প্রকাশ: ০৬ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের পাঁচটি জেলায় আজ সন্ধ্যার মধ্যে ঝোড়ো হাওয়াসহ বজ্রবৃষ্টির শঙ্কা প্রকাশ করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। পূর্বাভাস অনুযায়ী, এসব এলাকায় ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বয়ে যেতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে। একই সঙ্গে নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে, যাতে সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবেলায় আগাম প্রস্তুতি নেওয়া যায়।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, বুধবার সকাল সাড়ে ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য এই বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বিশেষ করে রংপুর, দিনাজপুর, রাজশাহী, পাবনা ও বগুড়া অঞ্চলের ওপর দিয়ে পশ্চিম অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে শক্তিশালী দমকা হাওয়ার সঙ্গে অস্থায়ীভাবে বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। আবহাওয়াবিদরা বলছেন, এই ধরনের আবহাওয়া সাধারণত মৌসুমি বায়ুর সক্রিয়তার পাশাপাশি স্থানীয় নিম্নচাপ ও তাপমাত্রার তারতম্যের কারণে সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় আবহাওয়া পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে জানা গেছে, দেশের উত্তরাঞ্চলের এসব জেলায় সকাল থেকেই আকাশ আংশিক মেঘলা ছিল এবং দুপুরের পর থেকেই মেঘের ঘনত্ব বাড়তে শুরু করে। বিশেষ করে রংপুর ও দিনাজপুর অঞ্চলে বাতাসের গতিবেগ কিছুটা বাড়তে দেখা গেছে, যা সন্ধ্যার আগেই ঝড়ের রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বজ্রবৃষ্টি চলাকালে খোলা স্থানে অবস্থান না করার জন্য সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। বিশেষ করে কৃষক, শ্রমজীবী এবং খোলা আকাশের নিচে কাজ করা মানুষদের ঝড় শুরু হওয়ার আগেই নিরাপদ স্থানে চলে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে গাছের নিচে আশ্রয় নেওয়া, বৈদ্যুতিক খুঁটি বা তারের কাছাকাছি অবস্থান না করার বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে।
ঝড়ের সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে স্থানীয় প্রশাসনও প্রস্তুতি শুরু করেছে। নদীবন্দর এলাকায় নৌযান চলাচল সাময়িকভাবে সীমিত করা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আবহাওয়ার অবস্থা আরও খারাপ হলে ছোট নৌকা ও মাঝারি নৌযানগুলোকে নিরাপদ স্থানে নোঙর করার নির্দেশ দেওয়া হতে পারে।
উত্তরাঞ্চলের কৃষি অঞ্চলে এই ধরনের ঝড়ের পূর্বাভাসকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন স্থানীয় কৃষকরা। বর্তমানে অনেক এলাকায় বোরো ধান ও অন্যান্য ফসল মাঠে রয়েছে। আকস্মিক ঝড় ও বজ্রবৃষ্টিতে ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা থাকায় কৃষকদের দ্রুত ফসল নিরাপদে আনার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বজ্রপাতের ঝুঁকিও এই সময় তুলনামূলকভাবে বেশি থাকে, যা গ্রামীণ এলাকায় প্রাণহানির কারণ হতে পারে।
রাজশাহী ও পাবনা অঞ্চলে ইতিমধ্যেই স্থানীয় প্রশাসন মাইকিংয়ের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে সতর্ক করছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ঝড়ের সময় বাতাসের গতি ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে, যা সাধারণ স্থাপনা ও বিদ্যুৎ লাইনের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। তাই বিদ্যুৎ বিভাগকেও সতর্ক অবস্থানে রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে।
আবহাওয়াবিদরা বলছেন, এ ধরনের দমকা হাওয়া সাধারণত স্বল্প সময় স্থায়ী হলেও এর তীব্রতা অনেক বেশি হতে পারে। বিশেষ করে বিকেলের পর থেকে সন্ধ্যার মধ্যে এই ঝড়ের প্রবণতা বেশি থাকে। ফলে স্কুল-কলেজ ফেরত শিক্ষার্থী ও কর্মজীবী মানুষের জন্যও সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আবহাওয়ার এই সতর্কতা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই নিজেদের এলাকায় আকাশের পরিবর্তন ও বাতাসের গতি বেড়ে যাওয়ার তথ্য শেয়ার করছেন। সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এ ধরনের আকস্মিক ঝড় ও বজ্রবৃষ্টির প্রবণতা বেড়ে গেছে। আগে যেখানে নির্দিষ্ট মৌসুমে এই ধরনের আবহাওয়া দেখা যেত, এখন তা প্রায়ই অনিয়মিতভাবে বিভিন্ন অঞ্চলে দেখা যাচ্ছে। এতে কৃষি, যোগাযোগ এবং জনজীবনে বাড়তি চাপ সৃষ্টি হচ্ছে।
সার্বিকভাবে বলা যায়, দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের পাঁচ জেলায় আজকের বিকেল ও সন্ধ্যা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পার করতে হবে। আবহাওয়া স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত নদীপথে চলাচল, খোলা আকাশের নিচে কাজ এবং অপ্রয়োজনীয় বাইরে বের হওয়া থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রশাসনও পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বলে জানানো হয়েছে।