নেইমারের গোল, শেষ মুহূর্তে ভাঙল সান্তোসের স্বপ্ন

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ৬ মে, ২০২৬
  • ৪৫ বার
নেইমারের গোল, শেষ মুহূর্তে ভাঙল সান্তোসের স্বপ্ন

প্রকাশ: ৬ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

মাঠের বাইরে বিতর্ক, সমালোচনা আর সম্ভাব্য শাস্তির শঙ্কা—সবকিছুর মাঝেই নিজের পরিচিত ছন্দে ফিরতে চাইলেন ব্রাজিলিয়ান তারকা Neymar Jr.। সাম্প্রতিক সময় সতীর্থকে মারধরের অভিযোগে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা এই ফুটবলার এবার মাঠে গোল করে যেন এক অন্যরকম বার্তা দিলেন—শান্তির, সমঝোতার এবং ফুটবলে ফের মনোযোগ ফেরানোর।

বুধবার (৬ মে) দক্ষিণ আমেরিকার ক্লাব ফুটবলের অন্যতম প্রতিযোগিতা Copa Sudamericana-এ প্যারাগুয়ের দল Club Recoleta-এর বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করেছে ব্রাজিলের ঐতিহ্যবাহী ক্লাব Santos FC। ম্যাচে নেইমারের একটি গোল সত্ত্বেও জয় তুলে নিতে পারেনি তার দল, শেষদিকে গোল হজম করে হারিয়েছে মূল্যবান দুই পয়েন্ট।

এই ম্যাচটি শুধুমাত্র একটি সাধারণ ড্রয়ের গল্প নয়, বরং এটি ছিল একজন তারকার মানসিক দৃঢ়তা, চাপ সামলে ফিরে আসার চেষ্টা এবং দলকে এগিয়ে নেওয়ার লড়াইয়ের প্রতিচ্ছবি। মাঠের বাইরের ঝড়ো পরিস্থিতি সত্ত্বেও নেইমার যে এখনও দলের প্রধান ভরসা, সেটি আবারও প্রমাণ করেছেন তিনি।

ম্যাচের শুরু থেকেই আধিপত্য ছিল সান্তোসের। বল দখলে প্রায় ৬৯ শতাংশ সময় নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখে ব্রাজিলিয়ান ক্লাবটি। একের পর এক আক্রমণ গড়ে তোলে তারা এবং মোট ১৬টি শট নেয়, যার মধ্যে ৪টি লক্ষ্যে ছিল। অন্যদিকে স্বাগতিক রেকোলেতা সুযোগ কম পেলেও আক্রমণে ছিল নিখুঁত, তাদের নেওয়া তিনটি শটই ছিল লক্ষ্যে।

প্রথমার্ধের শেষ দিকে এসে অবশেষে গোলের দেখা পায় সান্তোস। ম্যাচের ৪১ মিনিটে নেইমার প্রতিপক্ষের জালে বল জড়িয়ে দলকে এগিয়ে দেন। সতীর্থের নিখুঁত পাস থেকে গোলটি করেন তিনি। গোলের পর তার উদযাপন ছিল বিশেষভাবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।

গোল করার পর দৌড়ে গিয়ে ডাগআউটে থাকা সতীর্থ Robinho Junior-কে জড়িয়ে ধরেন নেইমার। শুধু তাই নয়, হাস্যরসের ছলে তার গালে হালকা চড় মারেন তিনি। সাম্প্রতিক সময়ে এই সতীর্থকে মারধরের অভিযোগে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন নেইমার। ফলে এই উদযাপন অনেকের কাছেই মনে হয়েছে, এটি ছিল এক ধরনের ‘পাবলিক রিকনসিলিয়েশন’—অর্থাৎ প্রকাশ্যে সম্পর্কের বরফ গলানোর ইঙ্গিত।

মাঠের এই মুহূর্তটি যেন সাম্প্রতিক উত্তেজনা প্রশমনের প্রতীক হয়ে ওঠে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই এটিকে ইতিবাচক বার্তা হিসেবে দেখছেন, যেখানে নেইমার বোঝাতে চেয়েছেন যে দলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব মিটে গেছে এবং এখন সবার লক্ষ্য একটাই—জয়।

