স্থানীয়রা ধাওয়া করে মিছিলে থাকা দুই নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ কর্মীকে পুলিশের হাতে তুলে দিলো

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১২ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৪৫ বার

প্রকাশ: ১২ নভেম্বর ২০২৫ | নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন 

সিলেটের দক্ষিণ সুরমার শ্রীরামপুরে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের একটি মশাল মিছিল শনিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে স্থানীয় জনতার ধাওয়ায় বাধাগ্রস্ত হয়। মিছিলকারীরা দৌড়ে ছত্রভঙ্গ হয়ে পালিয়ে গেলেও, দুইজনকে স্থানীয়রা আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছেন। এই ঘটনায় এলাকায় অস্থিরতা সৃষ্টি হয় এবং স্থানীয়রা সামাজিক মাধ্যমে ঘটনার ছবি ও ভিডিও পোস্ট করেছেন।

মোগলাবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামসুল হাবিব বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মশাল মিছিলে প্রায় ২০–২৫ জন যুবক অংশগ্রহণ করেন। মিছিল শুরু হলে স্থানীয় জনতা তাদের ধাওয়া শুরু করে, এতে মিছিলকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে ছড়িয়ে পড়ে। ধাওয়ার সময় দুইজন যুবক পাশের একটি বাড়িতে আশ্রয় নেন। পরে স্থানীয়রা তাদের সেখান থেকে বের করে পুলিশের হাতে তুলে দেন।

ওসি শামসুল হাবিব আরও জানান, আটককৃতদের নাম ও পরিচয় শনাক্ত করা হচ্ছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। এছাড়া, পুলিশ ঘটনার সঙ্গে যুক্ত অন্যান্য মিছিলকারীদের শনাক্তের চেষ্টা চালাচ্ছে।

এদিকে, সিলেটের বিভিন্ন স্থানে জেলা আওয়ামী লীগের পলাতক সাধারণ সম্পাদক নাসির খানের ছবি দিয়ে কিছু মশাল মিছিল ফেসবুকে প্রচার করা হলেও, পুলিশ তা নিশ্চিত করতে পারেনি। সামাজিক মাধ্যমে পোস্টগুলো মূলত ওই অঞ্চলের যুবকরা ছড়িয়ে দিয়েছেন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোন বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা বা ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেনি।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, মিছিলটি স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করছিল। অনেকেই এ ধরনের অপ্রত্যাশিত মিছিলের কারণে নিরাপত্তাহীন বোধ করেছেন। স্কুল, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বাড়ি ঘরের লোকজন আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন। কিছু সংবাদ অনুযায়ী, মশাল মিছিলের প্রস্তুতি আগে থেকেই স্থানীয়দের নজরে আসে, যা মিশ্র প্রতিক্রিয়ার কারণ হয়।

মশাল মিছিল প্রতিহত করার ক্ষেত্রে স্থানীয় জনতা সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। তাদের সাহসী আচরণে মিছিলকারীরা দ্রুত ছত্রভঙ্গ হয়ে যায় এবং দুই যুবক পুলিশের হেফাজতে চলে যায়। জনতার এই তৎপরতা স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ কর্মকর্তাদের কাছেও প্রশংসিত হয়েছে।

শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা জানান, মশাল মিছিলের কারণে রাতের পরিবেশ অস্বস্তিকর হয়ে ওঠে। যদিও কেউ গুরুতর আহত হননি, তবুও এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করে। স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ সতর্ক অবস্থায় রয়েছেন যাতে এ ধরনের ঘটনা পুনরায় ঘটতে না পারে।

মোগলাবাজার থানার ওসি শামসুল হাবিব বলেন, “এ ধরনের মিছিল আইন-শৃঙ্খলা বিঘ্নিত করতে পারে। তাই আটককৃতদের বিরুদ্ধে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং মশাল মিছিলের সঙ্গে যুক্ত অন্যদেরও শনাক্ত করা হবে।”

স্থানীয়রা আশা করেছেন, প্রশাসন ও পুলিশের কঠোর পদক্ষেপ এলাকায় শান্তি পুনঃপ্রতিষ্ঠায় সহায়ক হবে। একই সঙ্গে, তারা মশাল মিছিলের মতো উসকানি মূলক কর্মকাণ্ডের পুনরাবৃত্তি রোধের আহ্বান জানিয়েছেন।

এই ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে সতর্কতা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা চলছে। স্থানীয় গণমাধ্যমও বিষয়টি মনোযোগ দিয়ে প্রচার করছে, যাতে প্রশাসন এবং জনসাধারণকে সচেতন করা যায়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত