প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলায় মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে প্রায় ২৮ লাখ টাকা মূল্যের ৭ হাজার পিস ইয়াবাসহ এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। যাত্রীবাহী বাসে করে চট্টগ্রাম থেকে ইয়াবার বড় চালান এনে স্থানীয় পর্যায়ে সরবরাহের অভিযোগে মরিয়ম বেগম (৩৬) নামে ওই নারীকে আটক করা হয়। অভিযানের সময় তাঁর কাছ থেকে ইয়াবার পাশাপাশি একটি মোবাইল ফোন এবং নগদ অর্থও জব্দ করা হয়েছে। পরে আদালতে হাজির করা হলে তাঁর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (১৬ জুলাই) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার সান্দিকোনা ইউনিয়নের হেনারগাতী বাজার এলাকায় আঠারোবাড়ী-কেন্দুয়াগামী সড়কে অস্থায়ী চেকপোস্ট স্থাপন করে অভিযান পরিচালনা করা হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত এ অভিযানে চট্টগ্রাম থেকে আসা একটি যাত্রীবাহী বাসে তল্লাশি চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
ডিএনসির সহকারী পরিচালক মো. নাজমুল হকের নেতৃত্বে পরিচালিত এই অভিযানে ‘আশেকানে হাওলাপুরী’ নামের একটি যাত্রীবাহী বাস থামিয়ে তল্লাশি করা হয়। তল্লাশির একপর্যায়ে বাসে থাকা মরিয়ম বেগমের কাছে থাকা দুটি পৃথক প্যাকেট থেকে মোট ৭ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে একটি আইটেল ব্র্যান্ডের বাটন মোবাইল ফোন এবং মাদক বিক্রির সন্দেহে নগদ ৩ হাজার টাকা জব্দ করা হয়।
ডিএনসি জানিয়েছে, জব্দ করা ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ২৮ লাখ টাকা। উদ্ধার হওয়া মাদকদ্রব্য জব্দ করে আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে।
আটক মরিয়ম বেগম নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার রয়েলবাড়ী ইউনিয়নের কান্দিপাড়া গ্রামের বাসিন্দা এবং স্থানীয়ভাবে পরিচিত মাদক কারবারি জুয়েল মিয়ার স্ত্রী। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের দাবি, প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, মরিয়ম ও তাঁর স্বামী দীর্ঘদিন ধরে মাদক পাচার ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত। অভিযোগ অনুযায়ী, মরিয়ম নিয়মিত চট্টগ্রাম থেকে ইয়াবার চালান সংগ্রহ করে কেন্দুয়া এলাকায় নিয়ে আসতেন এবং পরে স্বামী-স্ত্রী মিলে স্থানীয়ভাবে সেগুলো বিক্রি করতেন।
তবে এসব অভিযোগ এখনো তদন্তাধীন এবং আদালতে বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার আগে কাউকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়নি।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে জেলার অভ্যন্তরে ইয়াবা সরবরাহের নতুন রুট ব্যবহার করছে মাদক চক্র। বিশেষ করে দূরপাল্লার যাত্রীবাহী বাস ব্যবহার করে মাদক পরিবহনের প্রবণতা বেড়েছে। এ কারণে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন সড়কে নিয়মিত চেকপোস্ট স্থাপন করে তল্লাশি অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
ঘটনার পর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক আল-আমিন বাদী হয়ে কেন্দুয়া থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার পর আটক মরিয়ম বেগমকে আদালতে সোপর্দ করা হয়।
নেত্রকোনা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. নাজমুল হক অভিযানের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। অভিযুক্তকে আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
নেত্রকোনা জেলা জজ আদালত সূত্র জানিয়েছে, মরিয়ম বেগমকে আদালতে হাজির করার পর তাঁর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করা হয়। আদালত তাঁকে বিচারিক হেফাজতে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের মতে, সীমান্তবর্তী অঞ্চল এবং দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কপথ ব্যবহার করে মাদক পাচারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। এসব চক্রকে দমন করতে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি, আন্তঃজেলা সমন্বয় এবং নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে মাদকের উৎস, পরিবহন নেটওয়ার্ক এবং অর্থায়নের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার উদ্যোগও চলমান রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু আইন প্রয়োগ নয়, মাদকবিরোধী সামাজিক সচেতনতা, পরিবারভিত্তিক নজরদারি এবং তরুণদের মধ্যে প্রতিরোধমূলক শিক্ষা জোরদার করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। মাদকের বিস্তার রোধে প্রশাসন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ জনগণের সম্মিলিত ভূমিকা প্রয়োজন।
সাম্প্রতিক এই অভিযানে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধার হওয়ায় নেত্রকোনা জেলায় মাদকবিরোধী অভিযানে একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য এসেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে এই ঘটনার মাধ্যমে মাদক পাচারকারীদের নতুন কৌশল এবং পরিবহন রুট নিয়েও নতুন করে সতর্ক হওয়ার প্রয়োজনীয়তা সামনে এসেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, মাদক পাচার ও কারবারের বিরুদ্ধে তাদের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।