জুলাইয়ের চেতনায় ঐক্যের আহ্বান রাষ্ট্রপতির

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৬
  • ৩১ বার
জুলাইয়ের চেতনায় ঐক্যের আহ্বান রাষ্ট্রপতির

প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

‘জুলাই শহীদ দিবস’ উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেছেন, ২০২৪ সালের জুলাই গণ–অভ্যুত্থান ছিল দীর্ঘদিনের বৈষম্য, দুর্নীতি, গুম, খুন, ভোটাধিকার হরণ, নিপীড়ন এবং ফ্যাসিবাদী দুঃশাসনের বিরুদ্ধে সর্বস্তরের মানুষের জমে থাকা ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। তিনি বলেন, এই আন্দোলনের মূল প্রেরণা ছিল একটি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক, জবাবদিহিমূলক ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষা। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে দল-মত-পথনির্বিশেষে জাতীয় ঐক্যের ভিত্তিতে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি।

বুধবার (১৫ জুলাই) ‘জুলাই শহীদ দিবস’ উপলক্ষে দেওয়া বাণীতে রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে এই দিনটি গভীর তাৎপর্য বহন করে। তিনি ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে আত্মোৎসর্গকারী সব শহীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান এবং তাদের আত্মত্যাগকে জাতির ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে আন্দোলনে আহত তরুণ-তরুণী, শিক্ষার্থী এবং যুবকদের প্রতিও শ্রদ্ধা নিবেদন করেন, যাদের অনেকে আজও গুরুতর শারীরিক প্রতিবন্ধকতা ও দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক যন্ত্রণার মধ্যে জীবন কাটাচ্ছেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, শহীদদের পরিবারের সদস্যরা যেমন আপনজন হারানোর বেদনা বহন করছেন, তেমনি আহতদের পরিবারও দীর্ঘ সময় ধরে শারীরিক, মানসিক ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে। তিনি এসব পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান এবং আন্দোলনে অংশ নেওয়া সব দেশপ্রেমিক নাগরিকের ত্যাগ ও অবদানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

বাণীতে রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেন, জুলাই গণ–অভ্যুত্থান কোনো ব্যক্তি, দল বা নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর একক আন্দোলন ছিল না। তাঁর ভাষায়, এটি ছিল গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার এবং নাগরিক অধিকারের পক্ষে অবস্থান নেওয়া মানুষের সম্মিলিত আকাঙ্ক্ষা, সাহস ও আত্মত্যাগের ফসল। তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, শিক্ষার্থী, তরুণ সমাজ এবং সাধারণ জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ আন্দোলনটিকে গণঅভ্যুত্থানে রূপ দেয়।

রাষ্ট্রপতি তাঁর বাণীতে ২০২৪ সালের ১৬ জুলাইয়ের ঘটনাপ্রবাহের কথাও স্মরণ করেন। তিনি বলেন, রংপুরে আবু সাঈদের প্রসারিত হাত এবং গুলিবিদ্ধ হয়ে তাঁর মৃত্যুর ঘটনা আন্দোলনে নতুন মাত্রা যোগ করে। একই দিনে দেশের বিভিন্ন স্থানে আরও কয়েকজন তরুণের প্রাণহানির ঘটনা আন্দোলনের গতি ও ব্যাপ্তি আরও বাড়িয়ে দেয়। পরবর্তী সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের গ্রেপ্তার, বিভিন্ন ধরনের দমন-পীড়ন এবং বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের ব্যাপক অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে আন্দোলন সারা দেশে বিস্তৃত হয়।

তিনি বলেন, জুলাইয়ের ঘটনাবলি দেশের মানুষকে স্মরণ করিয়ে দেয় যে রাষ্ট্রের প্রকৃত শক্তির উৎস জনগণ। জনগণের ভোটাধিকার, মৌলিক অধিকার, মর্যাদা এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের প্রধান দায়িত্ব। রাষ্ট্রপতির ভাষায়, জুলাইয়ের চেতনা এমন একটি বাংলাদেশ গঠনের প্রেরণা দেয়, যেখানে মানবিক মূল্যবোধ, সমতা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হবে।

রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, গণ–অভ্যুত্থানে শহীদদের আত্মত্যাগ শুধু একটি রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রতীক নয়, বরং এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য দায়িত্ববোধ, সাহস এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ রক্ষার একটি অনুপ্রেরণাও। তিনি মনে করেন, ইতিহাসের এই অধ্যায় থেকে শিক্ষা নিয়ে দেশকে এমন একটি পথে এগিয়ে নিতে হবে, যেখানে নাগরিক অধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং ন্যায়বিচার সবার জন্য সমানভাবে নিশ্চিত হবে।

বাণীতে বর্তমান সরকারের অঙ্গীকারের বিষয়েও উল্লেখ করেন রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনে শহীদ ও আহত ব্যক্তিদের যথাযথ সম্মান ও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি নিশ্চিত করা, তাদের পরিবারের কল্যাণে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ, আহতদের পুনর্বাসন এবং সংশ্লিষ্ট হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি জানান, এসব লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়ে কাজ করছে।

রাষ্ট্রপতি মনে করেন, শুধু সরকারের উদ্যোগই যথেষ্ট নয়; সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, ব্যবসায়ী, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, সামাজিক ও মানবিক সংগঠন এবং নাগরিক সমাজকেও এই দায়িত্ব পালনে এগিয়ে আসতে হবে। শহীদ পরিবারের সদস্যদের পাশে দাঁড়ানো, আহতদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনে সহযোগিতা করা এবং তাদের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা একটি জাতীয় দায়িত্ব বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

বিশ্লেষকদের মতে, জাতীয় জীবনের গুরুত্বপূর্ণ দিবসগুলোতে রাষ্ট্রপতির এ ধরনের বার্তা শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং জাতীয় ঐক্য, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং রাষ্ট্র পরিচালনার মৌলিক নীতিগুলোর প্রতি নতুন করে অঙ্গীকারের প্রতিফলন। বিশেষ করে রাজনৈতিক বিভাজনের সময়ে জাতীয় স্বার্থে ঐক্যের আহ্বান ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে।

জুলাই শহীদ দিবসকে ঘিরে দেশের বিভিন্ন স্থানে স্মরণসভা, দোয়া মাহফিল, আলোচনা সভা এবং শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এসব কর্মসূচির মাধ্যমে শহীদদের আত্মত্যাগ স্মরণ করার পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের কাছে জুলাই আন্দোলনের ইতিহাস ও তাৎপর্য তুলে ধরার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

রাষ্ট্রপতি তাঁর বাণীর শেষাংশে জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে আত্মদানকারী সব শহীদের আত্মার মাগফিরাত ও শাশ্বত শান্তি কামনা করেন। একই সঙ্গে আহতদের দ্রুত সুস্থতা এবং শহীদ পরিবারের সদস্যদের ধৈর্য ও শক্তি কামনা করেন। তিনি ‘জুলাই শহীদ দিবস’ উপলক্ষে গৃহীত সব কর্মসূচির সার্বিক সফলতা কামনা করে দেশের শান্তি, গণতন্ত্র, উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির জন্য সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত