কান্তে জাতীয় দলে, ফ্রান্সের মিডফিল্ডে নতুন শক্তি

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ৭ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৪৬ বার
এক বছর পর জাতীয় দলে ডাক পেলেন কন্তে

প্রকাশ: ০৭ নভেম্বর শুক্রবার । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ফ্রান্স জাতীয় ফুটবল দলের অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার এনগোলো কান্তে এক বছরের অবসরের পর আবারও তার জাতীয় দলে ডাক পেয়েছেন। গত বছরের নভেম্বরে ইসরায়েলের বিপক্ষে তার শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার পর দীর্ঘ সময় জাতীয় দলে আর সুযোগ পাননি এই বিশ্বকাপ জয়ী তারকা। কিন্তু ফ্রান্সের কোচ দিদিয়ের দেশম বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) ঘোষিত ২৪ সদস্যের স্কোয়াডে কান্তের নাম অন্তর্ভুক্ত করেছেন, যা এক বছরের দীর্ঘ অপেক্ষার পর কান্তের জন্য বিশেষ মুহূর্ত হিসেবে ধরা হচ্ছে।

ফ্রান্স আগামী ১৩ নভেম্বর ইউক্রেন এবং ১৬ নভেম্বর আজারবাইজানের বিপক্ষে ২০২৬ বিশ্বকাপ বাছাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ খেলবে। এই ম্যাচের জন্য দিদিয়ের দেশম স্কোয়াডে কান্তের অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করেছেন। কান্তের অভিজ্ঞতা, বল দখল করার ক্ষমতা এবং মাঠে অবিচলিত মনোভাব ফ্রান্সের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে এমন গুরুত্বপূর্ণ বাছাইপর্বে। কোচ দেশম আশা করছেন, কান্ত তার সাম্প্রতিক ক্লাব ফুটবল অভিজ্ঞতার আলোকে জাতীয় দলে নতুন প্রাণশক্তি যোগ করবেন।

এনগোলো কান্তে ২০২৩ সালে চেলসি ছেড়ে সৌদি প্রো লিগের ক্লাব আল ইত্তিহাদে যোগ দিয়েছেন। যদিও বয়স ৩৪ পার করলেও তিনি এখনও মাঠে অবিশ্বাস্য খেলার মান বজায় রেখেছেন। ফ্রান্সের কোচ দেশমও বলেছেন, “কান্তে যেমন আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন, তেমনি ক্লাব ফুটবলেও তার উপস্থিতি দলের জন্য সাফল্য বয়ে আনছে। তার অভিজ্ঞতা দলের জন্য অনন্য সম্পদ।”

ফ্রান্স জাতীয় দলের মিডফিল্ডে কান্তের ভূমিকায় লক্ষ্য রাখতে হবে তার বল দখল ক্ষমতা, রক্ষণাত্মক দায়িত্ব পালনের দক্ষতা এবং দ্রুত খেলার মধ্যে দলের ভারসাম্য তৈরি করার ক্ষমতা। ফ্রান্সের খেলোয়াড় ও বিশ্লেষকরা মনে করছেন, কান্তের পুনরায় দলে অন্তর্ভুক্তি কোচ দেশমের জন্য কৌশলগত সুবিধা হিসেবে কাজ করবে। তিনি দলের মিডফিল্ডে একটি সুরক্ষা স্তর যোগ করছেন, যা প্রতিপক্ষের আক্রমণ মোকাবেলায় অত্যন্ত কার্যকর।

কান্তের জাতীয় দলে ফেরার পেছনে তার নিয়মিত ক্লাব পারফরম্যান্স অন্যতম কারণ হিসেবে ধরা হচ্ছে। আল ইত্তিহাদে খেলতে গিয়ে কান্ত তার খেলার মান ধরে রেখেছেন এবং দলকে গুরুত্বপূর্ণ জয় এনে দিয়েছেন। বিশ্বকাপ বাছাইয়ের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে কান্তের উপস্থিতি দলের আত্মবিশ্বাস বাড়াবে বলে মনে করছেন অনেকে।

