প্রকাশ: ১৬ জুলাই’ ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন
বিশ্ববাণিজ্যের পালাবদলে এক নতুন অধ্যায় রচিত হলো যুক্তরাষ্ট্র ও ইন্দোনেশিয়ার মধ্যে। চলমান উত্তেজনা ও শুল্ক আরোপের ঘোষণার মধ্যেই উভয় দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত হলো এক বহুল প্রত্যাশিত বাণিজ্যচুক্তি, যার মাধ্যমে ইন্দোনেশীয় পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্র আরোপিত প্রস্তাবিত ৩২ শতাংশ শুল্ক কমিয়ে ১৯ শতাংশে নামিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) তাঁর মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ এক পোস্টে চুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, “এই চুক্তি কেবল দুই দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষাই করবে না, বরং এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের রপ্তানি বাজারও ব্যাপকভাবে সম্প্রসারিত হবে।”
চুক্তির আওতায় ইন্দোনেশিয়া যুক্তরাষ্ট্র থেকে ১৫ বিলিয়ন ডলারের জ্বালানি, ৪.৫ বিলিয়ন ডলারের কৃষিপণ্য এবং ৫০টি বোয়িং বিমান কিনতে সম্মত হয়েছে। এর বিনিময়ে ইন্দোনেশীয় পণ্যের ওপর পূর্বে ঘোষিত ৩২ শতাংশ শুল্ক হ্রাস করে ১৯ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়। এই সিদ্ধান্তকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একটি ‘উইন-উইন’ সাফল্য হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
চুক্তির আগে গত সপ্তাহেই ট্রাম্প ইন্দোনেশীয় পণ্যের ওপর উচ্চ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়ে আলোচনার আবহ আরও উত্তপ্ত করে তুলেছিলেন। ১ আগস্ট থেকে শুল্ক কার্যকর করার বিষয়টি সে সময় ইন্দোনেশিয়ার অর্থনীতি ও রপ্তানিনির্ভর খাতে এক বড় শঙ্কার বার্তা দেয়। তবে শেষ মুহূর্তের কূটনৈতিক আলাপ এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তোর সরাসরি কথোপকথনের পরিপ্রেক্ষিতে এই সমঝোতায় পৌঁছায় দুই দেশ।
চুক্তিতে ট্রান্সশিপমেন্ট বা তৃতীয় দেশ হয়ে যেসব পণ্য মার্কিন বাজারে প্রবেশ করে, সেগুলোর ওপর ‘উচ্চ শুল্কের বিধান’ অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প। তবে এই নতুন হ্রাসকৃত শুল্ক কার্যকরের নির্দিষ্ট তারিখ এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি।
মার্কিন বাণিজ্য নীতির এই পরিবর্তন শুধু ইন্দোনেশিয়া নয়, বরং বৈশ্বিক বাণিজ্য সম্পর্কেও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিচ্ছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইতিমধ্যেই ব্রিটেন ও ভিয়েতনামের সঙ্গে পৃথক বাণিজ্যচুক্তি করেছেন এবং চীনের সঙ্গে সীমিত পর্যায়ে শুল্ক হ্রাসে সম্মত হয়েছেন। সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানিয়েছেন, ভারতসহ আরও কয়েকটি দেশের সঙ্গে চুক্তির আলোচনাও চলমান রয়েছে। পাশাপাশি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গেও উচ্চপর্যায়ের আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য নীতিতে শুল্ক কেন্দ্রিক কৌশল গ্রহণ করে ওয়াশিংটন বিশ্ববাজারে নিজেদের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে দেশের রপ্তানিকারকদের নতুন বাজারে প্রবেশ নিশ্চিত করাও এর অন্যতম উদ্দেশ্য।
ইন্দোনেশিয়ার মতো উদীয়মান অর্থনীতির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের এই চুক্তি ভবিষ্যতে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্য দেশগুলোকেও নতুন করে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার পথে হাঁটতে উৎসাহিত করতে পারে। তবে চুক্তির বাস্তবায়ন ও শুল্ক হ্রাস কার্যকর হওয়ার সময়কাল এবং তার প্রভাব পর্যবেক্ষণ করাই হবে এখনো বিশ্ববাণিজ্য বিশ্লেষকদের প্রধান আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু।