শিশু অপহরণ ও হত্যার ঘটনায় যুবকের ফাঁসির আদেশ

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১২ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৬২ বার
শিশু অপহরণ ও হত্যার ঘটনায় যুবকের ফাঁসির আদেশ

প্রকাশ: ১২ নভেম্বর ২০২৫ | নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন 

ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে ১০ বছরের শিশু তাওহীদ ইসলামকে অপহরণের পর হত্যার দায়ে আসামি মো. মকবুল হোসেনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি তাকে পাঁচ লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছে। বুধবার (১২ নভেম্বর) সকালে ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪ এর বিচারক মুন্সী মো. মশিয়ার রহমান এ রায় ঘোষণা করেন।

রায়ে অপহরণের আরেক ধারায় মকবুলকে আমৃত্যু কারাদণ্ড এবং দুই লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছে। আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, আসামির স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রি করে জরিমানার টাকা জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে ভুক্তভোগী পরিবারের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত মকবুল কেরানীগঞ্জ মডেল থানার লাখিরচর এলাকার মৃত আলী হোসেনের ছেলে।

আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর এরশাদ আলম জর্জ জানান, রায় ঘোষণার সময় আসামি মকবুলকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। রায় ঘোষণার পর সাজা পরোয়ানা জারি করে তাকে আবারও কারাগারে পাঠানো হয়।

রায় ঘোষণার সময় আদালতের বাইরে নিহত শিশুর পরিবার ও স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ। মা মোসা. তাসলিমা আক্তার বলেন, “আমার ছেলেকে যে নির্মমভাবে হত্যা করেছে, তার ফাঁসির রায় পেয়ে মনে হচ্ছে কিছুটা হলেও তাওহীদের আত্মা শান্তি পাবে।” শিশুর বোনও কেঁদে বলেন, “আমরা আজ ন্যায়বিচার পেয়েছি।”

মামলার অভিযোগে বলা হয়, দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার রসুলপুর জামিআ ইসলামিয়া মাদরাসায় নাজেরা বিভাগে পড়তো ১০ বছরের তাওহীদ ইসলাম। ২০২৪ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি বিকেলে ক্লাস শেষে মামার দোকানে গিয়ে তাকে না পেয়ে বাড়ির পথে রওনা দেয়। পথে মকবুল হোসেন তাকে অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবি করে। পরদিন সকাল সাড়ে ১০টায় নির্দিষ্ট স্থানে টাকা রেখে আসেন শিশুর মামা, কিন্তু শিশুটিকে ফেরত দেননি মকবুল।

পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে র‌্যাব অভিযান চালিয়ে মকবুলকে গ্রেপ্তার করে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একটি সেফটিক ট্যাংকি থেকে তাওহীদের লাশ উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় শিশুটির মা মোসা. তাসলিমা আক্তার বেগম দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক এ কে এম সাইদুজ্জামান গত বছরের ৩১ জুলাই তদন্ত শেষে মকবুলের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। পরে আদালত চার্জগঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন এবং মামলায় ১৮ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করেন।

এই রায়কে “ন্যায়বিচারের এক দৃষ্টান্তমূলক উদাহরণ” বলে অভিহিত করেছেন প্রসিকিউশন পক্ষ। তারা আশা প্রকাশ করেন, এমন কঠোর রায় ভবিষ্যতে শিশু নির্যাতন ও অপহরণে জড়িতদের জন্য সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে।

কেরানীগঞ্জের মানুষও এই রায়কে স্বাগত জানিয়েছে। এলাকাবাসীর অনেকেই বলেছেন, তাওহীদের নির্মম হত্যার পর থেকে তারা এই রায়ের অপেক্ষায় ছিলেন। এক প্রতিবেশী বলেন, “তাওহীদ খুব মেধাবী ও ভদ্র ছেলে ছিল। তার এমন পরিণতি কেউ মেনে নিতে পারেনি।”

তবে মামলার রায় এখনো কার্যকর হয়নি; রায়ের কপি হাতে পাওয়ার পর আসামিপক্ষ চাইলে উচ্চ আদালতে আপিল করতে পারবে। তবুও শিশুটির পরিবার আজ মনে করছে, অন্তত ন্যায়ের দরজায় তারা কিছুটা সান্ত্বনা পেয়েছে।

বাংলাদেশের বড় দুশ্চিন্তা ব্যাটিং

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত