বালিশ কাণ্ডে বিস্ময়কর মন্তব্য প্রধানমন্ত্রীর

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ৬ মে, ২০২৬
  • ৩৩ বার
বালিশ কাণ্ডে বিস্ময়কর মন্তব্য প্রধানমন্ত্রীর

প্রকাশ: ৬ মে  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রকল্পে আলোচিত ‘বালিশ কাণ্ড’ নিয়ে সরকারি অডিট প্রতিবেদনের নতুন তথ্য আবারও প্রশাসনিক অঙ্গনে আলোচনার ঝড় তুলেছে। দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত এই দুর্নীতির ঘটনা নতুন করে সামনে আসার পর উচ্চপর্যায়ের এক বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে দেওয়া মন্তব্য এখন জনমনে নতুন কৌতূহল সৃষ্টি করেছে।

সরকারি বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার অডিট প্রতিবেদনের অংশ হিসেবে এবার আলোচনায় এসেছে Rooppur Nuclear Power Plant-এর সেই বহুল আলোচিত ‘বালিশ কাণ্ড’। মঙ্গলবার (৫ মে) সচিবালয়ে মহাহিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক দপ্তরের পক্ষ থেকে বিভিন্ন অর্থবছরের অডিট প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়। সেখানে ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রতিবেদনেও এই দুর্নীতির প্রসঙ্গ বিস্তারিতভাবে উঠে আসে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, রূপপুর প্রকল্পের ‘গ্রিন সিটি’ আবাসিক ভবনে আসবাবপত্র ও অন্যান্য সামগ্রী কেনাকাটায় অস্বাভাবিক ব্যয় দেখানো হয়েছিল। বিশেষ করে বালিশ কেনার ক্ষেত্রে প্রতিটি বালিশের দাম ধরা হয়েছিল প্রায় ৫ হাজার ৯৫৭ টাকা, যা নিয়ে তখনই ব্যাপক সমালোচনা তৈরি হয়। একইসঙ্গে বালিশ বহনের জন্য অতিরিক্ত খরচ, বিছানার চাদর, কমফোর্টার এবং অন্যান্য সামগ্রী ক্রয়ের ক্ষেত্রেও বাজারমূল্যের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি ব্যয় দেখানো হয়েছিল বলে অডিট প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

অডিটে আরও বলা হয়, এই প্রকল্পে আবাসিক ভবনের জন্য মোট ১৬৯ কোটি টাকার কেনাকাটায় বিভিন্ন পর্যায়ে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেছে। কমফোর্টারের দাম ধরা হয়েছিল প্রায় ১৬ হাজার ৮০০ টাকা, যেখানে বাজারমূল্য এর তুলনায় অনেক কম। একইভাবে বিদেশি চাদর কেনা হয়েছিল প্রায় ৫ হাজার ৯৩৬ টাকায়, যা বাজারদরের তুলনায় অতিরিক্ত। এসব তথ্য সামনে আসার পরই প্রকল্পটির ব্যয় ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

এই প্রতিবেদন উপস্থাপনের সময় দেশের প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। মহাহিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক মো. নূরুল ইসলাম সরকারের উচ্চপর্যায়ের কাছে বিভিন্ন দফতরের ৩৮টি অডিট রিপোর্ট তুলে ধরেন, যার মধ্যে এই ‘বালিশ কাণ্ড’ অন্যতম আলোচিত অংশ হিসেবে স্থান পায়।

বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে দেওয়া একটি মন্তব্য এখন সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। জানা যায়, প্রতিবেদনটি উপস্থাপনের সময় অতিরিক্ত ব্যয়ের বিষয়টি শুনে সংশ্লিষ্টরা বিস্ময় প্রকাশ করেন। বিশেষ করে প্রতিটি বালিশের দাম এবং আনুষঙ্গিক খরচের অস্বাভাবিক পরিমাণ নিয়ে আলোচনা হলে বিষয়টি হাস্যরস ও বিস্ময়ের মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি করে।

এ সময় মন্তব্যে বলা হয়, এ ধরনের ব্যয় যেন ভবিষ্যতে স্মারক হিসেবে সংরক্ষণ করা হয়। অর্থাৎ, অতীতের এই অনিয়মের উদাহরণ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি শিক্ষা হিসেবে জাদুঘরে রাখা যেতে পারে—এমন ধারণা থেকে এই মন্তব্যটি আসে বলে জানা গেছে।

উল্লেখ্য, এই ‘বালিশ কাণ্ড’ প্রথম আলোচনায় আসে ২০১৯ সালে। তখন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রকল্পের গ্রিন সিটি আবাসিক ভবনের আসবাবপত্র কেনাকাটায় অস্বাভাবিক মূল্য নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়। বিভিন্ন গণমাধ্যম ও তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে আসে, সাধারণ বাজারমূল্যের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি দামে বালিশ, চাদর ও অন্যান্য সামগ্রী কেনা হয়েছিল।

সে সময় প্রতিটি বালিশ কেনা, পরিবহন এবং স্থাপনের খরচ মিলিয়ে আলাদা আলাদা বিল দেখানো হয়েছিল, যা নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়। এই ঘটনা তখন থেকেই “বালিশ কাণ্ড” নামে পরিচিতি পায় এবং দুর্নীতির প্রতীকী উদাহরণ হিসেবে আলোচনায় থাকে।

অর্থনীতিবিদ ও প্রশাসনিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, এই ধরনের ঘটনা শুধু আর্থিক অনিয়মই নয়, বরং সরকারি প্রকল্প ব্যবস্থাপনার দুর্বলতাকেও সামনে আনে। কারণ, বড় বাজেটের প্রকল্পে স্বচ্ছতা নিশ্চিত না হলে অপচয় ও দুর্নীতির সুযোগ বেড়ে যায়।

অডিট রিপোর্ট উপস্থাপনের সময় উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব, অর্থ সচিবসহ সংশ্লিষ্ট দফতরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। তারা জানান, অডিট প্রতিবেদনে যেসব অনিয়ম চিহ্নিত হয়েছে, সেগুলো পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র বাংলাদেশের অন্যতম বড় অবকাঠামো প্রকল্প হলেও এ ধরনের অনিয়ম প্রকল্পের ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। তাই ভবিষ্যতে বড় প্রকল্পগুলোতে কঠোর নজরদারি এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি।

এদিকে সাধারণ মানুষের মধ্যেও বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, একটি বালিশের দাম যদি হাজার হাজার টাকা হয়, তাহলে অন্যান্য সামগ্রীর ক্ষেত্রে কতটা অনিয়ম হতে পারে। আবার অনেকে বিষয়টিকে সরকারি ব্যয়ের অদক্ষ ব্যবস্থাপনার উদাহরণ হিসেবে দেখছেন।

সব মিলিয়ে ‘বালিশ কাণ্ড’ আবারও প্রমাণ করেছে যে, ছোট একটি অনিয়মও সময়ের সঙ্গে বড় আলোচনার জন্ম দিতে পারে। সরকারি অডিট প্রতিবেদনের মাধ্যমে এই ঘটনা আবার সামনে আসায় প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত