বিদ্যুৎ বিভ্রাটে ঢাবিতে ক্ষোভ, ডিনের পদত্যাগ দাবি

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৬
  • ৫৬ বার
বিদ্যুৎ বিভ্রাটে ঢাবিতে ক্ষোভ, ডিনের পদত্যাগ দাবি

প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের মোজাফফর আহমেদ চৌধুরী মিলনায়তনে বিদ্যুৎ–বিভ্রাটের কারণে একটি আলোচনা সভা নির্ধারিত সময়ে শুরু করা সম্ভব না হওয়ায় তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। প্রায় দেড় ঘণ্টা বিলম্বে অনুষ্ঠান শুরু হওয়ায় বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম প্রকাশ্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং এ ঘটনার দায় নিয়ে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক মোহাম্মদ মঈনুল ইসলামের পদত্যাগ দাবি করেন। অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দীর্ঘ সময় জেনারেটর সচল থাকার পর সেটিও বিকল হয়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। পরে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

বুধবার (১৫ জুলাই) বিকেল ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের মোজাফফর আহমেদ চৌধুরী মিলনায়তনে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ‘স্মরণগাথায় জুলাই: বিপ্লবের দিনগুলি’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। জাতীয় নাগরিক পার্টির ছাত্রসংগঠন জাতীয় ছাত্রশক্তি এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। তবে অনুষ্ঠান শুরুর আগে ভবনে বিদ্যুৎ না থাকায় নির্ধারিত সময়ে কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হয়নি। প্রায় দেড় ঘণ্টা অপেক্ষার পর বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে আলোচনা সভা শুরু হয়।

অনুষ্ঠান শুরুর আগে বিদ্যুৎ–বিভ্রাট নিয়ে আয়োজক ও উপস্থিত অতিথিদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। এ সময় নাহিদ ইসলাম সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক মোহাম্মদ মঈনুল ইসলামের সঙ্গে কথা বলেন এবং বিলম্বের কারণ জানতে চান। তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে কোনো ছাত্রসংগঠনের কর্মসূচি দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎহীন অবস্থায় আটকে থাকা প্রশাসনিক ব্যর্থতার পরিচায়ক। তাঁর বক্তব্যে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের পরিস্থিতি গ্রহণযোগ্য নয় এবং প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের এ বিষয়ে জবাবদিহি থাকা উচিত।

নাহিদ ইসলাম ডিনের উদ্দেশে বলেন, তিনি ব্যক্তিগতভাবে তাঁকে সম্মান করলেও প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকা অবস্থায় এমন ঘটনার দায় এড়ানোর সুযোগ নেই। তিনি ঘটনাটির দায় স্বীকার করে ডিনকে পদত্যাগের আহ্বান জানান এবং প্রশ্ন তোলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকলে প্রশাসনের দায়িত্বশীলতার জায়গাটি কোথায়।

নাহিদ ইসলামের বক্তব্যের জবাবে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক মোহাম্মদ মঈনুল ইসলাম বলেন, বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার পরপরই জেনারেটর চালু করা হয়েছিল এবং প্রায় সাড়ে তিন থেকে চার ঘণ্টা পর্যন্ত সেটি সচল ছিল। পরে জেনারেটরও হঠাৎ বিকল হয়ে যায়। তিনি জানান, ওই পরিস্থিতি অনুষদ প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং তাৎক্ষণিকভাবে প্রকৌশল দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়।

পরে রাত সোয়া ৮টার দিকে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে একটি ব্যাখ্যাও প্রকাশ করা হয়। সেখানে বলা হয়, বুধবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে অনুষদ ভবনে হঠাৎ বিদ্যুৎ–বিভ্রাট দেখা দেয়। বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে স্বয়ংক্রিয়ভাবে জেনারেটর চালু হয় এবং কয়েক ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ অব্যাহত রাখে। তবে দীর্ঘ সময় একটানা চলার পর জেনারেটরও অচল হয়ে পড়ে।

ব্যাখ্যায় আরও বলা হয়, জেনারেটর বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরপরই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। একই সঙ্গে ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ডিপিডিসি) এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল বিভাগের সমন্বয়ে বিদ্যুৎ–বিভ্রাটের কারণ শনাক্ত ও সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা সমস্যার সমাধানে কাজ শুরু করেন এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার চেষ্টা চালান।

সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের প্রশাসন তাদের ব্যাখ্যায় অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী অতিথি, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও আয়োজকদের কাছে সাময়িক অসুবিধার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে। একই সঙ্গে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিভ্রান্তিকর তথ্য বা গুজব না ছড়ানোর জন্য সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টদের মতে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠে নিয়মিত জাতীয় ও আন্তর্জাতিক গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। তাই বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং বিকল্প বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনার নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘ সময়ের বিদ্যুৎ–বিভ্রাট শুধু অনুষ্ঠান পরিচালনায় বিঘ্ন ঘটায় না, বরং শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

জ্বালানি ও অবকাঠামো বিশেষজ্ঞদের মতে, গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে বিকল্প বিদ্যুৎ ব্যবস্থার সক্ষমতা আরও বাড়ানো প্রয়োজন। বিশেষ করে বড় মিলনায়তন, গবেষণাগার ও প্রশাসনিক ভবনগুলোতে দীর্ঘ সময়ের জন্য কার্যকর ব্যাকআপ ব্যবস্থা থাকা জরুরি, যাতে আকস্মিক বিদ্যুৎ–বিভ্রাটের মধ্যেও কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হয়।

এদিকে ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। কেউ প্রশাসনিক সমন্বয়ের ঘাটতির বিষয়টি সামনে আনছেন, আবার কেউ বিদ্যুৎ–বিভ্রাটকে অনাকাঙ্ক্ষিত প্রযুক্তিগত সমস্যা হিসেবে দেখছেন। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, সমস্যার প্রকৃত কারণ পর্যালোচনা করে ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ঘটনার পর বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হলেও অনুষ্ঠান বিলম্বে শুরু হওয়াকে কেন্দ্র করে যে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে, তা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অবকাঠামোগত সক্ষমতা এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রস্তুতি নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত

Theme Dwonload From ThemesBazar.Com