প্রকাশ: ০৬ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
দেশের বাজারে আবারও বাড়ানো হয়েছে স্বর্ণের দাম। এক দফা সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রতি ভরিতে স্বর্ণের নতুন দর নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। আন্তর্জাতিক বাজারে তেজাবি স্বর্ণের দাম বৃদ্ধি এবং স্থানীয় বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় এনে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।
বুধবার (৬ মে) সকালে বাজুসের পক্ষ থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে নতুন দামের বিষয়টি জানানো হয়। এতে বলা হয়, বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামের ওঠানামা এবং আমদানি ব্যয়ের পরিবর্তনের কারণে স্থানীয় বাজারে স্বর্ণের মূল্য পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৪২ হাজার ৪৯৫ টাকা, যা আগের তুলনায় প্রতি ভরিতে ২ হাজার ১৫৮ টাকা বেশি। একই সঙ্গে ২১ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৩১ হাজার ৪৭২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৯৮ হাজার ৪০৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৬১ হাজার ৬০৫ টাকা।
বাজুস জানায়, আন্তর্জাতিক বাজারে তেজাবি স্বর্ণের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশের বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে। ফলে বাধ্য হয়েই এই সমন্বয় করা হয়েছে। সংগঠনটি আরও জানায়, স্বর্ণের দাম নির্ধারণ একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া, যা আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে করা হয়।
এর আগে চলতি মাসের ৫ মে বাজুস স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল। ওই সময় প্রতি ভরিতে ২ হাজার ১৫৮ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৪০ হাজার ৩৩৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। অর্থাৎ মাত্র একদিনের ব্যবধানে আবারও মূল্য পরিবর্তন হওয়ায় বাজারে অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা, মুদ্রাস্ফীতি এবং ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম প্রায়ই ওঠানামা করছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে বাংলাদেশের বাজারেও। ফলে ভোক্তা ও ব্যবসায়ীরা প্রায়ই নতুন দামের সঙ্গে মানিয়ে নিতে সমস্যায় পড়ছেন।
স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা জানান, ঘন ঘন দাম পরিবর্তনের কারণে ক্রেতাদের মধ্যে কিছুটা দ্বিধা তৈরি হচ্ছে। অনেকেই অপেক্ষা করছেন দাম আরও কমবে কি না। আবার কেউ কেউ প্রয়োজনীয় কেনাকাটা দ্রুত সেরে নিচ্ছেন, কারণ ভবিষ্যতে দাম আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বর্ণের বাজারে এমন ঘন ঘন পরিবর্তন অর্থনীতির জন্য স্বাভাবিক হলেও সাধারণ ক্রেতাদের জন্য এটি চাপ সৃষ্টি করে। বিশেষ করে বিয়ে ও সামাজিক অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে স্বর্ণ কেনা মানুষের জন্য এটি বড় ধরনের আর্থিক সিদ্ধান্ত হয়ে দাঁড়ায়।
বাজুসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত দেশে স্বর্ণের দাম মোট ৬২ বার সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩৪ বার দাম বেড়েছে এবং ২৮ বার কমেছে। গত বছর ২০২৫ সালে মোট ৯৩ বার দাম সমন্বয় করা হয়েছিল, যেখানে অধিকাংশ সময় দাম বৃদ্ধির প্রবণতা বেশি ছিল।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বৈশ্বিক বাজারে অনিশ্চয়তা অব্যাহত থাকলে স্বর্ণের দাম স্থিতিশীল হওয়া কঠিন হবে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি, আন্তর্জাতিক মুদ্রাবাজার এবং ডলারের মান পরিবর্তনের কারণে স্বর্ণের বাজার আরও অস্থির হতে পারে।
ক্রেতাদের একাংশ বলছেন, স্বর্ণের দাম এত ঘন ঘন পরিবর্তন হওয়ায় ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কেউ কেউ মনে করছেন, সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত বাজারে স্থিতিশীলতা আনার জন্য আরও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
তবে জুয়েলারি ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, শিগগিরই বাজার কিছুটা স্থিতিশীল হবে এবং ক্রেতাদের আস্থা ফিরে আসবে। তারা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে স্থিতিশীলতা এলে দেশের বাজারেও স্বর্ণের দাম স্থির হতে পারে।
সব মিলিয়ে আবারও স্বর্ণের দাম বৃদ্ধির এই সিদ্ধান্ত সাধারণ মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। একদিকে প্রয়োজনীয় খরচ বাড়ছে, অন্যদিকে ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা বাজারে নতুন চাপ তৈরি করছে।