জার্মানির সামনে কঠিন বিশ্বকাপ চ্যালেঞ্জ

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৭৮ বার
জার্মানি বিশ্বকাপ কঠিন চ্যালেঞ্জ

প্রকাশ: ১০ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বিশ্বকাপের আগমুহূর্তে ফুটবল দুনিয়ার নজর এখন জার্মানির দিকে। টানা দুই বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব থেকে বাদ পড়ার লজ্জা কাটিয়ে এবার নতুন পথচলায় নেমেছে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ২০১৪ সালে বিশ্বকাপ জয়ের পর দীর্ঘ সময় ধরে যে মন্দার মধ্য দিয়ে গেছে জার্মান ফুটবল, তা কাটাতে আগের কোচ জোয়াকিম লোর জায়গায় দায়িত্ব পেয়েছেন জুলিয়ান ন্যাগেলসম্যান। তার অধীনে পরিবর্তন এসেছে দলের খেলার ধরন, পরিকল্পনা এবং কৌশলের নানা জায়গায়। বিশ্বকাপ বাছাইয়ের ছয় ম্যাচের পাঁচটিতে জয় তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে, তবে বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে এবারও জার্মানির সামনে কঠিন পথ অপেক্ষা করছে।

জার্মানির গ্রুপে আছে তিনটি ভিন্ন মহাদেশের প্রতিনিধি—দক্ষিণ আমেরিকার ইকুয়েডর, আফ্রিকার আইভরি কোস্ট এবং প্রথমবার বিশ্বকাপে উঠা ক্যারিবিয়ান দ্বীপ রাষ্ট্র কুরাসাও। যদিও কুরাসাও তুলনামূলক দুর্বল প্রতিপক্ষ, তবে ইকুয়েডর ও আইভরি কোস্ট এমন দুটি দল যাদের বিপক্ষে সামান্য ভুলও জার্মানিকে বড় মূল্য দিতে বাধ্য করতে পারে।

জার্মান কোচ ন্যাগেলসম্যান দায়িত্ব নেওয়ার পর জার্মান স্কোয়াডে টেকনিক্যাল খেলোয়াড়দের গুরুত্ব বেড়েছে। আক্রমণে কাই হাভার্জ, মিডফিল্ডে জামাল মুসিয়ালা এবং অভিজ্ঞ টিমো ওয়ার্নার এখন দলের প্রাণভোমরা। তবে এই খেলোয়াড়দের ধারাবাহিকতা নিয়েই সবচেয়ে বেশি দুশ্চিন্তা রয়েছে সমর্থকদের মাঝে। সাম্প্রতিক ম্যাচগুলোতে তাদের কাছে মাঝেমধ্যেই দেখা গেছে খেলার গতি ধরে রাখতে সমস্যা, মাঝমাঠে বল দখলে স্থিরতা কমে যাওয়া এবং আক্রমণভাগে ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রবণতা। অথচ ন্যাগেলসম্যানের কৌশল উচ্চগতির আক্রমণ ও পজেশনের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। ফলে ছোটখাটো ভুলও বিশ্বমঞ্চে বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে।

অন্যদিকে প্রতিপক্ষ ইকুয়েডর বর্তমানে তাদের ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা ফর্মে আছে। কনমেবল অঞ্চলের বাছাইপর্বে তারা শেষ করেছে দ্বিতীয় স্থানে—যা তাদের সাম্প্রতিক শক্তির পরিচয় বহন করে। শেষ ১৮ ম্যাচে তারা করেছে ১৪ গোল, আর রক্ষণভাগে আছে ইউরোপের তিন শক্তিশালী ক্লাব—পিএসজি, আর্সেনাল ও চেলসির তিন ফুটবলার। উইলিয়ান পাচো, পিয়েরো হিনক্যাপি ও ময়সেস ক্যাইসেডো তাদের রক্ষণকে এতটাই শক্ত করেছে যে প্রতিপক্ষের গোল পাওয়া সহজ হবে না। এমন শক্তিশালী রক্ষণভাগের বিপক্ষে গোল করা যে কোনো দলের জন্যই চ্যালেঞ্জ, আর জার্মানির ক্ষেত্রে তা আরও বেশি কঠিন।

