ফেসবুকে পাখি রান্নার ভিডিও শেয়ার, যুবক পেল কারাদণ্ড

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১২ নভেম্বর, ২০২৫
  • ২৭ বার
ফেসবুকে পাখি রান্নার ভিডিও শেয়ার, যুবক পেল কারাদণ্ড

প্রকাশ: ১২ নভেম্বর ২০২৫ | নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন 

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় সংরক্ষিত ঘুঘু ও শালিক পাখি শিকারের পর রান্না করে তা খাওয়ার ভিডিও ফেসবুকে পোস্ট করার অপরাধে বায়েজিদ আমীন (২৭) নামে এক যুবককে দণ্ডিত করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। তাকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে ৭ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।

সোমবারের ঘটনা জানার পরে বুধবার বেলা ১১টার দিকে কলাপাড়ার বালিয়াতলী ইউনিয়নের আমতলীপাড়া এলাকায় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইয়াসীন সাদেক ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন এবং আদালতের মাধ্যমে এই দণ্ড কার্যকর করা হয়। দণ্ডপ্রাপ্ত যুবক বায়েজিদ আমীন ওই এলাকার মো. মাসুম বিল্লাহর ছেলে।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের সূত্রে জানা গেছে, বায়েজিদ আমীন ২০টি সংরক্ষিত ঘুঘু ও শালিক পাখি শিকার করে রান্না করার ভিডিও নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে আপলোড করেন। ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর বন বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসনের নজরে আসে। আইন অনুযায়ী এটি বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২-এর ৩৮ ধারা লঙ্ঘন। মামলার শুনানি শেষে আদালত যুবককে ১০ হাজার টাকা জরিমানা এবং অর্থদণ্ড অনাদায়ে ৭ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করে।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইয়াসীন সাদেক বলেন, “বন্যপ্রাণি আমাদের জীববৈচিত্র্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ। সংরক্ষিত পাখি শিকার আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। এ ধরনের অপরাধ ভবিষ্যতে প্রতিরোধে প্রশাসন ও বন বিভাগ যৌথভাবে কঠোর ব্যবস্থা নেবে। আমরা জনগণকে সচেতন করতে ও অভিযান অব্যাহত রাখব।”

কলাপাড়া রেঞ্জের বন কর্মকর্তারা অভিযানে প্রসিকিউশন দাখিল করেন। পাশাপাশি স্থানীয় পরিবেশ ও প্রাণীপ্রেমী সংগঠন ‘অ্যানিমেল লাভারস অব পটুয়াখালী’ সদস্যরা প্রশাসনের সঙ্গে সহযোগিতা করেন। স্থানীয়রা এই পদক্ষেপের জন্য প্রশাসন ও বন বিভাগকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন এবং আশ্বাস দিয়েছেন যে, এ ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধে কঠোর নজরদারি অব্যাহত থাকবে।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের এই দণ্ড প্রদানের ঘটনা স্থানীয়দের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি বন্যপ্রাণী রক্ষার গুরুত্ব পুনরায় সামনে এনেছে। বন কর্মকর্তা ও প্রশাসন বারবার উল্লেখ করেছেন যে, সংরক্ষিত পাখি ও প্রাণী শিকার আইন ভঙ্গ করলে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং এ ধরনের কর্মকাণ্ড রেকর্ড করা ও সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত হলে দণ্ডিত করা হবে।

স্থানীয় পরিবেশ ও প্রাণীপ্রেমীরা মনে করেন, বন্যপ্রাণী ও সংরক্ষিত পাখির ওপর এমন ধরনের অপরাধ বন্ধ করা অত্যন্ত জরুরি। তারা বলছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ধরনের ভিডিও শেয়ার করলে অন্যরাও উৎসাহিত হতে পারে, যা দেশের জীববৈচিত্র্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতি।

প্রশাসনের এই পদক্ষেপ বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। বন বিভাগও ভবিষ্যতে এ ধরনের অভিযানের সংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত