প্রকাশ: ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
বাংলাদেশি তারকা ফুটবলারের মাঠের বাইরে থাকা এবং ক্লাবের আর্থিক শাস্তি—এই দুই দুরসংবাদ একসাথে মিলেছে লিস্টার সিটির জন্য। হামজা চৌধুরীর চোটের কারণে কয়েক সপ্তাহের জন্য মাঠের বাইরে থাকার খবরের এক দিনের মধ্যেই আর্থিক বিধি লঙ্ঘনের দায়ে ক্লাবের ৬ পয়েন্ট কেটে দিয়েছে ইংলিশ ফুটবল লিগ (ইএফএল) কর্তৃপক্ষ। এই দুঃসংবাদ লিস্টার সিটির জন্য আরও উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, কারণ চ্যাম্পিয়নশিপ টেবিলে তাদের অবস্থান ইতিমধ্যেই ঝুঁকিপূর্ণ।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাত্ক্ষণিকভাবে কার্যকর হওয়া এই শাস্তিতে লিস্টার সিটি চ্যাম্পিয়নশিপে ১৭তম স্থানে থাকা অবস্থান থেকে নেমে ২০তম স্থানে চলে গেছে। যদিও গোল পার্থক্যের কারণে তারা আপাতত অবনমন অঞ্চলের ঠিক বাইরে রয়েছে, তবু পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে। দলটি যদি পরবর্তী ম্যাচগুলোতে জয়ের মুখ না দেখে, অবনমন অঞ্চলে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে।
গত মে মাসে প্রিমিয়ার লিগের পক্ষ থেকে লিস্টার সিটির বিরুদ্ধে ‘প্রফিট অ্যান্ড সাসটেইনেবিলিটি রুলস’ (পিএসআর) ভাঙার অভিযোগ আনা হয়। অভিযোগে বলা হয়, ২০২৩-২৪ মৌসুম পর্যন্ত ক্লাবটি আগের তিন অর্থবছরে নির্ধারিত সীমার বেশি আর্থিক ক্ষতিতে পড়েছে। যেহেতু লিস্টার গত মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগ থেকে অবনমন হয়েছিল, অভিযোগটি শেষ পর্যন্ত ইএফএলের অধীনে যায়। পিএসআর বিধি অনুযায়ী ক্লাবটির ক্ষতির পরিমাণের ভিত্তিতে শাস্তি আরোপ করা হয়।
লিস্টার সিটি এই সিদ্ধান্তকে ‘অসামঞ্জস্যপূর্ণ’ ও ‘হতাশাজনক’ বলে উল্লেখ করেছে। ক্লাবের বিবৃতিতে বলা হয়, ‘কমিশনের সিদ্ধান্তে প্রিমিয়ার লিগ যে নজিরবিহীন কঠোর শাস্তি চাইছিল, তার মাত্রা কমেছে। তবে তবুও সুপারিশ যথাযথ নয় এবং আমাদের উপস্থাপিত লঘুকরণমূলক বিষয়গুলো যথেষ্ট গুরুত্ব পায়নি। এই শাস্তি আমাদের মৌসুমের ক্রীড়া লক্ষ্যের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।’ ক্লাবটি জানিয়েছে, তারা পুরো রায় পর্যালোচনা করে সম্ভাব্য আইনি পথ খতিয়ে দেখছে।
