ঢামেকে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬
  • ৫ বার
ঢামেকে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের (ঢামেক) ৮০ বছর পূর্তি এবং ৮১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দেশের অন্যতম প্রাচীন ও বৃহত্তম চিকিৎসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানকে ঘিরে শনিবার সকাল থেকেই উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করে। চিকিৎসক, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং আমন্ত্রিত অতিথিদের উপস্থিতিতে দিনটি পরিণত হয় একটি বিশেষ আয়োজনে।

শনিবার (১১ জুলাই) সকাল সোয়া ১০টার দিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ ক্যাম্পাসে পৌঁছে প্রধানমন্ত্রী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। এ সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান। অনুষ্ঠানের শুরুতেই পরিবেশ সংরক্ষণ, স্বাস্থ্যসম্মত ক্যাম্পাস গড়ে তোলা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সবুজ বাংলাদেশ নির্মাণের প্রতীকী বার্তা হিসেবে বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ বাংলাদেশের চিকিৎসা শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। দীর্ঘ আট দশকের পথচলায় অসংখ্য চিকিৎসক, গবেষক ও স্বাস্থ্যসেবা পেশাজীবী গড়ে তোলার ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটির ভূমিকা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। সেই ঐতিহ্যকে সামনে রেখেই এবারের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আয়োজন করা হয়েছে নানা কর্মসূচির মাধ্যমে। বৃক্ষরোপণের পাশাপাশি রয়েছে অবকাঠামো উন্নয়ন, আলোচনা সভা এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা ঘোষণা।

প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ‘২০ হোস্টেল প্রকল্প’-এর আওতায় দুটি নতুন ছাত্রী হোস্টেলের নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, নতুন আবাসিক ভবন নির্মিত হলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে চিকিৎসাশাস্ত্র অধ্যয়ন করতে আসা শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট অনেকটাই লাঘব হবে। আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন এসব হোস্টেল শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত আবাসনের পরিবেশ নিশ্চিত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী পরবর্তীতে আলোচনা সভায় অংশ নেন। সেখানে চিকিৎসা শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবার আধুনিকায়ন, গবেষণার প্রসার এবং সরকারি স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়ন নিয়ে বিভিন্ন বিষয় উঠে আসে। স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর, প্রযুক্তিনির্ভর এবং জনবান্ধব করে তুলতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েও আলোচনা হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত শিক্ষক ও চিকিৎসকরা বলেন, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়, বরং দেশের চিকিৎসাব্যবস্থার অন্যতম প্রধান ভিত্তি। এখানকার শিক্ষার্থী ও চিকিৎসকেরা জাতীয় বিভিন্ন সংকট, দুর্যোগ এবং মহামারির সময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তাই প্রতিষ্ঠানটির অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং শিক্ষার পরিবেশ আরও সমৃদ্ধ করা সময়ের দাবি।

প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে কয়েক দিন ধরেই ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ ক্যাম্পাসে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়। ক্যাম্পাসের বিভিন্ন ভবন, প্রবেশপথ ও অনুষ্ঠানস্থল সাজানো হয় বর্ণিল সাজে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেন। পাশাপাশি অনুষ্ঠানস্থলে স্বাস্থ্যবিধি, অতিথি ব্যবস্থাপনা এবং যান চলাচল নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া অনেক শিক্ষার্থী বলেন, প্রতিষ্ঠানের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলকে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে পেরে তারা আনন্দিত। তাদের মতে, শিক্ষার্থীদের আবাসন, গবেষণা সুবিধা এবং আধুনিক শিক্ষা অবকাঠামো উন্নয়নের উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে চিকিৎসা শিক্ষার মান আরও বৃদ্ধি পাবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, চিকিৎসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে সবুজায়ন ও পরিবেশবান্ধব ক্যাম্পাস গড়ে তোলার উদ্যোগ অত্যন্ত সময়োপযোগী। একটি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে পর্যাপ্ত গাছপালা শুধু পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে না, বরং রোগী, শিক্ষার্থী ও চিকিৎসকদের জন্যও একটি ইতিবাচক ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ তৈরি করে। জলবায়ু পরিবর্তনের বর্তমান বাস্তবতায় এ ধরনের উদ্যোগ আরও বেশি গুরুত্ব বহন করে।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের দীর্ঘ ইতিহাসে প্রতিষ্ঠানটি দেশের স্বাস্থ্যখাতে অসংখ্য দক্ষ চিকিৎসক তৈরি করেছে। স্বাধীনতা যুদ্ধ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, মহামারি এবং বিভিন্ন জাতীয় সংকটে এই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও চিকিৎসকেরা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। সেই ঐতিহ্যকে আরও সমৃদ্ধ করতে শিক্ষা, গবেষণা এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ গ্রহণের ওপরও জোর দেওয়া হচ্ছে।

স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, নতুন ছাত্রী হোস্টেল নির্মাণের উদ্যোগ বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। চিকিৎসা শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট দীর্ঘদিনের একটি বাস্তব সমস্যা। আধুনিক আবাসিক সুবিধা নিশ্চিত হলে শিক্ষার্থীরা আরও মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা ও গবেষণায় অংশ নিতে পারবেন। একই সঙ্গে নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল আবাসিক পরিবেশ তাদের শিক্ষা জীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ ক্যাম্পাসে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, চিকিৎসক এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ছিল উৎসবের আমেজ। বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি তারা প্রতিষ্ঠানের গৌরবময় ইতিহাস স্মরণ করেন এবং ভবিষ্যতে দেশের স্বাস্থ্যসেবায় আরও বড় অবদান রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের ৮০ বছর পূর্তি এবং ৮১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই আয়োজন শুধু অতীতের সাফল্য উদযাপন নয়, বরং ভবিষ্যতের উন্নয়ন পরিকল্পনারও একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে। শিক্ষা, গবেষণা, আবাসন সুবিধা, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা অবকাঠামো গড়ে তোলার সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি আগামী দিনেও দেশের চিকিৎসা শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে নেতৃত্ব দেবে—এমন প্রত্যাশাই সংশ্লিষ্ট সবার।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত