যুবদল নেতার তাণ্ডবে চরম দুর্ভোগে সাধারণ মানুষ

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৫
  • ৬৯ বার
যুবদল নেতার তাণ্ডবে চরম দুর্ভোগে সাধারণ মানুষ
সংগৃহিত

প্রকাশ: ২৪ অক্টোবর ২০২৫ | একটি বাংলাদেশ ডেস্ক | একটি বাংলাদেশ অনলাইন

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডে যুবদলের সভাপতি মো. রুমানের বিরুদ্ধে জমি দখল, নারী কেলেঙ্কারি, চাঁদাবাজি ও নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। গত বছরের ৫ আগস্টের পর থেকে রুমান এলাকাবাসীর কাছে ত্রাসের প্রতীক হিসেবে পরিচিত। রুমানের বাড়ি গুঙ্গিপাড়া গ্রামে হলেও তার কার্যক্রম পুরো এলাকায় সাধারণ মানুষের জীবনে ভয় ও উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেছেন, তারা কখনো কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত নন, তবুও রুমান দাবি করেছেন, তারা আওয়ামী লীগের সদস্য। তাদের নামে অসত্য মামলা করা হয় এবং ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করা হয়েছে। এলাকার একজন স্থানীয় নারী জানান, “আমার স্বামী নেই, দুই সন্তান নিয়ে থাকি। গত বছরের ৫ আগস্ট থেকে রুমান অন্যায়ভাবে আমার জমি দখল করেছেন। প্রতিবাদ করলে আমাকে ও আমার ছেলেকে ৪ ঘণ্টা ধরে বেঁধে নির্যাতন করা হয়েছে। আমরা এখনো কোনো সুষ্ঠু বিচার পাইনি। প্রতিদিন আতঙ্কে কাটছে আমাদের দিন।”

প্রবাসীদের জন্য এনবিআরের নতুন সুবিধা

এ ছাড়াও রুমানের বিরুদ্ধে এক গৃহবধূকে প্রলোভন দেখিয়ে অবৈধ সম্পর্ক গড়ার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীর স্বামী জানিয়েছেন, “আমি মাত্র চার মাস আগে বিয়ে করেছি। এরপর থেকে রুমান আমার সংসারে নানা অশান্তি সৃষ্টি করেছেন। অবশেষে তাকে আমার স্ত্রীর সঙ্গে হাতেনাতে ধরে ফেলি। তবে স্থানীয় লোকজন সালিশে বিষয়টি মীমাংসা করে আমাকে ছেড়ে দেয়।” স্থানীয়দের অভিমত, রুমান বিএনপি নেতা হওয়ায় ন্যায়বিচার হয়নি।

স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন, রুমানের এমন কর্মকাণ্ড সাধারণ মানুষকে ক্ষিপ্ত করেছে। তারা বলেন, সাংগঠনিক ব্যবস্থা না নিলে দলও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

অভিযোগের জবাবে যুবদল নেতা রুমান বলেন, “নারী কেলেঙ্কারির বিষয়টি সাজানো এবং সালিশে মীমাংসা হয়ে গেছে। অন্যান্য অভিযোগের কোনো প্রমাণ নেই।” রাঙ্গাবালী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মাইকেল তালুকদারও বলেন, “ব্যক্তির দায় দল নেবে না। অভিযোগ পেলে আমরা সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেব।”

স্থানীয়রা বলেন, রুমানের মতো নেতার ভয়ংকর কর্মকাণ্ডে সাধারণ মানুষ নিরাপদ বোধ করতে পারছেন না। প্রতিদিনের জীবনে তাদের মধ্যে আতঙ্ক, অনিশ্চয়তা ও মানসিক চাপ বাড়ছে। এলাকাবাসী আশা করছে, স্থানীয় প্রশাসন এবং রাজনৈতিক দল দ্রুত ব্যবস্থা নেবে, যাতে সাধারণ মানুষ নির্বিঘ্নে তাদের দৈনন্দিন জীবন কাটাতে পারে।

এ ঘটনায় রাঙ্গাবালী ইউনিয়নের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। জমি, ব্যক্তিগত নিরাপত্তা এবং সামাজিক মর্যাদা রক্ষার জন্য তারা ত্বরিত এবং কার্যকরী পদক্ষেপের দাবি জানাচ্ছেন। রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ ছাড়া, এলাকায় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমানো সম্ভব নয় বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত

Theme Dwonload From ThemesBazar.Com