পিএসআর অনুযায়ী, প্রিমিয়ার লিগের কোনো ক্লাব তিন বছরে সর্বোচ্চ ১০৫ মিলিয়ন পাউন্ডের বেশি ক্ষতি করতে পারবে না। তবে যদি কোনো ক্লাব শীর্ষ লিগের বাইরে থাকে, তাহলে সীমা ২২ মিলিয়ন পাউন্ড করে কমে যায়। লিস্টারের ক্ষেত্রে ৩০ জুন ২০২৪ পর্যন্ত ক্ষতির পরিমাণ ছিল ১৯.৪ মিলিয়ন পাউন্ড। এর আগে ২০২২-২৩ অর্থবছরে ক্লাবের ক্ষতি ছিল ৮৯.৭ মিলিয়ন পাউন্ড এবং ২০২২ সালের মে পর্যন্ত ১২ মাসে ৯২.৫ মিলিয়ন পাউন্ড। এই হিসাবগুলিতে অবকাঠামো উন্নয়ন বা নারী ফুটবলে বিনিয়োগের মতো ব্যয়কে ‘অ্যাড-ব্যাক’ হিসেবে ধরা হয়নি।
লিস্টার সিটি দাবি করেছিল, তাদের হিসাব ৩৭ মাসের পরিবর্তে ৩৬ মাসের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা উচিত, কারণ ২০২৩-২৪ মৌসুমের হিসাব জমা দিতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছিল। কমিশন এই যুক্তি মেনে নেয়। এতে দেখা যায়, ইএফএলের নির্ধারিত ৮৩ মিলিয়ন পাউন্ড সীমার তুলনায় তারা ২০.৮ মিলিয়ন পাউন্ড বেশি ব্যয় করেছে। নিয়ম অনুযায়ী সর্বোচ্চ ১২ পয়েন্ট কাটা যেতে পারলেও, ‘উন্নত আর্থিক অবস্থান’ বিবেচনায় ক্লাবের শাস্তি ছয় পয়েন্টে সীমিত রাখা হয়েছে।
মাঠের পারফরম্যান্সের দিকেও লিস্টার চাপে রয়েছে। হামজার লিস্টারের চ্যাম্পিয়নশিপে টানা চার ম্যাচে জয়ের মুখ দেখেনি, যার মধ্যে তিনটিতে হেরেছে। জানুয়ারিতে মার্তি সিফুয়েন্তেসকে বরখাস্ত করার পর ক্লাবটি এখনও স্থায়ী প্রধান কোচ নিয়োগ দিতে পারেনি। অন্তর্বর্তীকালীন প্রধান কোচ অ্যান্ডি কিংয়ের নেতৃত্বে লিস্টার শনিবার বার্মিংহাম সিটির মুখোমুখি হবে।
হামজা চৌধুরীর অনুপস্থিতি এবং আর্থিক শাস্তি একসাথে লিস্টার সিটির জন্য চ্যাম্পিয়নশিপে অবনমন নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। যদিও ক্লাব আইনি পথ খুঁজছে এবং শাস্তি নিয়ে আপাতত আপত্তি জানাচ্ছে, মাঠে প্রতিটি ম্যাচে ভালো পারফরম্যান্সই হবে অবনমন এড়িয়ে চলার একমাত্র সম্ভাব্য উপায়। সমর্থকরা আশা করছেন, দলের তরুণ খেলোয়াড়রা এই চাপের মুখোমুখি হয়ে লিস্টার সিটিকে নিরাপদ অবস্থানে ফিরিয়ে আনবে।
এ ঘটনায় ফুটবল বিশ্লেষকরা বলছেন, একটি ক্লাবের অর্থনীতি এবং খেলোয়াড়ের অবস্থার মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকে। খেলোয়াড়ের চোটের কারণে দলের পারফরম্যান্স কমে গেলে আর্থিক চাপ আরও বৃদ্ধি পায়। লিস্টারের জন্য হামজার চোট এবং ৬ পয়েন্টের শাস্তি একসাথে বড় চ্যালেঞ্জ। এখন দলকে প্রয়োজন দৃঢ় নেতৃত্ব, যৌথ মনোবল এবং খেলোয়াড়দের সর্বোচ্চ পারফরম্যান্স। ক্লাবের সমর্থকরা আশাবাদী, দলের অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জের মধ্যেও লিস্টার সিটি অবনমন এড়িয়ে সফলভাবে মৌসুম শেষ করতে পারবে।