তবে ম্যাচের গল্প এখানেই শেষ হয়নি। দ্বিতীয়ার্ধে এগিয়ে থাকার পরও লিড ধরে রাখতে ব্যর্থ হয় সান্তোস। ম্যাচের ৮৬ মিনিটে এসে সমতা ফেরান রেকোলেতার Fernando Galeano। তার গোলেই স্বপ্নভঙ্গ হয় নেইমারদের, যারা জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ার খুব কাছাকাছি চলে গিয়েছিল।

এই ড্রয়ের ফলে গ্রুপ পর্বে সান্তোসের অবস্থা আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। চার ম্যাচ খেলে এখনো জয়ের মুখ দেখেনি দলটি। তিনটি ড্র থেকে সংগ্রহ করেছে মাত্র তিন পয়েন্ট, যা তাদের গ্রুপের তলানিতে রেখেছে। এর আগে এপ্রিল মাসে দুই দলের প্রথম লড়াইটিও ১-১ গোলে ড্র হয়েছিল, সেখানেও গোল করেছিলেন নেইমার।

ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের দিক থেকে অবশ্য নেইমার উজ্জ্বল। চলতি প্রতিযোগিতায় এটি তার দ্বিতীয় গোল, আর সব মিলিয়ে মৌসুমে এখন পর্যন্ত ৯ ম্যাচে করেছেন ৫ গোল ও ৩টি অ্যাসিস্ট। এই পরিসংখ্যান প্রমাণ করে, বিতর্কের মাঝেও তার পারফরম্যান্সে খুব একটা প্রভাব পড়েনি।

তবে দলগত সাফল্য না আসায় সেই উজ্জ্বলতা পুরোপুরি ফুটে উঠছে না। সামনে আরও দুটি ম্যাচ বাকি থাকলেও পরের রাউন্ডে যাওয়ার পথ এখন বেশ কঠিন। Copa Sudamericana-এর নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন সরাসরি পরবর্তী রাউন্ডে যায়, আর রানার্স-আপ দলকে প্লে-অফ খেলতে হয় Copa Libertadores-এর গ্রুপ পর্ব থেকে বাদ পড়া দলের বিপক্ষে।

এই বাস্তবতায় সান্তোসের জন্য বাকি ম্যাচগুলো এখন ‘ডু অর ডাই’ পরিস্থিতির মতো। প্রতিটি ম্যাচে জয় ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই তাদের সামনে। আর এই কঠিন সময়ে দলের প্রধান ভরসা হয়ে উঠেছেন নেইমারই।

রবিনিয়ো জুনিয়রকে এই ম্যাচে শুরু থেকেই খেলানো হয়নি। ম্যাচের একেবারে শেষ মুহূর্তে তাকে বদলি হিসেবে নামানো হয়। সাম্প্রতিক বিতর্কের প্রভাবেই হয়তো কোচ এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে মাঠে নেইমারের আচরণ দেখে মনে হয়েছে, অন্তত তাদের ব্যক্তিগত সম্পর্কের মধ্যে আর কোনো দূরত্ব নেই।

সব মিলিয়ে, এই ম্যাচটি ছিল আবেগ, বিতর্ক, প্রত্যাবর্তন এবং অপূর্ণতার এক মিশ্র গল্প। নেইমারের গোল যেমন দলকে আশা জাগিয়েছে, তেমনি শেষ মুহূর্তের গোল সেই আশায় জল ঢেলে দিয়েছে। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, একজন তারকা কীভাবে চাপ সামলে নিজের খেলায় মনোযোগ ধরে রাখেন—সেই উদাহরণই আবারও তুলে ধরলেন নেইমার।

এখন দেখার বিষয়, বাকি ম্যাচগুলোতে সান্তোস কতটা ঘুরে দাঁড়াতে পারে এবং নেইমার তার নেতৃত্বে দলকে পরবর্তী পর্বে নিতে পারেন কি না। ফুটবল যেমন অনিশ্চয়তার খেলা, তেমনি এখানেও শেষ বাঁশি বাজা পর্যন্ত কিছুই নিশ্চিত নয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত