প্রকাশ: ০৬ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে দেশের পশুর হাটগুলোতে নিরাপত্তা, শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, কোরবানির পশুর হাটকে কেন্দ্র করে কোথাও চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটলে সঙ্গে সঙ্গে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং কোনো ধরনের অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না।
বুধবার সকালে রাজধানীর অন্যতম বৃহৎ গবাদিপশুর হাট গাবতলী পরিদর্শন শেষে তিনি এসব কথা বলেন। পরিদর্শনকালে তিনি হাটের সার্বিক পরিস্থিতি, পশুর সরবরাহ, ক্রেতা-বিক্রেতার নিরাপত্তা এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা পর্যবেক্ষণ করেন। ঈদকে সামনে রেখে হাটের প্রস্তুতি ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও ইজারাদারদের সঙ্গে তিনি বিস্তারিত আলোচনা করেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, কোরবানির পশু পরিবহন ও হাটকেন্দ্রিক কার্যক্রমে যাতে কোনো ধরনের চাঁদাবাজি বা হয়রানির ঘটনা না ঘটে, সে বিষয়ে সরকার কঠোর নজরদারি বজায় রাখবে। তিনি বলেন, রাস্তাঘাটে পশুবাহী গাড়ি থামিয়ে অবৈধ অর্থ আদায়ের কোনো ঘটনা ঘটলে তাৎক্ষণিকভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যবস্থা নেবে। এ ধরনের অপরাধ কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না বলেও তিনি সতর্ক করেন।
তিনি আরও জানান, কোরবানির পশুর হাটে যানজট নিয়ন্ত্রণ ও জনদুর্ভোগ কমাতে বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। হাটের আশপাশের সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা জোরদার করা হচ্ছে। নির্ধারিত সীমার বাইরে কেউ পশু রাখতে পারবে না বলেও তিনি স্পষ্ট নির্দেশনা দেন। এতে করে হাট এলাকায় শৃঙ্খলা বজায় থাকবে এবং জনসাধারণের চলাচল সহজ হবে।
সরকারি এই প্রতিমন্ত্রী বলেন, ঈদুল আজহা ঘিরে পশুর হাটগুলোতে বিপুল সংখ্যক মানুষের সমাগম ঘটে। ফলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। এ কারণে পুলিশের পাশাপাশি সেনাবাহিনী ও র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) মোতায়েন থাকবে। একই সঙ্গে ইজারাদারদের নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক দলও মাঠে দায়িত্ব পালন করবে, যাতে যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা যায়।
গাবতলী হাট পরিদর্শনের সময় স্থানীয় ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা প্রতিমন্ত্রীর কাছে বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরেন। বিশেষ করে অতিরিক্ত যানজট, পশু পরিবহনে বিভিন্ন স্থানে অনিয়ম এবং কিছু অসাধু চক্রের চাঁদাবাজির অভিযোগ নিয়ে তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেন। প্রতিমন্ত্রী এসব অভিযোগ গুরুত্ব সহকারে শোনেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
প্রতিবছর ঈদুল আজহা ঘিরে দেশের পশুর হাটগুলোতে কোটি কোটি টাকার বাণিজ্য হয়। কিন্তু এর পাশাপাশি কিছু অসাধু চক্রের কারণে পরিবহন পথে চাঁদাবাজি, অতিরিক্ত ফি আদায় এবং নানা ধরনের হয়রানির অভিযোগও উঠে আসে। সরকার এবার এসব অনিয়ম রোধে আগেভাগেই কঠোর বার্তা দিয়েছে, যাতে সাধারণ খামারি ও ব্যবসায়ীরা নির্বিঘ্নে তাদের পশু হাটে আনতে পারেন।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এবারের ঈদে হাট ব্যবস্থাপনা আরও আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ডিজিটাল মনিটরিং সিস্টেম, সিসিটিভি ক্যামেরা এবং বিশেষ টহল টিমের মাধ্যমে পুরো কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা হবে। এতে করে হাটে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হবে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ঈদ মৌসুমে পশুর হাটে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা শুধু প্রশাসনিক বিষয় নয়, বরং এটি একটি সামাজিক দায়িত্বও। কারণ গ্রামীণ অর্থনীতি ও খামারিদের জীবিকা অনেকাংশে এই বাজার ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল। তাই হাটে স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা বজায় থাকলে কৃষক ও খামারিরা সরাসরি উপকৃত হবেন।
এদিকে গাবতলী হাটসহ দেশের অন্যান্য বড় হাটে ইতোমধ্যে পশুর আগমন শুরু হয়েছে। ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, এবার পশুর সরবরাহ ভালো থাকায় বাজার স্থিতিশীল থাকবে। তবে পরিবহন খরচ ও নিরাপত্তা ইস্যু নিয়ে এখনো কিছুটা উদ্বেগ রয়ে গেছে।
প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, সরকার চায় ঈদকে ঘিরে একটি শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ পরিবেশ বজায় থাকুক। সাধারণ মানুষ যেন নির্বিঘ্নে পশু ক্রয় করতে পারে এবং খামারিরা ন্যায্যমূল্য পান, সেটিই সরকারের মূল লক্ষ্য। তিনি সংশ্লিষ্ট সকলকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
সব মিলিয়ে আসন্ন কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে পশুর হাট ব্যবস্থাপনায় সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে। চাঁদাবাজি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করা হয়েছে, যা বাস্তবায়ন হলে হাট ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।