প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
রাজধানীর তেজগাঁও-গুলশান লিংক রোডে নতুন ফ্ল্যাগশিপ শাখা উদ্বোধনের মাধ্যমে গ্রাহকসেবার পরিধি আরও সম্প্রসারণ করল ব্র্যাক ব্যাংক। ‘তেজগাঁও প্রিন্সিপাল ব্রাঞ্চ’ নামে নতুন এই শাখাটি অত্যাধুনিক ডিজিটাল ব্যাংকিং সুবিধা, প্রিমিয়াম গ্রাহকসেবা এবং প্রযুক্তিনির্ভর লেনদেন ব্যবস্থার সমন্বয়ে দেশের ব্যাংকিং খাতে নতুন মানদণ্ড স্থাপনের প্রত্যাশা করছে প্রতিষ্ঠানটি।
তেজগাঁও-গুলশান লিংক রোডের শান্তা পিনাকল টাওয়ারে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ব্র্যাক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (ম্যানেজিং ডিরেক্টর অ্যান্ড সিইও) তারেক রেফাত উল্লাহ খান আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন এই ফ্ল্যাগশিপ শাখার উদ্বোধন করেন। এর মাধ্যমে রাজধানীতে ব্যাংকটির সেবা নেটওয়ার্ক আরও শক্তিশালী হলো এবং ব্যক্তি ও করপোরেট গ্রাহকদের জন্য আধুনিক ব্যাংকিং সুবিধা আরও সহজলভ্য হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ব্যাংকিং ও করপোরেট খাতের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর (গ্রুপ ফাইন্যান্স) এম. আনিসুল হক, এফসিএমএ; ব্র্যাক ব্যাংকের অ্যাডিশনাল ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও চিফ ফাইন্যান্সিয়াল অফিসার এম. মাসুদ রানা, এফসিএ; ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও হেড অব ব্রাঞ্চ ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্ক শেখ মোহাম্মদ আশফাক; সিনিয়র জোনাল হেড তাহের হাসান আল মামুন এবং ব্র্যাক ব্যাংক ও শান্তা হোল্ডিংসের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন।
প্রতিষ্ঠানটির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের প্রথম ৪০ তলা বাণিজ্যিক স্কাইস্ক্র্যাপার ‘শান্তা পিনাকল’-এ স্থাপিত এই শাখাটি গ্রাহকদের জন্য প্রযুক্তিনির্ভর এবং প্রিমিয়াম ব্যাংকিং অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে পরিচালিত হবে। আধুনিক অবকাঠামো ও ডিজিটাল সেবার সমন্বয়ে নির্মিত এই শাখায় ব্যাংকিং কার্যক্রমকে আরও দ্রুত, নিরাপদ এবং গ্রাহকবান্ধব করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
নতুন শাখাটির অন্যতম আকর্ষণ হলো দেশের প্রথম ব্যাচ-সংযুক্ত ডিজিটাল ক্লিয়ারিং চেক কিয়স্ক। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে গ্রাহকেরা আরও দ্রুত ও সহজভাবে চেক জমা এবং ক্লিয়ারিং-সংক্রান্ত কার্যক্রম সম্পন্ন করতে পারবেন। পাশাপাশি শাখাটিতে আধুনিক কিউ ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম, ডিজিটাল কর্নার এবং প্রিমিয়াম ব্যাংকিং লাউঞ্জ স্থাপন করা হয়েছে, যাতে গ্রাহকদের অপেক্ষার সময় কমে আসে এবং সেবা গ্রহণ আরও স্বাচ্ছন্দ্যময় হয়।
ব্যাংকিং খাতে প্রযুক্তির ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে। মোবাইল ব্যাংকিং, ইন্টারনেট ব্যাংকিং, স্বয়ংক্রিয় লেনদেন এবং ডিজিটাল গ্রাহকসেবার বিস্তারের ফলে গ্রাহকদের প্রত্যাশাও পরিবর্তিত হয়েছে। সেই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ব্র্যাক ব্যাংক নতুন এই শাখায় উন্নত ডিজিটাল সুবিধা যুক্ত করেছে, যা ভবিষ্যতের ব্যাংকিং ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ব্র্যাক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা তারেক রেফাত উল্লাহ খান বলেন, ব্যাংকটির লক্ষ্য হলো সারা দেশে শাখা নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের মাধ্যমে গ্রাহকদের দোরগোড়ায় সহজ, নিরাপদ এবং গ্রাহকবান্ধব ব্যাংকিং সেবা পৌঁছে দেওয়া। তিনি বলেন, উন্নত ডিজিটাল সক্ষমতা এবং আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে গ্রাহকদের সর্বোচ্চ মানের ব্যাংকিং অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করতে ব্র্যাক ব্যাংক নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, শুধু নতুন শাখা চালু করাই নয়, প্রতিটি শাখায় প্রযুক্তিনির্ভর সেবা, দক্ষ জনবল এবং উন্নত গ্রাহকসেবা নিশ্চিত করাই ব্যাংকের অন্যতম অগ্রাধিকার। ভবিষ্যতেও দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকায় একই ধরনের আধুনিক শাখা স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে বলেও তিনি ইঙ্গিত দেন।
বর্তমানে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ব্র্যাক ব্যাংকের ৩১৫টি শাখা ও উপশাখা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এর পাশাপাশি এটিএম, সিডিএম, এজেন্ট ব্যাংকিং, ডিজিটাল ব্যাংকিং এবং অনলাইন সেবার মাধ্যমে ব্যাংকটি গ্রাহকদের জন্য বহুমাত্রিক আর্থিক সেবা প্রদান করছে। নতুন শাখা উদ্বোধনের মাধ্যমে রাজধানীর করপোরেট গ্রাহক, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা এবং ব্যক্তিগত গ্রাহকেরা আরও উন্নত সেবা পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
ব্যাংকিং খাতের বিশ্লেষকদের মতে, প্রতিযোগিতামূলক বাজারে শুধু শাখা বাড়ানোই যথেষ্ট নয়; প্রযুক্তিনির্ভর গ্রাহকসেবা, দ্রুত লেনদেন, নিরাপত্তা এবং উন্নত ডিজিটাল অবকাঠামোই আগামী দিনের ব্যাংকিং খাতের মূল চালিকাশক্তি হবে। সেই বিবেচনায় ব্র্যাক ব্যাংকের এই নতুন ফ্ল্যাগশিপ শাখা দেশের আধুনিক ব্যাংকিং ব্যবস্থার বিকাশে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
প্রযুক্তিনির্ভর আর্থিক সেবা, গ্রাহকস্বাচ্ছন্দ্য এবং উদ্ভাবনী ব্যাংকিং সমাধানের মাধ্যমে ব্র্যাক ব্যাংক দেশের ব্যাংকিং খাতে নিজেদের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করার যে কৌশল গ্রহণ করেছে, তেজগাঁওয়ের নতুন প্রিন্সিপাল ব্রাঞ্চ তারই একটি বাস্তব প্রতিফলন। সংশ্লিষ্টদের আশা, এই শাখা রাজধানীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অঞ্চলে ব্যক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক গ্রাহকদের জন্য নির্ভরযোগ্য এবং আধুনিক ব্যাংকিং সেবার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।