ফ্রান্স জাতীয় দলের অনুরাগীরা কান্তের এই প্রত্যাবর্তনকে উচ্ছ্বাসের সঙ্গে বরণ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার সমর্থকরা জানান, “কান্তে জাতীয় দলে ফিরে আসায় আমাদের মিডফিল্ড শক্তিশালী হবে। তার প্রতিটি দৌড়, বল দখল এবং মাঠে দৃষ্টান্তমূলক উপস্থিতি আমাদের জন্য বড় সুবিধা।”

ক্লাব ফুটবলে কান্তের প্রতিভা প্রশংসিত হলেও জাতীয় দলে তার অভিজ্ঞতা আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ২০১৮ সালের বিশ্বকাপে ফ্রান্সের জয়ে কান্তে দলের অন্যতম প্রধান অবদানকারী ছিলেন। তার বল দখল এবং রক্ষণাত্মক ভূমিকা দলের জয় নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। তার এই অভিজ্ঞতা নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড়দের জন্যও একটি শিক্ষার মাপকাঠি হিসেবে কাজ করবে।

ফ্রান্সের মিডফিল্ডে কান্তের পুনরায় অন্তর্ভুক্তি দলের কৌশলগত পরিকল্পনায় নতুন মাত্রা যোগ করছে। কোচ দেশম মূলত তার অভিজ্ঞতা ও খেলোয়াড়দের মধ্যে সমন্বয় তৈরি করার ক্ষমতার কারণে তাকে দলে রেখেছেন। কান্তের খেলায় উপস্থিতি, দলের খেলার গতিশীলতা এবং প্রতিপক্ষের চাপ মোকাবেলায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।

বাংলাদেশের বড় দুশ্চিন্তা ব্যাটিং

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কান্তের জাতীয় দলে ফেরার ফলে ফ্রান্সের মধ্যমাঠ আরও সমৃদ্ধ হবে। তার খেলায় দৃঢ়তা, বল দখল এবং প্রতিপক্ষের আক্রমণ থামানোর দক্ষতা নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড়দের অনুপ্রাণিত করবে। ফ্রান্স জাতীয় দল ২০২৬ বিশ্বকাপ বাছাইয়ের এই মুহূর্তে কান্তের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে পারবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ফ্রান্সের মিডফিল্ডে কান্তের উপস্থিতি শুধু রক্ষণাত্মক ক্ষেত্রেই নয়, বরং আক্রমণ চালানোর সময়ও গুরুত্বপূর্ণ। তার দ্রুত রক্ষণ থেকে আক্রমণে পরিবর্তন আনার ক্ষমতা দলের খেলাকে আরও গতিশীল করে তুলবে। কোচ দেশম এবং দলের সহকর্মীরা আশা করছেন, কান্ত আন্তর্জাতিক ম্যাচে তার স্বাভাবিক মান ধরে রাখবেন এবং ফ্রান্সকে বিশ্বকাপ বাছাইয়ে এগিয়ে নেবেন।

এনগোলো কান্তের জাতীয় দলে প্রত্যাবর্তন তার ব্যতিক্রমী ক্যারিয়ারের নতুন অধ্যায় শুরু করেছে। এক বছরের দীর্ঘ বিরতির পর তিনি জাতীয় দলে ফিরে এসে আবারও তার খেলার মান, অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্বের প্রমাণ দিতে প্রস্তুত। ফ্রান্স জাতীয় দলের সমর্থকরা তার উপস্থিতিকে উষ্ণভাবে গ্রহণ করেছেন এবং আশা করছেন, কান্ত তার পারফরম্যান্সের মাধ্যমে দলের জয়ের পথকে সহজ করবেন।

ফ্রান্স জাতীয় দলের জন্য কান্তের এই প্রত্যাবর্তন একদিকে যেমন মিডফিল্ডে শক্তি যোগ করবে, তেমনি তার খেলার দৃষ্টান্ত নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড়দের জন্য শিক্ষণীয় হবে। ৩৪ বছর বয়সে হলেও তার খেলায় যে উদ্যম, শক্তি এবং অভিজ্ঞতা রয়েছে, তা তাকে বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ মিডফিল্ডার হিসেবে ধরে রাখছে।

 

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত

Theme Dwonload From ThemesBazar.Com