প্রকাশ: ২২ সেপ্টেম্বর’ ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা, একটি বাংলাদেশ অনলাইন
চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার রুটে বাস চলাচল অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বাস চালক, সহকারী ও শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধির দাবিতে সোমবার ভোর থেকে ধর্মঘট পালন করছেন তারা। ধর্মঘটের কারণে যাত্রীদের ভোগান্তি শুরু হয়েছে, অনেকেই ঢাকা, চট্টগ্রাম এবং কক্সবাজার যাওয়ার জন্য বিকল্প ব্যবস্থা খুঁজতে বাধ্য হয়েছেন। চাঁপাইনবাবগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে বাসস্ট্যান্ডে যাত্রীরা দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি সমস্যার মূল কারণ হচ্ছে দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে বাস স্টাফদের বেতন বৃদ্ধি না হওয়া। বাস চালক ও শ্রমিকরা জানান, ১৫ বছর আগে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে ঢাকা রুটে একজন চালককে ১৩৫০ টাকা, সুপারভাইজারকে ৫৭০ টাকা এবং হেলপারকে ৫৩০ টাকা দৈনিক মজুরি দেওয়া হতো। তৎকালীন সময়ের নির্ধারিত এই বেতন আজকের দামের সঙ্গে তুলনা করলে সামান্যতমও বৃদ্ধি করা হয়নি। বাস চালক ও স্টাফরা বারবার মালিকপক্ষের সঙ্গে বসেও সমস্যা সমাধান করতে ব্যর্থ হয়েছেন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা ট্রাক, ট্যাংক লরি ও কাভার্ডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি সাইদুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, “২১ সেপ্টেম্বর মালিকপক্ষের সঙ্গে আমাদের বসার কথা ছিল। কিন্তু হঠাৎ করে বসার তারিখ পরিবর্তন করা হয়। এতে আমরা হতাশ হয়ে পড়ি। সমস্যার সমাধান না হলে আমরা বাধ্য হয়েই ধর্মঘটের পথে যাব। আজ থেকে সেই কর্মসূচি বাস্তবায়িত হচ্ছে। আমরা চাই ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করা হোক।”
ধর্মঘটের ফলে চাঁপাইনবাবগঞ্জের যাত্রীদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গেছে। দীর্ঘ সময় ধরে বাসের অপেক্ষায় থাকা যাত্রীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। কেউ কেউ বলছেন, এমন পরিস্থিতি ভ্রমণ পরিকল্পনা পুরোপুরি বিঘ্নিত করেছে। শিক্ষার্থী, সরকারি ও বেসরকারি কর্মচারী, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণির মানুষদের ভোগান্তি আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। স্থানীয় বাস স্ট্যান্ড ও রুটগুলোতে জরুরি ভিত্তিতে সিংহভাগ বাস বন্ধ থাকায় বিকল্প যানবাহনের জন্যও চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে।
ধর্মঘটকে কেন্দ্র করে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার রুটের অন্যান্য যানবাহন পরিষেবাও প্রভাবিত হয়েছে। একতা পরিবহনের কিছু গাড়ি চলাচল করলেও অন্যান্য পরিবহন সংস্থার বাসগুলো বন্ধ থাকায় যাত্রীরা আতঙ্কিত। পরিবহন অফিস সূত্রে জানা গেছে, ধর্মঘটের কারণে সকাল থেকেই যাত্রীরা বিভ্রান্তিতে রয়েছেন। বাস স্ট্যান্ডগুলোতে দীর্ঘ লাইনের দেখা মিলছে।
বাস চালকরা জানান, ১৫ বছর ধরে তাদের জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি সত্ত্বেও বেতন স্থিতিশীল রাখা হয়েছে। দীর্ঘদিনের এই অনীহা, অবমূল্যায়ন এবং শ্রমিকদের সঙ্গে সমঝোতার অভাব তাদেরকে বাধ্য করেছে ধর্মঘটের পথে। তারা আরও জানান, বাস মালিকরা শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি মানতে রাজি নয়। ফলে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের মাধ্যমে চাপ তৈরি করতে বাধ্য হয়েছেন।
