জয়পুরহাটে সরকারের সমালোচনায় সরব নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৬
  • ৩৪ বার
জয়পুরহাটে সরকারের সমালোচনায় সরব নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

জয়পুরহাটে আয়োজিত ‘দেশ গড়তে জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচিতে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী সরকারের বিভিন্ন নীতি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং মাদক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাপনা নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেছেন। সমাবেশে তিনি অভিযোগ করেন, দেশের মাদক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার ব্যর্থ হয়েছে এবং রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন পর্যায়ে জবাবদিহির ঘাটতি রয়েছে। বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নিয়েও গুরুতর অভিযোগ তোলেন।

উল্লেখ্য, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ অন্যদের বিরুদ্ধে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর উত্থাপিত অভিযোগের পক্ষে তিনি এ বক্তব্যে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেননি এবং সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

বুধবার (১৫ জুলাই) রাতে জয়পুরহাট শহরের শহীদ ডা. আবুল কাশেম ময়দানে অনুষ্ঠিত সমাবেশে এসব বক্তব্য দেন তিনি। এর আগে সন্ধ্যার পর সরকারি আর.বি. উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে থেকে পদযাত্রা শুরু হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে সমাবেশস্থলে গিয়ে শেষ হয়। কর্মসূচিতে এনসিপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতাকর্মী ছাড়াও বিপুলসংখ্যক সমর্থক অংশ নেন।

সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, দেশের জনগণ একটি জবাবদিহিমূলক, বৈষম্যহীন এবং গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রত্যাশা করে। তাঁর ভাষ্য, রাষ্ট্র পরিচালনায় জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে এবং সংবিধানকে জনগণের অধিকার ও গণতান্ত্রিক চেতনার প্রতিফলন হিসেবে দেখতে হবে। তিনি সরকারের উদ্দেশে বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে জনগণের প্রত্যাশাকে গুরুত্ব দিয়ে এগিয়ে যেতে হবে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমের সমালোচনা করে তিনি দাবি করেন, দেশে মাদক নিয়ন্ত্রণে দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি অভিযোগ করেন যে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ অনেকেই মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তবে বক্তব্যে তিনি এ অভিযোগের পক্ষে কোনো তথ্য, দলিল বা প্রমাণ উপস্থাপন করেননি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জনসভা ও রাজনৈতিক সমাবেশে সরকারবিরোধী দলগুলোর পক্ষ থেকে বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ উত্থাপন করা নতুন নয়। তবে গুরুতর অভিযোগের ক্ষেত্রে তা যাচাইযোগ্য তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে উপস্থাপন করা এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য নেওয়া সাংবাদিকতার নৈতিকতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এ ধরনের অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী সংস্থা ও বিচারিক প্রক্রিয়ার।

সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব সাইফ মোস্তাফিজ, রাজশাহী বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ইমরান ইমন, জয়পুরহাট জেলা এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক কবির হোসেন, সদস্য সচিব ফিরোজ আলমগীর এবং সাংগঠনিক সম্পাদক ইসমাইল হোসেন হাদি। বক্তারা দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, প্রশাসনিক সংস্কার, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং তরুণদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

বক্তারা বলেন, জুলাই আন্দোলনের চেতনা শুধু একটি রাজনৈতিক পরিবর্তনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং একটি নতুন রাষ্ট্রব্যবস্থা, কার্যকর জবাবদিহি এবং নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিও এর সঙ্গে যুক্ত। তাদের দাবি, জনগণের প্রত্যাশা পূরণে রাজনৈতিক সংস্কার এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

‘দেশ গড়তে জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচিকে এনসিপি তাদের সাংগঠনিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে উল্লেখ করেছে। দলটির নেতারা জানান, দেশের বিভিন্ন জেলা ও বিভাগে এ ধরনের কর্মসূচির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের সঙ্গে মতবিনিময়, জুলাই আন্দোলনের বার্তা প্রচার এবং দলীয় অবস্থান তুলে ধরা হচ্ছে। জয়পুরহাটের কর্মসূচিতেও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণ ছিল বলে তারা দাবি করেন।

সমাবেশ চলাকালে বক্তারা দেশের আইনশৃঙ্খলা, দুর্নীতি, মাদক নিয়ন্ত্রণ, প্রশাসনিক সংস্কার এবং রাজনৈতিক পরিবেশ নিয়ে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেন। তারা বলেন, জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী রাষ্ট্র পরিচালনায় আরও বেশি স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং আইনের শাসন নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

এদিকে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বক্তব্যের পর রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নিয়ে তাঁর উত্থাপিত অভিযোগ গুরুত্ব পেয়েছে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। অভিযোগের বিষয়ে তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা সংবাদে সংযোজন করা হবে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, নির্বাচন, রাষ্ট্র সংস্কার এবং প্রশাসনিক জবাবদিহি নিয়ে চলমান রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের জনসভাগুলো এখন জাতীয় রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। এসব কর্মসূচিতে উত্থাপিত বক্তব্য জনমনে আলোচনার জন্ম দিলেও অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য উপস্থাপন করাই দায়িত্বশীল সংবাদ পরিবেশনের অন্যতম শর্ত।

জয়পুরহাটের এই সমাবেশও সেই ধারাবাহিক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের অংশ হিসেবে নতুন করে আলোচনায় এসেছে। আগামী দিনগুলোতে এ ধরনের কর্মসূচির মাধ্যমে এনসিপি তাদের রাজনৈতিক অবস্থান ও সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করবে বলে দলীয় নেতারা জানিয়েছেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত