প্রকাশ: ১৫ অক্টোবর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন
সিলেটের জকিগঞ্জে আলোচিত ব্যবসায়ী নোমান উদ্দিন হত্যা মামলায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি ঘটেছে। হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদঘাটনের জন্য নিহতের শ্যালক হানিফ আহমদ সুমন (৩৮)-কে চার দিনের রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দিয়েছে আদালত। বুধবার দুপুরে জকিগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ইবরাহিম সরকারের আদালতে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন শুনানি শেষে চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। শুনানির সময় আসামি সুমন আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
মামলার তথ্য অনুযায়ী, গত ২৯ সেপ্টেম্বর সকালে কালিগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ী নোমান উদ্দিন বাড়ি থেকে দোকানে আসার পর নিখোঁজ হন। কয়েক ঘণ্টা পরে তাকে আর দেখা যায়নি। অবশেষে ২ অক্টোবর, শায়লা স্মৃতি হাসপাতালের পেছনের ধানক্ষেতে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। হত্যাকাণ্ডের ঘটনার পর এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয়দের অভিযোগে বলা হয়, হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকতে পারে নোমানের শ্যালক সুমন, আরেক শ্যালক মাজেদ (২৬), সহকর্মী তাছকিন আহমদ তাজুল (২৫) এবং নিহতের স্ত্রী মনোয়ারা বেগম ও মেয়ে জান্নাতুল ফেরদৌস মুন্নি। এদের মধ্যে শুধুমাত্র সুমনকে আটক করা হয়েছে, বাকিরা এখনও পলাতক।
নিহতের ভাই রিয়াজ উদ্দিন দাবি করেছেন, নোমানের স্ত্রী ও মেয়ে হত্যার মামলাকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছেন। তিনি বলেন, “ঘনিষ্ঠ আত্মীয়দের কারণে তারা মামলাকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে এবং সরাসরি জড়িত মাজেদ ও তাজুল এখনও গ্রেফতার না হওয়ায় প্রমাণ নষ্টের সুযোগ পাচ্ছে।”
এদিকে, ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া এক স্ক্রিনশট অনুযায়ী, প্রধান সন্দেহভাজন মাজেদ আহমদ বিদেশে পালানোর চেষ্টা করছেন। পুলিশ অভিযানে গেলে তার বাড়ি তালাবদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায় এবং পরিবারের কেউ উপস্থিত ছিলেন না।
জকিগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক এবং মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মোমেন জানিয়েছেন, আসামি সুমনের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হয়েছে। রিমান্ডে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে হত্যাকাণ্ডের পেছনের কারণ এবং অন্যদের সম্পৃক্ততার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে।
স্থানীয়রা বলছেন, নোমান উদ্দিন হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে। তারা মনে করছেন, এই হত্যা মামলার সঠিক তদন্ত না হলে সমাজে অন্যায়ের সাহস বৃদ্ধি পাবে। পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছেন, মামলার তদন্ত অগ্রাধিকার ভিত্তিতে চলছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।