সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির সব মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৩১ বার
সংরক্ষিত নারী আসন বিএনপি

প্রকাশ: ২৩ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) জোটের ৩৬টি মনোনয়নপত্রই বৈধ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনে এই যাচাই-বাছাই কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। দীর্ঘ প্রক্রিয়া শেষে কমিশন জানায়, দাখিল করা মনোনয়নপত্রগুলোর মধ্যে বিএনপি জোটের প্রার্থীদের কাগজপত্র যথাযথ থাকায় সবকটি বৈধ হিসেবে গৃহীত হয়েছে।

ইসির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ, যেখানে প্রার্থীদের দলীয় মনোনয়ন, কাগজপত্রের বৈধতা, স্বাক্ষর এবং প্রয়োজনীয় তথ্যাদি খতিয়ে দেখা হয়। সেই প্রক্রিয়ায় বিএনপি জোটের প্রার্থীরা কোনো ধরনের বড় ধরনের ত্রুটি বা অনিয়ম ছাড়াই উত্তীর্ণ হয়েছেন।

গত সোমবার বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী দলীয়ভাবে ৩৬ জন নারী প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেন। সেই তালিকা অনুযায়ী মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পরই শুরু হয় যাচাই কার্যক্রম। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, যাচাই শেষে কোনো প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল না হওয়ায় বিএনপি জোটের জন্য এটি একটি ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

তবে একই দিনে স্বতন্ত্র জোট মনোনীত এক প্রার্থী সুলতানা জেসমিনের মনোনয়নপত্র প্রাথমিকভাবে গ্রহণ করা হলেও অন্য তিনজন স্বতন্ত্র প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করে কমিশন। বাতিল হওয়া প্রার্থীরা হলেন মাহবুবা রহমান, শারমিন আক্তার এবং মেহেরুন নেছা। কমিশন জানায়, প্রয়োজনীয় নথিপত্রের ঘাটতি ও কিছু আনুষ্ঠানিক ত্রুটির কারণে তাদের মনোনয়ন বৈধতা পায়নি।

নির্বাচন কমিশনের রিটার্নিং কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যাদের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে তারা ২৬ এপ্রিল পর্যন্ত আপিল করার সুযোগ পাবেন। এরপর ২৭ ও ২৮ এপ্রিল আপিল নিষ্পত্তি করা হবে। পুরো প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছ ও আইনানুগভাবে সম্পন্ন করা হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

এদিকে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) মনোনীত প্রার্থী মনিরা শারমিনের মনোনয়নপত্র নিয়েও কিছু জটিলতা তৈরি হয়েছে। তাকে প্রয়োজনীয় নথি জমা দেওয়ার জন্য বৃহস্পতিবার বেলা ১২টা পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছিল বলে জানা যায়। একইসঙ্গে এনসিপির আরেক প্রার্থী নুসরাত তাবাসসুমের মনোনয়নপত্রও বাতিল হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

নির্বাচন কমিশনের সূত্র অনুযায়ী, সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়ন যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়াটি কঠোরভাবে পরিচালিত হচ্ছে যাতে কোনো ধরনের অনিয়ম বা অস্বচ্ছতা না থাকে। কমিশন বলছে, রাজনৈতিক দলগুলোর পাশাপাশি স্বতন্ত্র প্রার্থীদেরও সমানভাবে সুযোগ দেওয়া হচ্ছে, তবে আইন ও বিধি অনুযায়ী যোগ্যতা নিশ্চিত করেই চূড়ান্ত তালিকা প্রস্তুত করা হবে।

ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ তারিখ ছিল ২১ এপ্রিল। এরপর ২২ ও ২৩ এপ্রিল যাচাই-বাছাই অনুষ্ঠিত হয়। বাতিল হওয়া প্রার্থীদের আপিলের সময়সীমা ২৬ এপ্রিল নির্ধারণ করা হয়েছে। আপিল নিষ্পত্তির পর ২৯ এপ্রিল মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন এবং ৩০ এপ্রিল প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে। সবশেষে আগামী ১২ মে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সংরক্ষিত নারী আসনের এই নির্বাচন সংসদের নারী প্রতিনিধিত্ব আরও সুসংহত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে বড় রাজনৈতিক জোটগুলোর প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত হওয়ায় নির্বাচনী প্রক্রিয়া এখন আরও স্পষ্ট হয়েছে। বিএনপি জোটের সব প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ হওয়াকে দলটির জন্য সাংগঠনিকভাবে একটি শক্ত অবস্থান হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

অন্যদিকে, স্বতন্ত্র ও অন্যান্য দলের প্রার্থীদের কিছু মনোনয়ন বাতিল হওয়ায় তাদের জন্য আপিল প্রক্রিয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। অনেক প্রার্থীই এখন আপিলের মাধ্যমে নিজেদের প্রার্থিতা টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখা তাদের প্রধান অগ্রাধিকার। সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন সম্পন্ন হলে সংসদে নারীদের অংশগ্রহণ আরও বাড়বে এবং আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় তাদের ভূমিকা আরও শক্তিশালী হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সব মিলিয়ে আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। দলগুলোর প্রস্তুতি, মনোনয়ন যাচাই এবং চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের মধ্য দিয়ে এখন নির্বাচনী পরিবেশ আরও গতি পেয়েছে। আগামী কয়েক দিন আপিল ও চূড়ান্ত প্রার্থিতা নির্ধারণের দিকেই সবার নজর থাকবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত