এক ছাত্রীকে ডাস্টার দিয়ে আঘাত করে মাথা ফাটিয়েছেন প্রধান শিক্ষক

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১২ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৪৯ বার
এক ছাত্রীকে ডাস্টার দিয়ে আঘাত করে মাথা ফাটিয়েছেন প্রধান শিক্ষক

প্রকাশ: ১২ নভেম্বর ২০২৫ | নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন 

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পবিত্র পরিবেশে ঘটে গেছে এক মর্মান্তিক ও নিন্দনীয় ঘটনা। ক্লাসরুমের ভেতর সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রীকে ডাস্টার দিয়ে আঘাত করে রক্তাক্ত করেছেন কেশবপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফরুক আহমদ (৫০)। রোববার বিকেল ৪টার দিকে পৌরসভার কেশবপুর এলাকায় এ ঘটনাটি ঘটে। পরবর্তীতে ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় সমাজে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয় এবং বিষয়টি এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।

প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থীরা জানান, ক্লাস চলাকালে সাইদা বেগম (১৪) নামের ওই ছাত্রী সহপাঠীর সঙ্গে কথা বলছিলেন। হঠাৎ প্রধান শিক্ষক শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করে কোনো কথা না বলেই ডাস্টার দিয়ে ছাত্রীর মাথায় ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন। আঘাতের তীব্রতায় সাইদার মাথা ফেটে রক্তক্ষরণ শুরু হয়। আহত অবস্থায় সহপাঠীরা তাকে দ্রুত ক্লাসরুমের বাইরে নিয়ে আসে এবং পরে স্বজনরা তাকে জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

আহত ছাত্রীর বাবা মুজিবুর রহমান বলেন, “আমার মেয়েকে কোনো কারণ ছাড়াই এভাবে পিটিয়ে রক্তাক্ত করা হয়েছে। তার মাথার সামনের অংশে গভীর ক্ষত হয়েছে এবং শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এখন সে মানসিকভাবেও ভেঙে পড়েছে।” তিনি দোষী প্রধান শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন, যাতে ভবিষ্যতে কোনো শিক্ষক এমন আচরণ করার সাহস না পান।

বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক ফয়জুর রহমান জোয়ারদার (পলাশ) ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, “আমি সেদিন সিলেটে ছিলাম। ফিরে এসে ঘটনাটি জানতে পারি এবং আহত ছাত্রীর খোঁজ নিয়েছি। বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক।”

বাংলাদেশের বড় দুশ্চিন্তা ব্যাটিং

অন্যদিকে উপজেলা মাধ্যমিক একাডেমিক সুপারভাইজার অরুপ কুমার রায় বলেন, “এটি একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ও অগ্রহণযোগ্য ঘটনা। শিক্ষকের কাছ থেকে এমন আচরণ কাম্য নয়। তদন্ত সাপেক্ষে দোষী ব্যক্তির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ঘটনার পর থেকে এলাকাজুড়ে ক্ষোভের ঝড় বয়ে যাচ্ছে। স্থানীয় অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা বলছেন, শিক্ষকের কাছে শিশুরা নিরাপত্তা ও স্নেহ চায়, শারীরিক শাস্তি নয়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমন নৃশংসতার স্থান হতে পারে না।

প্রধান শিক্ষক ফরুক আহমদ ঘটনার বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির কয়েকজন সদস্য জানিয়েছেন, ভিডিওচিত্র এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্যের ভিত্তিতে বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন পাঠানো হবে।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি ইতোমধ্যে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই মন্তব্য করেছেন— “একজন শিক্ষকের হাতে শিক্ষার্থী আহত হওয়া শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য লজ্জাজনক।”

স্থানীয়রা বলছেন, এমন ঘটনার বিচার না হলে ভবিষ্যতে শিক্ষক-শিক্ষার্থী সম্পর্ক আরও দূরত্ব তৈরি করবে। অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠাতে ভয় পাবেন। তাই ঘটনার দ্রুত ও ন্যায্য তদন্ত দাবি করেছেন তারা।

এ ঘটনার পর আহত ছাত্রী সাইদা বেগম বর্তমানে চিকিৎসাধীন। পরিবার জানায়, সে এখনও আতঙ্কের মধ্যে আছে এবং স্কুলে ফেরার নাম শুনলেই কেঁদে ওঠে।

এই ঘটনায় প্রশাসন ও শিক্ষা কর্তৃপক্ষের নজর পড়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রধান শিক্ষককে ক্লাস থেকে বিরত রাখার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানা গেছে।

এই ঘটনাটি আবারও প্রশ্ন তুলেছে— শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শৃঙ্খলা রক্ষার নামে সহিংসতা কি কখনও গ্রহণযোগ্য হতে পারে? শিক্ষার আলো ছড়ানোর জায়গা কি এভাবে অন্ধকার হয়ে উঠবে?

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত