প্রকাশ: ০৬ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নির্বিঘ্ন ও স্বস্তিদায়ক করতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। যাত্রীচাপ সামাল দিতে এবার ১০ জোড়া স্পেশাল ট্রেন পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গত ৩০ এপ্রিল অনুষ্ঠিত রেলওয়ের এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়। ঈদ মৌসুমে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষের বাড়ি ফেরা ও আবার কর্মস্থলে ফেরা সহজ করতে এই বিশেষ ট্রেনগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ঈদকে সামনে রেখে প্রতি বছরই বাংলাদেশ রেলওয়ে অতিরিক্ত ট্রেন পরিচালনা করে থাকে। তবে এবারের পরিকল্পনা আরও সুসংগঠিত ও সময়ভিত্তিক করা হয়েছে, যাতে যাত্রীদের ভোগান্তি কমে এবং নির্দিষ্ট রুটে অতিরিক্ত চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চল ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের রুটগুলোতে যাত্রীদের চাপ তুলনামূলকভাবে বেশি থাকে বলে এই রুটগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
রেলওয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, চট্টগ্রাম-চাঁদপুর-চট্টগ্রাম রুটে দুটি স্পেশাল ট্রেন চলবে। চাঁদপুর ঈদ স্পেশাল-১ চট্টগ্রাম থেকে বিকেল সাড়ে ৩টায় যাত্রা শুরু করে রাত ৮টা ২০ মিনিটে চাঁদপুরে পৌঁছাবে। একইভাবে চাঁদপুর ঈদ স্পেশাল-২ চাঁদপুর থেকে বিকেল ৪টায় ছেড়ে পরদিন সকাল ৮টা ৫০ মিনিটে চট্টগ্রামে পৌঁছাবে। এই রুটে যাত্রীদের চাপ বিবেচনায় সময়সূচি এমনভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে যাতে রাতে ও দিনে উভয় সময়েই যাত্রার সুযোগ থাকে।
রাজধানী ঢাকা থেকে দেওয়ানগঞ্জ রুটেও দুটি স্পেশাল ট্রেন চলবে, যা তিস্তা স্পেশাল নামে পরিচিত। তিস্তা স্পেশাল-৩ সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে ঢাকা থেকে ছেড়ে বিকেল ৪টা ১০ মিনিটে দেওয়ানগঞ্জে পৌঁছাবে। অপরদিকে তিস্তা স্পেশাল-৪ দেওয়ানগঞ্জ থেকে বিকেল ৪টা ৩০ মিনিটে ছেড়ে রাত ১১টা ২০ মিনিটে ঢাকায় ফিরবে। উত্তরাঞ্চলের এই রুটটি ঈদ মৌসুমে অন্যতম ব্যস্ত রুট হিসেবে বিবেচিত হওয়ায় এখানে বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে।
ভৈরববাজার ও কিশোরগঞ্জ রুটেও শোলাকিয়া ঈদ স্পেশাল ট্রেন চলাচল করবে। এই রুটে দুটি ট্রেন নির্ধারিত হয়েছে, যেখানে শোলাকিয়া ঈদ স্পেশাল-৫ ভৈরববাজার থেকে সকাল ৬টায় যাত্রা শুরু করে সকাল ৮টায় কিশোরগঞ্জে পৌঁছাবে। অপরদিকে শোলাকিয়া ঈদ স্পেশাল-৬ কিশোরগঞ্জ থেকে দুপুর ১২টায় ছেড়ে দুপুর ২টায় ভৈরববাজারে পৌঁছাবে। এই রুটে মূলত স্থানীয় ও আঞ্চলিক যাত্রীদের চাপ সামাল দেওয়াই প্রধান লক্ষ্য।
