দক্ষিণী তারকা রবি তেজার পিতার প্রয়াণে চলচ্চিত্র অঙ্গনে শোকের ছায়া

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১৬ জুলাই, ২০২৫
  • ৩২ বার
দক্ষিণী তারকা রবি তেজার পিতার প্রয়াণে চলচ্চিত্র অঙ্গনে শোকের ছায়া

প্রকাশ: ১৬ জুলাই’ ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেতা রবি তেজা তার প্রিয় পিতা ভূপাতিরাজু রাজগোপাল রাজুকে হারিয়েছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯০ বছর। মঙ্গলবার, ১৫ জুলাই রাতে হায়দরাবাদে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই প্রাজ্ঞ ব্যক্তি। দীর্ঘদিনের বার্ধক্যজনিত অসুস্থতার সঙ্গে লড়াই শেষে তিনি না ফেরার দেশে পাড়ি জমান।

রাজগোপাল রাজু ছিলেন পেশায় একজন ফার্মাসিস্ট। বহু দশক ধরে নিজ পেশায় নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে গেছেন। জীবনযাপনে ছিলেন অত্যন্ত নিভৃত, প্রচারের আলো থেকে দূরে। তার সন্তান রবি তেজা দক্ষিণী চলচ্চিত্র জগতের এক উজ্জ্বলতম নক্ষত্র হলেও তিনি নিজেকে সবসময় সরিয়ে রেখেছিলেন সেলিব্রিটি পরিচয়ের অতিরিক্ত ভার থেকে। তার স্ত্রী রাজ্যলক্ষ্মীও ছিলেন একইভাবে পর্দার আড়ালে, পরিবার ও নৈতিক মূল্যবোধের বলয়ে নিবিষ্ট। জনসম্মুখে খুব কমই দেখা গেছে এই দম্পতিকে।

একাধিক ভারতীয় গণমাধ্যম, বিশেষ করে ‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’ জানিয়েছে, কর্মসূত্রে রাজগোপাল রাজু জয়পুর, দিল্লি, মুম্বাই ও ভোপালসহ ভারতের বিভিন্ন শহরে বসবাস করেছেন। এসব শহরে দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি পেশাগত নিষ্ঠা ও মানবিক আচরণের জন্য সুপরিচিত ছিলেন।

রবি তেজার পিতার মৃত্যুতে দক্ষিণী ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সহশিল্পী, পরিচালক, প্রযোজক ও ভক্ত-অনুরাগীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোক ও সমবেদনার বার্তা জানিয়ে চলেছেন। অনেকেই স্মরণ করছেন রাজগোপাল রাজুর বিনয়ী জীবনাচরণ ও সাদাসিধে মনোভাব।

রবি তেজা ব্যক্তিজীবনে একাধিক শোক সহ্য করেছেন। কয়েক বছর আগে তিনি হারিয়েছেন তার ভাই ভরত রাজুকে, যিনি এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন। সেই শোক এখনো কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই, পিতৃবিয়োগের বেদনা তাকে আরও একবার স্তব্ধ করে দিয়েছে। তবে এইসব ট্র্যাজেডির মাঝেও তিনি বরাবরের মতোই ব্যক্তিগত যন্ত্রণাকে আড়ালে রেখে পেশাগত দায়িত্ব পালন করে এসেছেন।

উল্লেখ্য, রবি তেজার জন্ম ভূপাতিরাজু রবি শঙ্কর রাজু নামে হলেও নব্বই দশকে তিনি ‘রবি তেজা’ নামেই দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্রে আত্মপ্রকাশ করেন। সহকারী পরিচালক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করে ১৯৯৭ সালে ‘সিন্ধুরাম’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে অভিনয়ে জনপ্রিয়তা লাভ করেন। পরবর্তীতে একের পর এক ব্যবসাসফল ও সমালোচকপ্রশংসিত সিনেমা উপহার দিয়ে দক্ষিণী ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির প্রথম সারির অভিনেতা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন।

বর্তমানে তার পরিবার ও ঘনিষ্ঠজনেরা হায়দরাবাদে শেষকৃত্য আয়োজন নিয়ে ব্যস্ত। অগণিত ভক্ত ও শুভানুধ্যায়ীরা এই ক্ষতির ভার অনুভব করছেন। চলচ্চিত্র অঙ্গনে, বিশেষ করে দক্ষিণী সিনেমায় রাজগোপাল রাজুর মতো একজন নিরহঙ্কার, শ্রদ্ধেয় পিতার প্রস্থান নিঃসন্দেহে এক অপূরণীয় শূন্যতা তৈরি করলো। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, পরবর্তী আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে রবি তেজা আবার কাজে ফিরবেন, তবে পিতার এই শোক তাকে দীর্ঘদিন ছায়ার মতো আচ্ছন্ন করে রাখবে বলেই মনে করছেন তার ঘনিষ্ঠজনেরা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত