প্রকাশ: ৬ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
গোপালগঞ্জে শিশু সন্তানের সামনে এক গৃহবধূকে ধর্ষণের মতো নৃশংস ঘটনায় পলাতক আসামি হাফিজ মোল্যা (৩৫)কে রাজধানী ঢাকা থেকে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। দীর্ঘ অনুসন্ধান ও গোয়েন্দা নজরদারির পর রাজধানীর পল্লবী এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয় বলে নিশ্চিত করেছে র্যাব।
মঙ্গলবার (৫ মে) রাত সাড়ে ৮টার দিকে র্যাব-৬ ও র্যাব-১ এর একটি যৌথ দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে। পরে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে আইনগত প্রক্রিয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়।
গ্রেফতার হওয়া হাফিজ মোল্যা গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানী উপজেলার বড় বাহিরবাগ গ্রামের আবুল মোল্যার ছেলে। ঘটনার পর থেকে তিনি আত্মগোপনে ছিলেন এবং বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান পরিবর্তন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়িয়ে চলার চেষ্টা করছিলেন বলে জানা গেছে।
র্যাব-৬ এর ভাটিয়াপাড়া ক্যাম্প সূত্র জানায়, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে নিশ্চিত হওয়া যায় যে অভিযুক্ত ব্যক্তি ঢাকার পল্লবী থানার সেকশন-১১ এলাকায় অবস্থান করছে। পরে র্যাব-৬ ও র্যাব-১ এর যৌথ টিম আলম সুপার মার্কেটের সামনে অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেফতার করে।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন ভাটিয়াপাড়া র্যাব ক্যাম্পের কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এস এম রেজাউল হক এবং র্যাব-১ এর মেজর রবিউল আলম ও সহকারী পুলিশ সুপার মো. শহিদুল্লাহ। তারা জানান, অভিযুক্তকে গ্রেফতারের পর প্রাথমিক যাচাই-বাছাই শেষে তাকে আইনগত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বিমানবন্দর থানায় হস্তান্তর করা হয়। সেখান থেকে পরবর্তীতে তাকে গোপালগঞ্জ জেলা পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হবে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৬ এপ্রিল গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী এলাকায় ভয়াবহ এই ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী গৃহবধূ তার দুই বছর বয়সী সন্তানকে নিয়ে বাবার বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। গভীর রাতে শিশুটিকে প্রস্রাব করানোর জন্য তিনি ঘরের বাইরে বের হন। সেই সুযোগে প্রতিবেশী হাফিজ মোল্যা তাকে জোরপূর্বক ধরে নিয়ে যান এবং বসতঘরের ভেতরে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ করা হয়।
ঘটনার সময় ভুক্তভোগীর চিৎকার ও কান্নার শব্দ শুনে তার ভাসুরের ছেলে ও আশপাশের প্রতিবেশীরা এগিয়ে এলে অভিযুক্ত ব্যক্তি দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের সহায়তায় কাশিয়ানী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়।
মামলা দায়েরের পর থেকেই অভিযুক্ত হাফিজ মোল্যা আত্মগোপনে চলে যান এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান শুরু হয়। দীর্ঘ অনুসন্ধান শেষে অবশেষে তাকে রাজধানী ঢাকা থেকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়।
র্যাব কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এ ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না এবং পলাতক আসামিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে। তারা আরও জানান, যৌথ অভিযানের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন স্থানে অপরাধীদের অবস্থান শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া অব্যাহত থাকবে।
এদিকে ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়রা জানান, এ ধরনের নৃশংস ঘটনা সমাজে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে শিশু সন্তানের সামনে এমন অপরাধ সংঘটিত হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
নারী ও শিশু অধিকারকর্মীরা বলছেন, এ ধরনের ঘটনার দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা জরুরি। তাদের মতে, অপরাধীদের দ্রুত শাস্তির আওতায় আনতে না পারলে সমাজে এর নেতিবাচক প্রভাব আরও বাড়বে। একই সঙ্গে ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা ও মানসিক সহায়তা নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, মামলাটি এখন তদন্তাধীন রয়েছে এবং পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হবে। তারা আশা করছেন, আদালতের মাধ্যমে যথাযথ শাস্তি নিশ্চিত হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ কমে আসবে।
সব মিলিয়ে গোপালগঞ্জের এই ঘটনা শুধু একটি অপরাধ নয়, বরং সমাজের নিরাপত্তা ও নৈতিকতার প্রশ্নকে নতুন করে সামনে এনেছে। র্যাবের দ্রুত অভিযান ও গ্রেফতার প্রক্রিয়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সক্রিয়তার একটি উদাহরণ হিসেবে দেখা হলেও, ভুক্তভোগী পরিবার এখনো গভীর মানসিক কষ্টের মধ্যে রয়েছে বলে জানা গেছে।