একইভাবে ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ-ময়মনসিংহ রুটেও শোলাকিয়া ঈদ স্পেশাল ট্রেন চলবে। শোলাকিয়া ঈদ স্পেশাল-৭ ভোর ৫টা ৪৫ মিনিটে ময়মনসিংহ থেকে ছেড়ে সকাল ৮টা ৩০ মিনিটে কিশোরগঞ্জে পৌঁছাবে। আবার শোলাকিয়া ঈদ স্পেশাল-৮ কিশোরগঞ্জ থেকে দুপুর ১২টায় ছেড়ে বেলা ৩টায় ময়মনসিংহে পৌঁছাবে। এই রুটটি ঈদগাহ ও গ্রামীণ যাত্রার জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে প্রতি বছর।
উত্তরাঞ্চলের জয়দেবপুর ও পার্বতীপুর রুটেও স্পেশাল ট্রেন চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা পার্বতীপুর ঈদ স্পেশাল নামে পরিচালিত হবে। পার্বতীপুর ঈদ স্পেশাল-৯ জয়দেবপুর থেকে সকাল ৭টায় যাত্রা শুরু করে রাত ২টায় পার্বতীপুরে পৌঁছাবে। অন্যদিকে পার্বতীপুর ঈদ স্পেশাল-১০ পার্বতীপুর থেকে সকাল সোয়া ৮টায় ছেড়ে বেলা ২টা ২০ মিনিটে জয়দেবপুরে পৌঁছাবে। দীর্ঘ রুট হওয়ায় এই ট্রেনগুলোতে রাতভর যাত্রার সুবিধা থাকবে।
রেলওয়ের সময়সূচি অনুযায়ী, চাঁদপুর ও তিস্তা স্পেশাল ট্রেনগুলো আগামী ২৫ মে থেকে ঈদের আগের দিন পর্যন্ত চলবে। একইসঙ্গে ঈদের পর দ্বিতীয় দিন থেকে পরবর্তী তিন দিন অর্থাৎ ১ জুন পর্যন্ত এসব ট্রেন চালু থাকবে। তবে ঈদের তারিখ পরিবর্তন হলে সময়সূচিতেও সামান্য পরিবর্তন আনা হতে পারে বলে রেলওয়ে সূত্র জানিয়েছে।
অন্যদিকে পার্বতীপুর ঈদ স্পেশাল ট্রেনগুলো ঈদের আগে ২৪ মে থেকে ২৬ মে পর্যন্ত এবং ঈদের পরের দিন থেকে আরও তিন দিন চলবে। এই রুটে দীর্ঘ দূরত্বের যাত্রীদের জন্য অতিরিক্ত সুবিধা নিশ্চিত করা হচ্ছে। শোলাকিয়া ঈদ স্পেশাল ট্রেনগুলো শুধুমাত্র ঈদের দিন চালু থাকবে, যা মূলত স্থানীয় যাত্রী ও ঈদগাহে আগত দর্শনার্থীদের জন্য বিশেষভাবে পরিকল্পিত।
বাংলাদেশ রেলওয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, ঈদযাত্রায় নিরাপত্তা, সময়ানুবর্তিতা এবং যাত্রীসেবার মান উন্নত করাই তাদের প্রধান লক্ষ্য। অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার টিকিট ব্যবস্থাপনা, ট্রেন পরিচালনা এবং স্টেশন ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর করা হয়েছে। বিশেষ করে অনলাইন টিকিটিং সিস্টেম এবং স্টেশনে অতিরিক্ত কর্মী নিয়োগের মাধ্যমে যাত্রী চাপ নিয়ন্ত্রণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
ঈদযাত্রা ঘিরে প্রতি বছরই দেশের মহাসড়ক ও নৌপথে ব্যাপক চাপ তৈরি হয়। সেই তুলনায় রেলপথ অনেক বেশি নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক হিসেবে বিবেচিত হয়। তাই এবারের ১০ জোড়া স্পেশাল ট্রেন ঈদযাত্রাকে আরও সহজ করবে বলে যাত্রীদের প্রত্যাশা।
বিশ্লেষকদের মতে, ঈদ মৌসুমে এই ধরনের উদ্যোগ শুধু যাত্রীসেবা নয়, বরং দেশের অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিশেষ করে দূরবর্তী অঞ্চলের মানুষের জন্য এটি বড় স্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
সব মিলিয়ে বলা যায়, আসন্ন ঈদুল আজহায় বাংলাদেশ রেলওয়ের এই বিশেষ পরিকল্পনা যাত্রীদের যাত্রা আরও নিরাপদ, আরামদায়ক এবং সময়োপযোগী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।