সর্বশেষ :
প্রস্তাবিত বাজেটে প্রবাসী কল্যাণ খাতে বরাদ্দ কমায় উদ্বেগ তামাকমুক্ত বাংলাদেশের লক্ষ্য অর্জনে বাধা হতে পারে প্রস্তাবিত বাজেট: বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ নতুন চেয়ারম্যান ও এমডি নিয়োগে গতি ফিরবে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে আদ্-দ্বীন হাসপাতাল নয়, লাইসেন্স বাতিল হয়েছে প্যাথলজি সেন্টারের: স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ব্যাখ্যা খুলনায় গুলিতে নিহত বিএনপি নেতা ঢাকাইয়া রফিক, এলাকায় চাঞ্চল্য বাজেটে ঘাটতি ও ঋণনির্ভরতার ঝুঁকি, সরকারের পরিকল্পনা নিয়ে প্রশ্ন জামায়াতের রাজনৈতিক মামলা প্রত্যাহারে জেলা কমিটি বাজেটে সংস্কার দেখছেন না নাহিদ ইসলাম দেশকে সম্মানে ফেরানোর অঙ্গীকার মঈন খানের চলে গেলেন ব্রাজিলের বিশ্বকাপজয়ী ব্রিতো

কুয়েতে ড্রোন হামলায় ক্ষয়ক্ষতি, উত্তেজনা বাড়ছে

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১০ এপ্রিল, ২০২৬
  • ২২ বার
কুয়েতে ড্রোন হামলায় ক্ষয়ক্ষতি, উত্তেজনা বাড়ছে

প্রকাশ: ১০ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে কুয়েতকে লক্ষ্য করে চালানো ড্রোন হামলার ঘটনায়। দেশটির ভূখণ্ডে একাধিক ড্রোন প্রবেশ করে সামরিক ও কৌশলগত স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কথা জানালেও এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণহানির তথ্য পাওয়া যায়নি বলে নিশ্চিত করেছে কুয়েতের জাতীয় কর্তৃপক্ষ।

কুয়েত ন্যাশনাল গার্ডের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, তাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় ড্রোন হামলা চালানো হয়, যেখানে বিস্ফোরণ ও আঘাতে বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে। তবে দ্রুত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় হওয়ায় বড় ধরনের মানবিক বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে দাবি করা হয়। একই সঙ্গে দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ইউনিট একাধিক ড্রোন ধ্বংস করার কথাও জানিয়েছে, যা আকাশসীমায় অনুপ্রবেশ করেছিল।

সেনাবাহিনীর একটি সূত্র জানিয়েছে, হামলার সময় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দ্রুত সক্রিয় করা হয় এবং শত্রুপক্ষের একাধিক ড্রোন লক্ষ্যবস্তু করার চেষ্টা করা হয়। যদিও কিছু ড্রোন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার কাছাকাছি পৌঁছে আঘাত হানতে সক্ষম হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় সাময়িকভাবে কিছু এলাকায় সতর্কতা জারি করা হয় এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়।

আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা এএফপি জানায়, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতির মাত্র দ্বিতীয় দিনেই এই ধরনের হামলা উপসাগরীয় অঞ্চলে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, চলমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেই এই হামলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

এদিকে, ঘটনার পরপরই ইরানের বিপ্লবী বাহিনী বা আইআরজিসি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে দেওয়া এক বক্তব্যে উপসাগরীয় দেশগুলোতে কোনো ধরনের হামলার সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি অনুযায়ী, ইরান কোনো সামরিক পদক্ষেপ নিলে তা প্রকাশ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়, গোপনে এমন কোনো অভিযান চালানো হয় না।

তবে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ বলছে, সাম্প্রতিক সময়ে উপসাগরীয় অঞ্চলে একের পর এক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনায় আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামো নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ তেল ও গ্যাসভিত্তিক স্থাপনার নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ বাড়ছে।

কুয়েতের সরকার জানিয়েছে, তারা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং আঞ্চলিক মিত্রদের সঙ্গে সমন্বয় করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে। একই সঙ্গে জনগণকে আতঙ্কিত না হয়ে সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উপসাগরীয় অঞ্চলের আকাশসীমা এখন আধুনিক ড্রোন প্রযুক্তির কারণে আরও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কম খরচে পরিচালিত এসব ড্রোন বড় ধরনের ক্ষতি করার সক্ষমতা রাখে, যা প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। কুয়েতে সাম্প্রতিক হামলাটি সেই বাস্তবতাকেই আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।

এ ঘটনায় আন্তর্জাতিক মহলেও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। অনেক দেশই মধ্যপ্রাচ্যে দ্রুত কূটনৈতিক সংলাপের মাধ্যমে উত্তেজনা কমানোর আহ্বান জানিয়েছে। বিশেষ করে জ্বালানি সরবরাহ ও বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, কুয়েতে ড্রোন হামলার ঘটনা শুধু একটি বিচ্ছিন্ন নিরাপত্তা লঙ্ঘন নয়, বরং এটি বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতের সম্ভাবনাকেও ইঙ্গিত দিচ্ছে। ফলে আগামী দিনগুলোতে উপসাগরীয় অঞ্চলের পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে, কুয়েত সরকার জানিয়েছে, তারা কোনো ধরনের আক্রমণকে হালকাভাবে নিচ্ছে না এবং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও আধুনিকায়নের পরিকল্পনাও বিবেচনায় রয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোকে আরও সতর্ক অবস্থানে থাকতে হবে বলে মনে করছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা। কারণ সামান্য ভুল হিসাবও বড় ধরনের সংঘাতে রূপ নিতে পারে, যা শুধু অঞ্চল নয়, বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত