বাসযোগ্য নগর গড়তে নাগরিক সচেতনতায় জোর মন্ত্রীর

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৬
  • ৩৪ বার
বাসযোগ্য নগর গড়তে নাগরিক সচেতনতায় জোর মন্ত্রীর

প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

পরিচ্ছন্ন, পরিকল্পিত এবং টেকসই নগর গড়ে তুলতে সরকারের উদ্যোগের পাশাপাশি নাগরিকদের দায়িত্বশীল আচরণ ও সক্রিয় অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, একটি আধুনিক ও বাসযোগ্য নগর শুধু সরকারি উদ্যোগের মাধ্যমে গড়ে তোলা সম্ভব নয়। নগরের প্রতিটি বাসিন্দাকে নিজ নিজ দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন হতে হবে এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা থেকে শুরু করে পরিবেশ রক্ষার প্রতিটি ক্ষেত্রে দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত করতে হবে।

বুধবার (১৫ জুলাই) ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মিলনায়তনে আয়োজিত ‘নগরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আমার, আপনার, সকলের দায়িত্ব’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। রাজধানীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন, নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং পরিচ্ছন্ন নগর গঠনে সরকারি ও নাগরিক উদ্যোগের সমন্বয় নিয়ে আয়োজিত এই সেমিনারে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তা, নগর পরিকল্পনাবিদ এবং সেবাসংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

মন্ত্রী বলেন, রাজধানী ঢাকার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বহু বছরের একটি জটিল সমস্যা। দ্রুত নগরায়ণ, জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং অপরিকল্পিত নগর সম্প্রসারণের ফলে এই সংকট আরও গভীর হয়েছে। দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র হিসেবে ঢাকায় প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ বর্জ্য উৎপন্ন হচ্ছে। এসব বর্জ্য যথাযথভাবে সংগ্রহ, পরিবহন, পুনর্ব্যবহার এবং পরিবেশবান্ধব উপায়ে অপসারণ নিশ্চিত করা এখন সময়ের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ।

তিনি বলেন, সরকার আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো এবং নগর সেবার মান উন্নয়নে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। তবে শুধু অবকাঠামো নির্মাণ বা প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করলেই কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আসবে না। সাধারণ মানুষ যদি নির্ধারিত স্থানে বর্জ্য না ফেলেন, পরিবেশ দূষণ রোধে সচেতন না হন কিংবা নগর পরিচ্ছন্ন রাখতে সহযোগিতা না করেন, তাহলে কোনো উদ্যোগই দীর্ঘমেয়াদে সফল হবে না।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আরও বলেন, একটি পরিচ্ছন্ন নগর গড়ে তোলার দায়িত্ব সিটি করপোরেশন, সরকারি প্রতিষ্ঠান কিংবা পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের একার নয়। প্রতিটি নাগরিকের দৈনন্দিন আচরণ, দায়িত্ববোধ এবং সচেতনতাই একটি শহরের পরিচ্ছন্নতা ও বাসযোগ্যতা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তিনি সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, নাগরিক দায়িত্ব পালনের সংস্কৃতি গড়ে উঠলে নগর ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, দীর্ঘমেয়াদে পরিচ্ছন্ন নগর গড়ে তুলতে শিশুদের মধ্যেই সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। তিনি জানান, ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে আগামী বছর থেকে প্রাথমিক স্তরের পাঠ্যপুস্তকে নৈতিকতা, পরিবেশ সচেতনতা এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বিষয়ক পাঠ আনুষ্ঠানিকভাবে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাঁর মতে, ছোটবেলা থেকেই নাগরিক দায়িত্ববোধের শিক্ষা দেওয়া গেলে ভবিষ্যতে একটি পরিচ্ছন্ন ও শৃঙ্খলাবদ্ধ সমাজ গড়ে তোলা সহজ হবে।

সেমিনারে উপস্থিত যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকও তরুণ সমাজের ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, পরিবেশ রক্ষা ও পরিচ্ছন্ন নগর গঠনে তরুণদের স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণ করা প্রয়োজন। সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং পরিবেশ সংরক্ষণে তরুণদের সম্পৃক্ততা দেশের নগর ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে।

ডিএনসিসির প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব মিরানা মাহরুখ, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার রিয়াজুল ইসলাম, ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমিনুল ইসলাম এবং ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমেদসহ বিভিন্ন সরকারি সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা নগর ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন দিক, বর্জ্য সংগ্রহ ও পুনর্ব্যবহার, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, পানি সরবরাহ এবং নগর পরিকল্পনার মধ্যে সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেন।

নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, দ্রুত নগরায়ণের ফলে রাজধানীসহ দেশের বড় শহরগুলোতে প্রতিদিন বর্জ্যের পরিমাণ বাড়ছে। এই বর্জ্য যথাযথভাবে ব্যবস্থাপনা করতে না পারলে জনস্বাস্থ্য, পরিবেশ এবং নগর জীবনের ওপর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তাই আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার, বর্জ্য পুনর্ব্যবহার এবং নাগরিকদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বিশেষজ্ঞদের অভিমত, বিশ্বের উন্নত নগরগুলোতে পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে শুধু আইন প্রয়োগ নয়, বরং নাগরিকদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ, সচেতনতা এবং সামাজিক দায়বদ্ধতাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। বাংলাদেশেও সেই সংস্কৃতি গড়ে তুলতে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি শিক্ষা, গণমাধ্যম এবং সামাজিক সংগঠনগুলোর ভূমিকা আরও জোরদার করা প্রয়োজন।

সেমিনারে অংশগ্রহণকারীরা মত দেন, পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য নগর গঠনের জন্য সিটি করপোরেশন, বিভিন্ন সেবা সংস্থা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ব্যবসায়ী সমাজ এবং সাধারণ নাগরিক—সব পক্ষের মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। পরিবেশবান্ধব নগর গড়ে তুলতে বর্জ্য পৃথকীকরণ, পুনর্ব্যবহার, নির্ধারিত সময়ে বর্জ্য অপসারণ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির মতো বিষয়গুলোকে আরও কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

অনুষ্ঠানের শেষাংশে বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, সরকারের চলমান উদ্যোগের সঙ্গে নাগরিকদের দায়িত্বশীল অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে রাজধানী ঢাকা ধীরে ধীরে আরও পরিচ্ছন্ন, পরিবেশবান্ধব এবং বাসযোগ্য নগরে পরিণত হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যে পরিচ্ছন্নতা, শৃঙ্খলা এবং নাগরিক দায়িত্ববোধ গড়ে তোলার মাধ্যমে একটি টেকসই নগর সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত