কাতারের সাবেক আমিরের মৃত্যুতে শোক জানাল জামায়াত

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই, ২০২৬
  • ৩ বার
কাতারের সাবেক আমিরের মৃত্যুতে শোক জানাল জামায়াত

প্রকাশ: ১৪ জুলাই  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

কাতারের সাবেক আমির শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানির ইন্তেকালে গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার ঢাকায় অবস্থিত কাতার দূতাবাসে গিয়ে সংরক্ষিত শোকবইয়ে স্বাক্ষর করেন এবং মরহুমের রূহের মাগফিরাত কামনা করেন। একই সঙ্গে তিনি কাতারের বর্তমান আমির, শোকাহত রাজপরিবার, সরকার ও জনগণের প্রতি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে আন্তরিক সমবেদনা জানান।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকার কাতার দূতাবাসে এ শোক প্রকাশের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। সেখানে বাংলাদেশে নিযুক্ত কাতারের রাষ্ট্রদূত সেরায়া আলি আল-কাহতানি মিয়া গোলাম পরওয়ারকে স্বাগত জানান। রাষ্ট্রদূত কাতারের শোকাহত রাজপরিবার ও জনগণের পক্ষ থেকে তার সমবেদনা গ্রহণ করেন এবং দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

শোকবইয়ে স্বাক্ষর শেষে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানি শুধু কাতারের একজন সাবেক রাষ্ট্রনায়ক ছিলেন না, তিনি আধুনিক কাতার গঠনের অন্যতম প্রধান রূপকার হিসেবে বিশ্বব্যাপী পরিচিত ছিলেন। তার নেতৃত্বে কাতার অর্থনীতি, জ্বালানি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কূটনীতি এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করে। তার মৃত্যু শুধু কাতারের জন্য নয়, সমগ্র মুসলিম বিশ্বের জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষতি।

তিনি আরও বলেন, কাতার ও বাংলাদেশের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যমান সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক ভবিষ্যতেও আরও শক্তিশালী হবে বলে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বিশ্বাস করে। দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা, অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব এবং জনগণের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও বিস্তৃত হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ ও কাতারের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন বিষয় নিয়েও সৌহার্দ্যপূর্ণ আলোচনা হয়। উভয় পক্ষই দুই দেশের ঐতিহাসিক বন্ধুত্ব, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং ভবিষ্যতে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শ্রমবাজার ও মানবসম্পদ উন্নয়নের ক্ষেত্রে সম্পর্ক আরও গভীর করার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে বিরোধীদলীয় নেতার পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মীর আহমেদ বিন কাশেম আরমান এমপিও উপস্থিত ছিলেন। তিনি কাতারের সাবেক আমিরের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেন এবং শোকাহত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান।

বিশ্লেষকদের মতে, কাতারের সাবেক আমির শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানি আধুনিক মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম প্রভাবশালী নেতা হিসেবে বিবেচিত হন। তার নেতৃত্বে কাতার বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রপ্তানিকারক দেশে পরিণত হয়। পাশাপাশি শিক্ষা, গবেষণা, কূটনীতি এবং আন্তর্জাতিক মানবিক উদ্যোগে দেশটির ভূমিকা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কাতারের গ্রহণযোগ্যতা প্রতিষ্ঠায়ও তার অবদান গুরুত্বপূর্ণ বলে বিভিন্ন মহলে স্বীকৃত।

বাংলাদেশের সঙ্গে কাতারের সম্পর্কও গত কয়েক দশকে ধারাবাহিকভাবে শক্তিশালী হয়েছে। বিশেষ করে প্রবাসী বাংলাদেশি কর্মীদের কর্মসংস্থান, বিনিয়োগ, জ্বালানি সহযোগিতা এবং বিভিন্ন উন্নয়নমূলক খাতে দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ক্রমেই বিস্তৃত হয়েছে। বর্তমানে কাতারে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি কর্মরত রয়েছেন, যারা দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাষ্ট্রীয় বা রাজনৈতিক পর্যায়ে শোকবইয়ে স্বাক্ষর করা শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং এটি দুই দেশের পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সৌহার্দ্য ও কূটনৈতিক সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক। এ ধরনের উদ্যোগ আন্তর্জাতিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

কাতারের সাবেক আমিরের মৃত্যুতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ, আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং রাজনৈতিক নেতারা ইতোমধ্যে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। বাংলাদেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরাও পৃথকভাবে শোকবার্তা দিয়েছেন। এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর এই শোক প্রকাশ দুই দেশের বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের প্রতিফলন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

শোকবইয়ে স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে মিয়া গোলাম পরওয়ার মরহুম শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানির আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং আল্লাহ তাআলার কাছে তার জন্য জান্নাতুল ফেরদৌস নসিবের দোয়া করেন। একই সঙ্গে তিনি শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের ধৈর্য ও শক্তি দানের জন্য মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা জানান।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত