সরকারি ব্যাংকের পরিচালকদের বার্ষিক কর্মক্ষমতা মূল্যায়ন চালু

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৫
  • ৩৯ বার
সঞ্চয়পত্র ও পাঁচ সেবা বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক

প্রকাশ: ৩১ অক্টোবর ২০২৫। একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

সরকারি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে চেয়ারম্যান এবং পরিচালকদের কার্যক্রমের বার্ষিক মূল্যায়ন চালু করা হয়েছে। এই নতুন নীতিমালার উদ্দেশ্য হলো জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং প্রতিষ্ঠানগুলোর দক্ষতা ও দায়িত্বশীলতা বৃদ্ধি করা। অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) সরকারি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে চেয়ারম্যান ও পরিচালক নিয়োগ নীতিমালা–২০২৫ জারি করেছে। নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, পুনর্নিয়োগের ক্ষেত্রে আগের কর্মক্ষমতার ফলাফলকে প্রাধান্য দেওয়া হবে।

নতুন নীতিমালায় বলা হয়েছে, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান বা পরিচালক হিসেবে নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রার্থীর যোগ্যতা, দক্ষতা এবং অভিজ্ঞতা বিবেচনায় নেওয়া হবে। বিশেষভাবে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে অর্থনীতি ও ব্যাংকিং ক্ষেত্রে জ্ঞানসম্পন্ন এবং অভিজ্ঞ প্রার্থীদের। এছাড়া সংশ্লিষ্ট বিষয়ে দক্ষতা ও পেশাদারিত্ব থাকলেও নিয়োগ দেওয়া যাবে।

অর্থমন্ত্রী বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে পরামর্শের মাধ্যমে নির্বাচিত প্রার্থীর গত বছরের বা পূর্ববর্তী কর্মফল যাচাই করা হবে। প্রমাণিত দুর্বলতা, অপ্রতিষ্ঠানগত আচরণ বা দায়িত্বে অবহেলার ক্ষেত্রে পুনর্নিয়োগে বাধ্যতামূলক সতর্কতা নেওয়া হবে।

এ নীতিমালা মূলত রাষ্ট্রমালিকানাধীন বাণিজ্যিক ব্যাংক, বিশেষায়িত ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং সরকারের শেয়ার থাকা বেসরকারি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রযোজ্য। অর্থাৎ, সরকারের শেয়ার থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিচালক ও চেয়ারম্যানদের নিয়োগ, মূল্যায়ন এবং পুনর্নিয়োগ পুরোপুরি নিয়মকানুনের মধ্যে অনুষ্ঠিত হবে।

এর আগে, ২০২৪ সালের ৯ এপ্রিল অর্থ মন্ত্রণালয় এই নীতিমালার একটি সংস্করণ জারি করেছিল। ওই সময় বিশ্বব্যাংক জানিয়েছিল, দেশের সরকারি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পরিচালকদের মধ্যে যথাযথ জবাবদিহিতা নেই। তাদের মতে, বর্তমান নিয়োগ প্রক্রিয়া যথেষ্ট স্বচ্ছ বা দক্ষ নয়। এই প্রেক্ষাপটে নতুন নীতিমালা তৈরি করা হয়েছে যাতে সরকারি ব্যাংকের পরিচালকদের কাজের মান এবং দায়বদ্ধতা বৃদ্ধি পায়।

নতুন নীতিমালার সঙ্গে ব্যাংকগুলোর অভ্যন্তরীণ মূল্যায়ন প্রক্রিয়া ও নিয়োগ প্রক্রিয়াকেও সামঞ্জস্যপূর্ণ করা হয়েছে। এতে ব্যাংক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে দায়িত্বশীলতা, পরিকল্পিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং সুষ্ঠু প্রশাসনিক পরিবেশ নিশ্চিত করা যাবে। আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, এখন থেকে পরিচালকের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে তার অর্জিত ফলাফলের ভিত্তিতে প্রতিবছর কর্মক্ষমতা মূল্যায়ন করা হবে।

বেসরকারি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেও সরকারের শেয়ার থাকলে এই নীতিমালা প্রযোজ্য হবে। এর ফলে ব্যাংকিং ও আর্থিক খাতে শৃঙ্খলাপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকবে এবং কর্মকর্তা-পরিচালকদের মধ্যে জবাবদিহিতা ও কর্মক্ষমতার মান বৃদ্ধি পাবে।

নিয়োগ প্রক্রিয়ায় যোগ্যতা ও দক্ষতার সঙ্গে সঙ্গে নতুন নীতিমালায় উল্লেখ রয়েছে যে, পরিচালকদের ব্যাংকিং ও অর্থনীতির বিভিন্ন দিক সম্পর্কেও পর্যাপ্ত জ্ঞান থাকতে হবে। তারা যেন বাজারে উদ্ভূত চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় কার্যকরভাবে নেতৃত্ব দিতে সক্ষম হন। এই ধরনের মূল্যায়ন প্রক্রিয়া প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, “আমরা চাই সরকারি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে চেয়ারম্যান এবং পরিচালকদের নিয়োগ ও মূল্যায়ন সম্পূর্ণ স্বচ্ছ এবং ফলপ্রসূ হোক। নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, শুধুমাত্র যোগ্য ও দক্ষ ব্যক্তিরাই দায়িত্বে আসবেন, যাতে প্রতিষ্ঠানগুলো দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক অবদান রাখতে পারে।”

নতুন নীতিমালা বাস্তবায়নের মাধ্যমে সরকারি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে দায়িত্বশীলতার সংস্কৃতি গড়ে উঠবে। এই কর্মক্ষমতা মূল্যায়ন প্রক্রিয়া প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ও নিয়োগ প্রক্রিয়ার মান উন্নয়নে সহায়ক হবে। ব্যাংকগুলোর পরিচালক ও চেয়ারম্যানরা প্রতি বছর তাদের অর্জিত ফলাফলের ভিত্তিতে পুনর্নিয়োগের যোগ্যতা যাচাইয়ের মুখোমুখি হবেন।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এটি বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এটি শুধু নিয়োগ প্রক্রিয়া স্বচ্ছ করবে না, বরং ব্যাংকগুলোর পরিচালকদের মধ্যে জবাবদিহিতা এবং দায়িত্ববোধও বৃদ্ধি পাবে। কর্মকর্তারা আরও জানান, নতুন নীতিমালা বাস্তবায়িত হলে দেশের আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা ও ব্যাংকগুলোর কার্যকারিতা শক্তিশালী হবে।

সরকারের এই পদক্ষেপকে ব্যাংকিং খাতে ইতিবাচক সংস্কারের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কর্মকর্তারা আশা করছেন, মূল্যায়ন প্রক্রিয়া কার্যকরভাবে সম্পন্ন হলে দেশের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো আরও প্রতিযোগিতামূলক, স্বচ্ছ এবং জবাবদিহিমূলক হবে। এর ফলে জনসাধারণের আস্থা বৃদ্ধি পাবে এবং আর্থিক খাতের সার্বিক মান উন্নত হবে।

সব মিলিয়ে, নতুন সরকারি নীতিমালার লক্ষ্য স্পষ্ট: সরকারি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পরিচালকদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা, তাদের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা যাচাই করা, এবং প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রমকে আরও ফলপ্রসূ ও স্বচ্ছ করা। এটি বাংলাদেশে আর্থিক খাতের জন্য দীর্ঘমেয়াদে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং সরকারের ওপর মানুষের আস্থা বাড়াবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত