মানিকগঞ্জে মা ও দুই সন্তানের মৃত্যু

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ৩৫ বার
মানিকগঞ্জে মা ও দুই সন্তানের রহস্যমৃত্যু

প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর’ ২০২৫। নিজস্ব সংবাদদাতা, একটি বাংলাদেশ অনলাইন

মানিকগঞ্জে একটি ভাড়া বাসা থেকে মা এবং তার দুই সন্তানসহ লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার দুপুর দুইটার দিকে পৌরসভার পশ্চিম বান্দুটিয়া এলাকায় এই দুঃখজনক ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন শিখা আক্তার (৩৫), তার ছেলে আরাফাত ইসলাম আলভি (৯) এবং দুই বছর বয়সী মেয়ে সাইফা আক্তার। শিখা আক্তার হরিরামপুর উপজেলার আন্দারমানিক এলাকার আব্দুর রহমান দেওয়ানের ছেলে ও মালয়েশিয়া প্রবাসী দেওয়ান শাহীন আহমেদের দ্বিতীয় স্ত্রী। আরাফাত ইসলাম আলভি শিখার প্রথম স্বামীর সন্তান এবং সাইফা আক্তার শাহীন আহমেদের সন্তান।

স্থানীয় ভাড়াটিয়া আলমগীর জানান, সোমবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে বিদ্যুৎ বিলের কাগজ দেওয়ার জন্য শিখার বাসার দরজায় নক করেছিলেন, কিন্তু কোনো সাড়া পাননি। তিনি প্রথমে ভেবেছিলেন পরিবার ঘুমিয়ে পড়েছে। মঙ্গলবার সকালে আবারও দরজায় নক করলে সাড়া না পাওয়ায় তিনি বাড়ির মালিককে বিষয়টি জানান।

বাড়ির মালিক মুক্তাদির জানান, খবর পেয়ে তিনি দ্রুত বাসায় পৌঁছে ৯৯৯ এ ফোন করেন। পরে পুলিশ পাশের বিল্ডিং থেকে জানালা দিয়ে ভেতরের পরিস্থিতি দেখে অবাক হন। দরজা ভেঙে পুলিশ ভেতরে প্রবেশ করে খাটে শিখা আক্তারের লাশ এবং ফ্লোরে ছেলে ও মেয়ের লাশ উদ্ধার করেন।

মুক্তাদির আরও বলেন, গত মাসের ১৫-১৬ তারিখে শিখা আক্তার তার স্বামী শাহীন আহমেদকে নিয়ে ওই বাসায় ওঠেন। পরদিন শাহীন মালয়েশিয়ায় ফিরে যান। এরপর শিখা আক্তার বাসা ছেড়ে চলে যান। চলতি মাসের ৭-৮ তারিখে তিনি সন্তানদের নিয়ে পুনরায় ওই বাসায় ওঠেন।

মানিকগঞ্জের পুলিশ সুপার ইয়াসমিন খাতুন বলেন, শিখা আক্তার শাহীন আহমেদের দ্বিতীয় স্ত্রী এবং শাহীনও তার দ্বিতীয় স্বামী। পারিবারিক জটিলতার কারণে এই দুঃখজনক ঘটনা ঘটতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। প্রাথমিক তদন্তে মনে হচ্ছে, শিখা আক্তার দুই সন্তানকে বিষপান করিয়ে নিজেও আত্মহত্যা করেছেন।

পুলিশ জানিয়েছে, লাশ উদ্ধার ও প্রাথমিক তদন্তের পর বিষয়টি গোপন রেখে পরবর্তী আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে। পারিবারিক কলহ এবং অর্থনৈতিক ও সামাজিক চাপ এ ধরনের ঘটনায় প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

স্থানীয় সমাজবিজ্ঞানীরা বলছেন, বর্তমানে পারিবারিক সংঘাত ও মানসিক চাপ অনেক সময় অনিবার্যভাবে গুরুতর পরিস্থিতিতে পৌঁছায়। বিশেষ করে পরিবারে স্বামীর অনুপস্থিতি, আর্থিক চাপ এবং সামাজিক বিচ্ছিন্নতা এই ধরনের মানসিক চাপকে বাড়িয়ে দেয়। এই দুঃখজনক ঘটনায় সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ উদ্বিগ্ন এবং পরিবারের নিরাপত্তা ও সামাজিক সহায়তা ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন।

মানিকগঞ্জের স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মৃতদেহগুলো ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হবে এবং বিষাক্ত পদার্থ শনাক্ত করার পরেই চূড়ান্ত প্রতিবেদনের মাধ্যমে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। তারা আরও বলেন, স্থানীয় পরিবার ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে কথা বলে পারিবারিক পটভূমি ও ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত অন্যান্য তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, শিখা আক্তার ও তার সন্তানরা আগেই শান্ত ও সাধারণ জীবন যাপন করতেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে পারিবারিক কলহ ও আর্থিক সমস্যার কারণে তিনি মানসিকভাবে চাপে ছিলেন। এটি একটি মানবিক দিক থেকে দুঃখজনক ঘটনা এবং এই ধরনের ঘটনায় সামাজিক সহায়তা ও মানসিক স্বাস্থ্য সেবার গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করে।

মানিকগঞ্জের পুলিশ সুপার ইয়াসমিন খাতুন বলেন, “আমরা পরিবার ও স্থানীয় জনগণকে বিষয়টি বুঝিয়ে সহযোগিতা চাইছি। এই ধরনের ঘটনা যাতে আর না ঘটে, তা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

স্থানীয় প্রশাসন ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় জরুরি হেল্পলাইন ও সামাজিক কর্মী নিয়োগের মাধ্যমে স্থানীয়দের সমর্থন দিচ্ছে। পাশাপাশি সমাজসেবা অধিদপ্তরও মানসিক চাপ ও পারিবারিক কলহ মোকাবিলায় পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ পেয়েছে।

এই দুঃখজনক ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে শোক ও উদ্বেগের ছায়া নেমে এসেছে। তারা আশা করছেন, ভবিষ্যতে এমন ঘটনা প্রতিরোধে স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ এবং সমাজসেবার সংস্থাগুলো আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে।

মৃতদেহ উদ্ধারের পর পুলিশ নিশ্চিত করেছে যে, প্রাথমিকভাবে এটি পারিবারিক কলহ ও মানসিক চাপজনিত ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত করা হলেও চূড়ান্ত তদন্ত রিপোর্টের পরেই হত্যার ধরন বা আত্মহত্যার বিষয়টি সুনিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত