সর্বশেষ :
২০২৬ বিশ্বকাপে বড় পরিবর্তন, ফুটবল টুর্নামেন্টে নতুন যুগের ইঙ্গিত সোমালি রেফারিকে ঢুকতে না দেওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনায় ইয়ান রাইট ২০২৬ বিশ্বকাপ: গোল্ডেন বুটের দৌড়ে কারা এগিয়ে? মিরসরাইয়ে নিখোঁজ তিন কিশোর উদ্ধার, স্বস্তি ফিরেছে পরিবারে মেলান্দহে পুকুরে ডুবে দুই শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু চিরিরবন্দরে ৩ মাদকসেবীকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের কারাদণ্ড ১০ হাজার টন মসুর ডাল কিনবে সরকার, বাজার স্থিতিশীলতায় উদ্যোগ প্রশাসনিক কাজে জবাবদিহি নিশ্চিতের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর মে মাসে বিজিবির অভিযানে ১৭৭ কোটি টাকার চোরাচালান পণ্য জব্দ, সীমান্তে কড়াকড়ি জোরদার ৭৯ হাজার ‘ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা’ নিয়ে নতুন বিতর্ক, যাচাই প্রক্রিয়া ঘিরে আলোচনা

আবীরের প্রতি জয়ার অকৃত্রিম ভালোবাসা ও বন্ধুত্বের গল্প

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১৮ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৪৮ বার
আবীরের প্রতি জয়ার অকৃত্রিম ভালোবাসা ও বন্ধুত্বের গল্প

প্রকাশ: ১৮ নভেম্বর ২০২৫। একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

টালিউডসহ দুই বাংলার চলচ্চিত্রজগতে যারা কাজ করছেন, তাঁদের অনেকের কাছেই জয়া আহসান বরাবরের মতোই একটি উজ্জ্বল নাম। কিন্তু সেই উজ্জ্বলতার আড়ালে, বিশেষ করে ব্যক্তিগত সম্পর্কে তিনি কতটা সংবেদনশীল ও আন্তরিক—তা তাঁর ঘনিষ্ঠ সহকর্মীদের মাধ্যমেই সবচেয়ে বেশি বোঝা যায়। তাঁদের ভেতরে আবীর চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে জয়ার বন্ধুত্ব আজ অনেকটাই কিংবদন্তির মতো। এই দুজনের পর্দার রসায়ন যেমন দর্শকদের মুগ্ধ করে, তেমনি ব্যক্তিগত বন্ধুত্বের গল্পও শিল্পজগতের মানুষদের কাছে একটি অনুসরণীয় উদাহরণ হয়ে আছে।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে জয়া আহসান আবীর চট্টোপাধ্যায়ের প্রতি তাঁর গভীর মুগ্ধতা এবং আন্তরিক শ্রদ্ধার যে কথা বলেছেন, তা শুধু একটি সহকর্মীকে প্রশংসা করা নয়; বরং দুই মানুষের মধ্যে গড়ে ওঠা এক বিরল ও মানবিক বন্ধনের ইঙ্গিত দেয়। তিনি বলেন, অভিনয়জগতে তাঁর সবচেয়ে বেশি স্বস্তির জায়গাটি আবীর চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে কাজ করলেই তৈরি হয়। কারণ আবীর একজন অত্যন্ত নির্ভেজাল, নিরূত্তাপ ও বেপরোয়া সমালোচনার বাইরে থাকা মানুষ। এমন একজন মানুষ, যার উপস্থিতি অন্যদের জীবনে শান্তি ও স্বস্তি এনে দেয়।

জয়ার ভাষ্যে, অনেকের সঙ্গেই তাঁর কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে। কিন্তু আবীর চট্টোপাধ্যায় তাঁদের মধ্যে সবচেয়ে আলাদা। তিনি কখনো কারও সম্পর্কে নেতিবাচক কথা বলেন না, এমন কোনো আলোচনা বা আড্ডায় অংশ নেন না যা অন্যকে কষ্ট দিতে পারে। জয়ার কাছে এই মানবিক বৈশিষ্ট্যটিই আবীরকে অন্যদের চেয়ে আলাদা করেছে। তিনি বলেন, আবীর ব্যক্তিত্বে একটি নির্মলতা আছে, যা ক্রমাগত তাঁকে বিস্মিত করে। আজকের ব্যস্ত, প্রতিযোগিতামুখর, কখনো কখনো অনিশ্চয়তায় ভরা বিনোদন জগতে এমন মানুষ পাওয়া সত্যিই বিরল।

সম্প্রতি তাঁদের চলচ্চিত্র পুতুল নাচের ইতিকথা–র প্রচারণায় তাঁরা গিয়েছিলেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে। সেদিনের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে জয়ের চোখে দেখা যায় সহকর্মী বন্ধুর প্রতি এক গভীর মুগ্ধতা। বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে প্রবেশ করার সঙ্গে সঙ্গেই আবীরকে ঘিরে শিক্ষার্থীদের যে উচ্ছ্বাস দেখা যায়, তা জয়ার কাছে এক অবিস্মরণীয় দৃশ্য। তিনি বলেন, তাঁর চোখের সামনে শিক্ষার্থীরা আবীরকে দেখে যে উল্লাসে মেতে উঠেছিল, সেটি তাঁকেও অভিভূত করেছিল। দর্শকদের ভালোবাসা কতটা গভীর হলে একজন শিল্পীকে এভাবে ঘিরে ধরা যায়, সেই দৃশ্যের সাক্ষী হয়ে থাকা তাঁর কাছে আনন্দময়ও ছিল, আবার চিন্তারও। কারণ এমন ভালোবাসা সামলে রাখা, এবং তাকে সম্মান জানিয়ে কাজ করতে পারা খুবই কঠিন। আবীর সেই কঠিন দায়িত্বটুকুও যত্নে পালন করেছেন।