তবে ইকুয়েডর শুধু রক্ষণে নয়, মাঝমাঠেও শক্তিশালী। তাদের খেলার গতি ও শারীরিক সক্ষমতা তুলনামূলক বেশি হওয়ায় ইউরোপীয় দলের বিরুদ্ধে খেলায় তারা প্রায়ই সুবিধা আদায় করে নেয়। তাদের আক্রমণভাগ তুলনামূলক সাধারণ হলেও কৌশলগত ফুটবল তাদের বড় শক্তি। এই দলের বিপক্ষে জার্মানিকে শুধু গোল করাই নয়, পুরো ম্যাচে নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখাটা হবে কঠিন।

অন্যদিকে আইভরি কোস্ট আফ্রিকার ফুটবলে নতুন মুকুট পাওয়া চ্যাম্পিয়ন। ২০২৩ সালের আফ্রিকান নেশন্স কাপ জয়ের পর দলটির আত্মবিশ্বাস আকাশচুম্বী। কোচ এমার্স ফাইয়েকে ঘিরে আফ্রিকার এই দলটি খুঁজে পেয়েছে আক্রমণাত্মক ফুটবলের ছন্দ। বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে দলটি ২৫ গোল করেছে, আশ্চর্যের বিষয়—একটিও গোল হজম করেনি। এই পরিসংখ্যানই বলে দেয় প্রতিপক্ষের ওপর কতটা আধিপত্য বিস্তার করতে পারে তারা।

আইভরি কোস্টের দলে আছে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে খেলা ব্যতিক্রমী প্রতিভা। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের তরুণ আমাদ দিয়োলো, ব্রাইটনে খেলে আলো কাড়া সাইমন আদিনগ্রা এবং অভিজ্ঞ নিকোলাস পেপে—এদের গতিশীল আক্রমণ জার্মান রক্ষণকে বিপদে ফেলতে পারে। তাদের সঙ্গে আছে লাইপজিগের উদীয়মান তারকা ইয়ান ডিয়োমোন্ডে, যিনি আফ্রিকার ফুটবলে নতুন সূর্য হয়ে উঠছেন। এই সব খেলোয়াড়কে সামলানো অবশ্যই কঠিন হবে জার্মানির জন্য।

বাংলাদেশের বড় দুশ্চিন্তা ব্যাটিং

গ্রুপের সবচেয়ে দুর্বল দল কুরাসাও হলেও তাদের হেলাফেলা করার সুযোগ নেই। প্রথমবার বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পাওয়া দেশটির ফুটবলারদের বড় একটি অংশ ইউরোপেই বেড়ে উঠেছেন। তুরস্কে খেলা লিয়ান্দ্রো বাকুনা ও জুনিনহো বাকুনা বহুদিন প্রিমিয়ার লিগেও খেলেছেন। যদিও তারা জন্ম ও বেড়ে উঠেছেন নেদারল্যান্ডসে, কিন্তু জাতীয়তা হিসেবে কুরাসাও বেছে নিয়েছেন। লিয়ান্দ্রো বাকুনা জাতীয় দলে সবচেয়ে অভিজ্ঞ খেলোয়াড়। কুরাসাওয়ের অধিকাংশ ফুটবলারই নেদারল্যান্ডসের বিভিন্ন লিগে খেলে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। এই অভিজ্ঞতার কারণে তাদের খেলা শৃঙ্খলাপূর্ণ, এবং সুযোগ পেলে যে কোনো বড় দলের বিপক্ষে গোল করার ক্ষমতাও রাখে।

তবে বাস্তবতা হলো, এই দলগুলোকে হারাতে গেলে জার্মানিকে নিজের পুরোনো ছায়া ঝেড়ে নতুন করে জন্ম নিতে হবে। তাদের রানিং ফুটবল, তীক্ষ্ণ পাস, স্বচ্ছন্দ রক্ষণ—সবই ফিরিয়ে আনতে হবে আগের শক্তিশালী জার্মান সত্ত্বার কাছে। ভুলের জায়গা এখানে নেই; কারণ এই গ্রুপে ইকুয়েডর ও আইভরি কোস্ট যে কারো জন্য হুমকি হতে পারে।

জার্মানির সামনে চ্যালেঞ্জ তাই কেবল মাঠের প্রতিপক্ষ নয়, বরং নিজেদের নার্ভ ধরে রাখা এবং কোচ ন্যাগেলসম্যানের কৌশলে শতভাগ বিশ্বাস রেখে মাঠে নামা। বিশ্বকাপের এই কঠিন গ্রুপে তারা টিকে থাকতে পারবে কিনা—তা জানতে অপেক্ষায় বিশ্বজুড়ে কোটি ফুটবলপ্রেমী।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত

Theme Dwonload From ThemesBazar.Com