স্থানীয় প্রশাসন বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছে। জেলা পুলিশ বাস স্ট্যান্ডে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে এবং যাত্রীদের নিরাপদে অন্য রুটে যাতায়াতের জন্য চেষ্টা চালাচ্ছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জের জেলা প্রশাসক বলেন, “আমরা ধর্মঘটের বিষয়টি নজরদারি করছি। শ্রমিক ও মালিকপক্ষের মধ্যে মধ্যস্থতা করে দ্রুত সমস্যার সমাধান করার চেষ্টা করা হবে। যাত্রীদের ভোগান্তি কমানোর জন্য বিকল্প ব্যবস্থা খুঁজে বের করা হচ্ছে।”
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দীর্ঘদিন ধরে শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধি না করা এবং তাঁদের ন্যায্য দাবি উপেক্ষা করা একই সঙ্গে সামাজিক ও অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করেছে। এমন পরিস্থিতি শ্রমিক এবং মালিকপক্ষের মধ্যে দ্বন্দ্ব বৃদ্ধি করে এবং পরিবহন ব্যবস্থায় দীর্ঘমেয়াদী ব্যাঘাত সৃষ্টি করে। বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি মেনে নিয়ে একটি স্থায়ী সমাধান দ্রুত করা না গেলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার রুটের বাসগুলো দেশের গুরুত্বপূর্ণ রুট হিসেবে বিবেচিত। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ এই রুট ব্যবহার করে। শিক্ষা, বাণিজ্য, চিকিৎসা ও অন্যান্য প্রয়োজনের জন্য যাত্রীরা এই বাসগুলোকে নির্ভরযোগ্যভাবে ব্যবহার করে থাকেন। অনির্দিষ্টকালীন ধর্মঘট এই রুটের যাত্রীদের দৈনন্দিন জীবন ও ব্যবসায়িক কার্যক্রমেও বিরূপ প্রভাব ফেলছে।
বাস মালিকদের পক্ষ থেকে জানা গেছে, ধর্মঘটের কারণে কোম্পানির রাজস্ব ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তবে মালিকপক্ষ বলেছে, তারা শ্রমিকদের সঙ্গে বৈঠক করতে প্রস্তুত, তবে বৈঠকের তারিখ ও সময় নির্ধারণ মালিকপক্ষের কাছে। শ্রমিকরা দাবি করেছেন, বৈঠক অবিলম্বে অনুষ্ঠিত হতে হবে এবং তাদের বেতন বৃদ্ধি করা হবে।
স্থানীয় বাসস্ট্যান্ডে যাত্রীরা জানিয়েছেন, তারা বিভিন্ন সময়ের ভাড়া ও বিভিন্ন পরিবহন ব্যবস্থার সঙ্গে তুলনা করে এই বাসগুলো ব্যবহার করে থাকেন। তারা বলছেন, অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট তাদের দৈনন্দিন পরিকল্পনায় বড় ধরনের ব্যাঘাত সৃষ্টি করেছে। কেউ কেউ taxis ও ভাড়া গাড়ি ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছেন। তবে দীর্ঘ দূরত্বের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা সীমিত, ফলে যাত্রীরা দুর্ভোগে পড়ছেন।
পরিস্থিতি স্থিতিশীল করার জন্য স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ একযোগে চেষ্টা চালাচ্ছে। জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, ধর্মঘটের কারণে যাত্রীরা যাতে বিপদে না পড়ে, সেজন্য জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তবে সমস্যা সমাধানে মালিকপক্ষ ও শ্রমিকদের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা ছাড়া দীর্ঘমেয়াদী সমাধান সম্ভব নয়।
এ প্রসঙ্গে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা ট্রাক, ট্যাংক লরি ও কাভার্ডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের নেতা সাইদুর রহমান পুনরায় বললেন, “আমরা একাধিকবার মালিকপক্ষের সঙ্গে বসেছি। দীর্ঘ