বিশ্ববাজারে সোনার দর আরও কমলো, চাপে বিনিয়োগকারীরা

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২৬ জুন, ২০২৬
  • ৬ বার

প্রকাশ: ২৬ জুন ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

আন্তর্জাতিক বাজারে টানা দরপতনের ধারাবাহিকতায় আবারও কমেছে সোনার দাম। শক্তিশালী মার্কিন ডলার, যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের সম্ভাব্য কঠোর মুদ্রানীতি এবং উচ্চ সুদের হারের প্রত্যাশায় বিশ্ববাজারে মূল্যবান এই ধাতুর ওপর বিক্রির চাপ আরও বেড়েছে। ফলে টানা চতুর্থ সপ্তাহের মতো সোনার বাজারে নেতিবাচক প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে।

শুক্রবার (২৬ জুন) আন্তর্জাতিক স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স সোনার দাম ০ দশমিক ৬ শতাংশ কমে ৪ হাজার ২ দশমিক ৭৭ মার্কিন ডলারে নেমে আসে। একই সময়ে আগস্ট ডেলিভারির মার্কিন গোল্ড ফিউচারসের দাম ০ দশমিক ৭ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৭ দশমিক ৩০ ডলারে দাঁড়ায়। সপ্তাহজুড়ে সোনার মূল্য প্রায় ৩ দশমিক ৮ শতাংশ কমেছে, যা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, চলমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আরও কঠোর অবস্থান নিতে পারে—এমন প্রত্যাশাই সোনার বাজারে সবচেয়ে বড় প্রভাব ফেলছে। সুদের হার বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হলে সাধারণত মার্কিন ডলারের মূল্য বৃদ্ধি পায় এবং নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে পরিচিত সোনার প্রতি চাহিদা কিছুটা কমে যায়। কারণ, ডলার শক্তিশালী হলে অন্যান্য দেশের বিনিয়োগকারীদের জন্য একই পরিমাণ সোনা কিনতে তুলনামূলক বেশি অর্থ ব্যয় করতে হয়।

বিশ্লেষকরা বলছেন, সুদের হার বৃদ্ধি মানেই সুদবিহীন সম্পদ হিসেবে সোনার আকর্ষণ কিছুটা কমে যাওয়া। বিনিয়োগকারীরা তখন তুলনামূলক বেশি মুনাফা পাওয়া যায় এমন সুদভিত্তিক সম্পদের দিকে ঝুঁকে পড়েন। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে আন্তর্জাতিক সোনার বাজারে এবং দাম নিম্নমুখী হতে থাকে।

আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ওএএনডিএ-এর জ্যেষ্ঠ বাজার বিশ্লেষক কেলভিন ওং বলেছেন, ফেডের সম্ভাব্য কঠোর মুদ্রানীতিকে কেন্দ্র করে বাজারে দ্রুত মূল্য সমন্বয় ঘটছে। এর ফলে মার্কিন ডলারের শক্তিশালী ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা তৈরি হয়েছে এবং সেটিই বর্তমানে সোনার দামের ওপর সবচেয়ে বড় চাপ সৃষ্টি করছে।

তিনি আরও জানান, চলতি বছরের শুরুতে সর্বোচ্চ রেকর্ড গড়ার পর থেকেই সোনার বাজারে দীর্ঘমেয়াদি সংশোধন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এই ধারা অব্যাহত থাকলে আগামী মাসগুলোতে প্রতি আউন্স সোনার দাম ৩ হাজার ৪০০ ডলারের কাছাকাছি নেমে আসার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ২৯ জানুয়ারি আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম সর্বোচ্চ ৫ হাজার ৫৯৪ দশমিক ৮২ ডলারে পৌঁছেছিল। এরপর থেকে ধারাবাহিকভাবে দর কমতে শুরু করে এবং এখন পর্যন্ত প্রায় ২৯ শতাংশ মূল্য হারিয়েছে মূল্যবান এই ধাতু। সাম্প্রতিক এই দরপতন গত কয়েক মাসের মধ্যে সবচেয়ে বড় সংশোধন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, বৈশ্বিক আর্থিক বাজারে অনিশ্চয়তা, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক সূচকের উন্নতি এবং ডলারের শক্তিশালী অবস্থান অব্যাহত থাকলে স্বল্পমেয়াদে সোনার বাজারে চাপ বজায় থাকতে পারে। তবে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, মুদ্রাস্ফীতির নতুন ঝুঁকি কিংবা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে ধীরগতির মতো পরিস্থিতি তৈরি হলে আবারও নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে সোনার চাহিদা বাড়তে পারে। সে ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য পুনরুদ্ধারের সুযোগও তৈরি হতে পারে।

বাংলাদেশের স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দর কমলেও দেশের বাজারে এর প্রভাব তাৎক্ষণিকভাবে পড়ে না। কারণ স্থানীয় বাজারে আন্তর্জাতিক মূল্য ছাড়াও আমদানি ব্যয়, শুল্ক, কর, ডলারের বিনিময় হার এবং বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বাজুস) নির্ধারিত মূল্যসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হয়। ফলে বিশ্ববাজারে দর কমলেও দেশের বাজারে সোনার দাম সমন্বয় হতে কিছুটা সময় লাগতে পারে।

বিশ্ব অর্থনীতির বর্তমান বাস্তবতায় বিনিয়োগকারীদের নজর এখন ফেডারেল রিজার্ভের পরবর্তী নীতিগত সিদ্ধান্ত, যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতির তথ্য এবং ডলারের গতিপ্রকৃতির দিকে। এসব সূচকের ওপরই আগামী সপ্তাহগুলোতে আন্তর্জাতিক সোনার বাজারের দিকনির্দেশনা অনেকাংশে নির্ভর করবে বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত