল্লাহ, সাইফুল্লাহ, ছোট ভাই হেদায়েতুল্লাহ এবং শ্বশুর জহিরুল ইসলামের ঘরসহ মোট আটটি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করেছে। তারা পেট্রোল ছিটিয়ে বাড়িঘরে আগুন লাগিয়ে দিয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের আগমনের আগে সব বাড়ি পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। তারা আমাদের লোকজনকে আগুনে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা করেছিল।’

গজারিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আনোয়ার আলম আজাদ জানান, ‘আমিও এ খবর পেয়েছি। আমি ঘটনাস্থলে যাচ্ছি এবং বিষয়টি সেনাবাহিনীকে জানানো হয়েছে। বিস্তারিত পরে জানানো হবে।’

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, হত্যাকাণ্ড ও তার পরের অগ্নিসংযোগের ঘটনায় পুরো এলাকা উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনী ঘটনাস্থলে অবস্থান বাড়িয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত