এক মাসে দুইবার এলপিজি দাম বৃদ্ধি

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ১৯ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৭ বার

প্রকাশ: ১৯ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দেশের জ্বালানি বাজারে আবারও অস্থিরতা তৈরি হয়েছে এলপিজির দামের নতুন সমন্বয়ের মাধ্যমে। মাত্র এক মাসের ব্যবধানে দ্বিতীয়বারের মতো বাড়ানো হয়েছে এলপি গ্যাসের মূল্য, যা সরাসরি প্রভাব ফেলছে সাধারণ ভোক্তার দৈনন্দিন জীবনে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৭২৮ টাকা থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৯৪০ টাকায়।

রোববার এক আনুষ্ঠানিক বার্তায় এ তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন। সংস্থাটি জানায়, নতুন এই মূল্য একই দিন সন্ধ্যা থেকেই কার্যকর হবে। ফলে বিকেলের পর থেকেই নতুন দামে এলপিজি কিনতে হচ্ছে গ্রাহকদের।

শুধু গৃহস্থালি গ্যাস নয়, একই সঙ্গে বেড়েছে অটোগ্যাসের দামও। নতুন নির্ধারণ অনুযায়ী প্রতি লিটার অটোগ্যাসের দাম দাঁড়িয়েছে ৮৯ টাকা ৫০ পয়সা, যা মাসের শুরুতে ছিল ৭৯ টাকা ৭৭ পয়সা। ফলে পরিবহন খরচ বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা পরোক্ষভাবে বাজারের অন্যান্য পণ্যের দামেও প্রভাব ফেলতে পারে।

এই মূল্যবৃদ্ধির পেছনে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিকে প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা এবং যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি ঘিরে সংকট পরিস্থিতি এলপিজি পরিবহনে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ। এই রুটে কোনো ধরনের বিঘ্ন ঘটলে তা সরাসরি প্রভাব ফেলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দামে। বর্তমানে ওই অঞ্চলে নিরাপত্তা ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় অনেক জাহাজ বিকল্প পথে চলাচল করছে, ফলে সময় ও খরচ দুটোই বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে।

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে এলপিজি বহনকারী জাহাজের বিমা ব্যয় ও নিরাপত্তা খরচ বেড়েছে। পাশাপাশি বিকল্প উৎস থেকে আমদানির প্রয়োজন হওয়ায় পরিবহন ব্যয়ও বৃদ্ধি পেয়েছে। এসব কারণ বিবেচনায় নিয়ে এলপিজি আমদানির ক্ষেত্রে ট্রেডারের প্রিমিয়াম চার্জ প্রতি মেট্রিক টনে ২৫০ মার্কিন ডলার পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে।

এর আগে এপ্রিল মাসের শুরুতেই এক দফা মূল্যবৃদ্ধি করা হয়েছিল। তখন ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম এক লাফে ৩৮৭ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৭২৮ টাকায় নির্ধারণ করা হয়। সেই ধাক্কা সামাল দেওয়ার আগেই আবারও নতুন করে দাম বাড়ানোয় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।

বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, এলপিজির ওপর নির্ভরশীল শহুরে মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারগুলো সবচেয়ে বেশি চাপের মুখে পড়বে। রান্নার গ্যাসের খরচ বাড়লে মাসিক ব্যয়ের একটি বড় অংশ বেড়ে যায়, যা সামগ্রিক জীবনযাত্রাকে কঠিন করে তোলে।

এদিকে অটোগ্যাসের দাম বাড়ার ফলে পরিবহন খরচও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এতে করে পণ্য পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি পাবে এবং এর প্রভাব পড়বে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের বাজারে। ফলে মূল্যস্ফীতির ওপর নতুন করে চাপ সৃষ্টি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তবে সংশ্লিষ্ট মহল বলছে, আন্তর্জাতিক বাজারের বাস্তবতা বিবেচনা করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল একটি দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে অনেক সময় এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়।

বর্তমান প্রেক্ষাপটে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা। দাম বাড়লেও যাতে এলপিজির সংকট না হয়, সে বিষয়টি নিশ্চিত করাই এখন নীতিনির্ধারকদের প্রধান লক্ষ্য বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সব মিলিয়ে, এক মাসে দুইবার এলপিজির মূল্যবৃদ্ধি দেশের জ্বালানি বাজারে নতুন চাপ তৈরি করেছে। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রভাব থেকে পুরোপুরি মুক্ত থাকা সম্ভব না হলেও, এই চাপ কতটা দীর্ঘস্থায়ী হবে তা নির্ভর করছে বৈশ্বিক পরিস্থিতির ওপর। আপাতত সাধারণ ভোক্তাদের জন্য বাড়তি ব্যয়ের এই বাস্তবতাই হয়ে উঠেছে নতুন চ্যালেঞ্জ।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত