প্রকাশ: ১৩ অক্টোবর ২০২৫। নিজস্ব সংবাদদাতা। একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের হবিগঞ্জ অংশে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত ৩০ জন যাত্রী আহত হয়েছেন। সোমবার (১৩ অক্টোবর) দুপুর ১টার দিকে মাধবপুর উপজেলার শাহপুর হরিতলা এলাকায় ইউনিক পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে উল্টে গেলে এ দুর্ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে ১৫ জনকে গুরুতর অবস্থায় হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, বাকিদের মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও স্থানীয় ক্লিনিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
শায়েস্তাগঞ্জ হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শুভ রঞ্জন চক্রবর্তী জানান, সিলেট থেকে ঢাকাগামী বাসটি শাহপুর হরিতলা এলাকায় পৌঁছালে সামনের একটি গাড়িকে ওভারটেক করতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারায়। মুহূর্তের মধ্যেই বাসটি রাস্তার পাশে উল্টে পড়ে যায় এবং যাত্রীরা আতঙ্কে চিৎকার শুরু করেন। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধারকাজে অংশ নেন এবং আহতদের হাসপাতালে পাঠানো হয়।
ওসি শুভ রঞ্জন চক্রবর্তী আরও বলেন, দুর্ঘটনার পর মহাসড়কে কিছু সময়ের জন্য যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অতিরিক্ত গতি এবং অসতর্ক ওভারটেকের কারণেই এ দুর্ঘটনা ঘটেছে।
দুর্ঘটনার পর এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। স্থানীয়রা জানান, বাসটি উল্টে যাওয়ার পর ভেতরে আটকা পড়ে থাকা যাত্রীদের কান্নার শব্দে চারদিক ভারী হয়ে ওঠে। কয়েকজন পথচারী ও দোকানদার জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আহতদের উদ্ধার করতে এগিয়ে আসেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাদের মধ্যে দুজনের মাথায় গুরুতর আঘাত লেগেছে এবং কয়েকজনের হাড় ভেঙে গেছে। হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসক ও নার্সদের অতিরিক্ত দল কাজ করছেন আহতদের সেবা দিতে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মহাসড়কে ওভারটেকের প্রবণতা ও অতিরিক্ত গতির কারণে দুর্ঘটনা বাড়ছে। এলাকাবাসী দ্রুত এই রুটে ট্রাফিক মনিটরিং জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার পর ইউনিক পরিবহনের চালক ও সহকারী পালিয়ে গেছেন। তাদের শনাক্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। এ ঘটনায় একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতিও চলছে।
দুর্ঘটনাস্থলে ভাঙা কাঁচ ও বাসের মোচড়ানো লোহার কাঠামো এখনো পড়ে আছে—যা মনে করিয়ে দিচ্ছে একটি অসাবধান মুহূর্তে কত জীবনের স্বপ্ন থেমে যেতে পারত। তবে স্থানীয়দের দ্রুত পদক্ষেপ এবং পুলিশ ও চিকিৎসকদের তৎপরতায় বহু প্রাণ রক্ষা পেয়েছে।