জয়া আহসান বলেন, আবীরের কাছে তিনি সবচেয়ে বড় যে শিক্ষা পেয়েছেন তা হলো—ব্যক্তিগত জীবন ও কর্মজীবনের মধ্যে সুষম সামঞ্জস্য বজায় রাখা কতটা গুরুত্বপূর্ণ। ব্যস্ত শিডিউল, দীর্ঘ শুটিং সময়, নতুন চরিত্রের প্রস্তুতি—এসব কোলাহলের মাঝেও আবীর তাঁর সংসারজীবনকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেন। তিনি পরিবারের সঙ্গে সময় কাটান, পরিবারের দায়িত্ব পালন করেন, আবার একইসঙ্গে কাজের জায়গায় প্রয়োজনীয় নজর রাখেন। তাঁর মতে, আবীর এমন একজন মানুষ, যিনি যা করেন তা পরিপূর্ণ হৃদয় দিয়েই করেন। পরিচিতি, জনপ্রিয়তা কিংবা আলোচনায় থাকা—এসব তাঁর কাছে কখনো অগ্রাধিকার পায় না পরিবার ও ব্যক্তিগত নীতির ওপরে।

জয়া জানান, আবীরের এই একাগ্রতা এবং শান্ত ব্যক্তিত্ব তাঁকে বারবার অনুপ্রাণিত করে। একজন সহকর্মীর প্রতি এ ধরনের প্রশংসা অত্যন্ত কম দেখা যায় চলচ্চিত্রাঙ্গনে। কিন্তু জয়া কোনো রাখঢাক না রেখে বলেন, আবীরের মতো মানুষকে বন্ধু হিসেবে পাওয়া সত্যিই ভাগ্যের ব্যাপার। তাঁকে দেখে বোঝা যায়, একজন মানুষ তাঁর কাজের সাফল্যের পাশাপাশি কীভাবে মানুষ হিসেবেও বড় হয়ে উঠতে পারেন।

তিনি বলেন, আবীরের অনুভূতি খুবই আন্তরিক। তিনি যাকে ভালোবাসেন, সম্মান করেন কিংবা যাকে নিয়ে বিচার-বিশ্লেষণ করেন, সবকিছুই খুব মন থেকে করেন। তাঁর মধ্যে কোনো ভণ্ডামি নেই। এই গুণটাই তাঁকে আলাদা করে দিয়েছে। অনেকেই আড়ালে বা আড্ডায় নানা সমালোচনা করেন, অন্যকে খাটো করে নিজের অবস্থান দৃঢ় করেন। কিন্তু আবীর এসবের ধারেকাছেও নেই। সেটিই জয়ার কাছে তাঁকে আরও প্রিয় করে তুলেছে।

পর্দার বাইরে তাঁদের বন্ধুত্বের দৃঢ়তা দেখা যায় নানা মুহূর্তে। কাজের ভিন্নমত হলে তাঁরা আলোচনা করে সমাধান করেন। জয়া বলেন, তাঁদের বন্ধুত্বে কখনোই অহংকার বা প্রতিযোগিতার জায়গা নেই। বরং একে অপরকে সহযোগিতা করার একটি প্রবণতা কাজ করে। আবীর তাঁর মতোই পেশাদার, আবার একইসঙ্গে একজন সহজ-সরল মানুষ, যিনি মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক গড়তে জানেন, সম্পর্ক ধরে রাখতে জানেন।

জয়ার কথায়, তিনি ও আবীর দুজনেই দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন চরিত্রে একসঙ্গে কাজ করেছেন। সেই কাজের মধ্য দিয়ে তৈরি হয়েছে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও বিশ্বাসের সম্পর্ক। কখনো কখনো তাঁদের অভিনয় জুটিকে ভক্তরা নতুন মাত্রায় নিয়ে গেছেন। কিন্তু জয়া মনে করেন, তাঁদের জনপ্রিয়তার মূল কারণ শুধু অভিনয় নয়, বরং অদৃশ্য এক মানবিক বন্ধন, যা তাঁদের প্রতিটি কাজকেই প্রভাবিত করে।

এই বন্ধুত্বের গল্প শুধু অভিনয়জগতের মানুষের জন্য নয়; সাধারণ মানুষের জন্যও এক অনুপ্রেরণা। কারণ প্রকৃত বন্ধুত্ব এমনই হয়—যেখানে সমালোচনা নেই, নেই হিংসা বা প্রতিযোগিতা। আছে শুধু ভালোবাসা, শ্রদ্ধা, স্বস্তি আর পাশে থাকার বিশ্বাস। তাই জয়া যখন বলেন, আবীরের মতো মানুষকে বন্ধু হিসেবে পাওয়া সত্যিই ভাগ্যের ব্যাপার—তখন সেটা কেবল প্রশংসা নয়, বরং সত্যিই এক মানবিক স্বীকৃতি।

শিল্পীরা তাঁদের কাজের মাধ্যমে মানুষের মন জয় করেন। কিন্তু একজন শিল্পীর মানবিকতা তাঁকে মানুষের জীবনে জায়গা করে দেয়। আবীর চট্টোপাধ্যায় সেই জায়গাটিই দখল করে নিয়েছেন, আর জয়া আহসান সেই জায়গাটিকে সম্মান দিয়ে গেছেন এক আন্তরিক বন্ধুর মতো।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত