সোনার বাজারে দর কমেছে, নতুন দাম ঘোষণা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ২৩ বার
আজকের সোনার ভরি দাম বাংলাদেশ

প্রকাশ: ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দেশের বাজারে সোনার দামে সাম্প্রতিক সময়ের একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ঘটেছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) জানিয়েছে, ২২ ক্যারেট সোনার ভরিতে দাম কমে নতুনভাবে দাঁড়িয়েছে দুই লাখ পঞ্চাশ পাঁচ হাজার পাঁচশ’ আটানব্বই টাকা। এটি আগের মূল্যের তুলনায় কমেছে তিন হাজার দুইশ’ ছেষট্টি টাকা। দাম হ্রাসের এই সমন্বয় বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) থেকে কার্যকর করা হয় এবং শুক্রবারও একই মূল্যে বাজারে সোনা বিক্রি হচ্ছে।

বাজারে কমেছে মূলত তেজাবি সোনার (পিওর গোল্ড) দাম। এই পরিবর্তন বিবেচনায় নিয়ে বাজুস দেশের বাজারে সব ধরনের সোনার দাম সমন্বয় করেছে। এ ছাড়া, ভিন্ন ক্যারেটের সোনার দামও নতুনভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে। ২১ ক্যারেট সোনার দাম প্রতি ভরি দুই লাখ তেত্রিশ হাজার নয়শ’ ত্রিশ টাকা, ১৮ ক্যারেটের দাম দুই লাখ নয় হাজার সাতাত্তর টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির সোনার দাম প্রতি ভরি এক লাখ একাত্তর হাজার একশ’ এগারো টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সোনার বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ৫ শতাংশ সরকার নির্ধারিত ভ্যাট এবং বাজুসের ৬ শতাংশ ন্যূনতম মজুরি যোগ করতে হবে। তবে গয়নার ডিজাইন, ওজন ও মানভেদে মজুরি ভিন্ন হতে পারে। অর্থাৎ, গয়না কিনতে গেলে সোনার মূল্যের পাশাপাশি নির্ধারিত ভ্যাট ও মজুরি হিসাব করতে হবে।

রূপার বাজারে কোনো পরিবর্তন ঘটেনি। ২২ ক্যারেট রুপার দাম প্রতি ভরি ৬ হাজার ৩৫৭ টাকা, ২১ ক্যারেটের রুপার দাম ৬ হাজার ৬৫ টাকা এবং ১৮ ক্যারেটের রুপার দাম ৫ হাজার ১৯০ টাকা রাখা হয়েছে। সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি ভরি ৩ হাজার ৯০৭ টাকা।

বাজুসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণ ও রূপার দামের ওঠাপড়া ও দেশি বাজারের চাহিদা ও সরবরাহের ওপর ভিত্তি করে এই নতুন দর নির্ধারণ করা হয়েছে। বিশেষ করে সোনার দাম কমার পেছনে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের ক্রয়-বিক্রয়ের ওঠাপড়া, ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, বিদেশি মুদ্রার স্থিতিশীলতা এবং দেশি বাজারের চাহিদার সঙ্গে সরবরাহের ভারসাম্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

সোনার দাম কমার ফলে বাজারে ক্রেতাদের জন্য স্বর্ণালঙ্কার, বিনিয়োগ ও অন্যান্য উদ্দেশ্যে সোনা ক্রয় সহজ হয়ে এসেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ভরিতে দাম কমে গেলে ছোট ও মাঝারি বিনিয়োগকারীদের জন্য সোনা ক্রয় আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে। একই সঙ্গে সোনার বাজারে স্থিতিশীলতা ও ক্রেতাদের আস্থা বৃদ্ধি পাবে।

বাজার পর্যবেক্ষকরা বলছেন, দেশের সোনার বাজারে দাম ওঠানামার সঙ্গে সঙ্গে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের মনোবলও পরিবর্তিত হয়। তাই বাজুসের নিয়মিত মূল্য সমন্বয় ও বাজার পর্যবেক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এতে বাজারে স্বচ্ছতা বজায় থাকে এবং ক্রেতারা প্রকৃত বাজারমূল্য অনুযায়ী সোনা কিনতে পারেন।

দেশে সোনা ক্রয়-বিক্রয় শুধু বিনিয়োগ নয়, এটি বহু পরিবারের জন্য ঐতিহ্যবাহী ও সাংস্কৃতিক দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে বিবাহ, ধর্মীয় অনুষ্ঠান ও বিভিন্ন সামাজিক উৎসবের সময় সোনা একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হিসেবে বিবেচিত হয়। সোনার দাম কমার ফলে এ ধরনের ক্রয়-বিক্রয় আরও সহজ ও পরিকল্পনামূলকভাবে করা সম্ভব হবে।

অতীতের তুলনায় সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বাজারে সোনার দাম ওঠানামা বেশি দেখা গেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম, মুদ্রার মান, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং স্থানীয় চাহিদা ও সরবরাহের সমন্বয়ই মূল কারণ হিসেবে কাজ করছে। এর ফলে দেশের ক্রেতা ও বিনিয়োগকারীদের জন্য সময়মতো তথ্য থাকা গুরুত্বপূর্ণ।

বাজুসের পক্ষ থেকে ক্রেতাদের সচেতন থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সোনা কিনতে গেলে শুধুমাত্র মূল্য নয়, তার বিশুদ্ধতা, ওজন ও ক্যারেট যাচাই করা জরুরি। এছাড়া নির্ধারিত ভ্যাট ও মজুরি সংযোজন করে সঠিক মূল্যে লেনদেন করতে হবে। এই সতর্কতা ক্রেতাদের আর্থিক নিরাপত্তা ও সঠিক বিনিয়োগ নিশ্চিত করবে।

সাম্প্রতিক এই মূল্য পরিবর্তন দেশের সোনার বাজারে স্থিতিশীলতার চিহ্ন হিসেবেও দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা আশা প্রকাশ করেছেন, দাম সমন্বয় দীর্ঘমেয়াদে বাজারকে আরও কার্যকর ও স্বচ্ছ রাখবে। ক্রেতা ও বিক্রেতাদের মধ্যে বিশ্বাস ও আস্থা বৃদ্ধি পাবে, যা সোনার বাজারকে শক্তিশালী করে তুলবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত