শ্রম অস্থিরতায় বে ফুটওয়্যার অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৬
  • ৩২ বার
শ্রম অস্থিরতায় বে ফুটওয়্যার অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ

প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

গাজীপুরের কালিয়াকৈরে অবস্থিত বে ফুটওয়্যার লিমিটেডে চলমান শ্রমিক অসন্তোষ ও উৎপাদন কার্যক্রমে দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থার প্রেক্ষাপটে প্রতিষ্ঠানটি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ১৩(১) ধারার আওতায় জারি করা এক নোটিশে কারখানা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শ্রম পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় এবং স্বাভাবিক কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব না হওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ফলে পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত কারখানার সব ধরনের উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।

কারখানা কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত নোটিশে বলা হয়েছে, গত ১২ জুলাই হঠাৎ করেই একদল শ্রমিক উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ করে কারখানার অভ্যন্তরে অবস্থান নেন। পরবর্তীতে ১৩ ও ১৪ জুলাইও একই ধরনের পরিস্থিতি অব্যাহত থাকে। কর্তৃপক্ষের দাবি, শ্রমিকদের সঙ্গে একাধিক দফা আলোচনা এবং সমঝোতার চেষ্টা করা হলেও উৎপাদন স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়নি। এর ফলে কারখানার স্বাভাবিক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে এবং উৎপাদন ব্যবস্থায় স্থবিরতা সৃষ্টি হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘ কয়েক দিন ধরে উৎপাদন বন্ধ থাকায় শুধু কারখানার অভ্যন্তরীণ কার্যক্রমই নয়, ক্রেতাদের কাছে নির্ধারিত সময়ে পণ্য সরবরাহ, উৎপাদন পরিকল্পনা এবং ব্যবসায়িক কার্যক্রমও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ অবস্থায় শ্রম পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত কারখানা চালু রাখা সম্ভব নয় বলে সিদ্ধান্তে পৌঁছায় কর্তৃপক্ষ।

নোটিশে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ১৫ জুলাই থেকে বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ১৩(১) ধারার বিধান অনুযায়ী কারখানাটি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। পরিস্থিতির উন্নতি হলে এবং নিরাপদ ও স্বাভাবিক কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব হলে পুনরায় কারখানা চালুর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সেই সিদ্ধান্ত যথাসময়ে শ্রমিক-কর্মচারীদের জানিয়ে দেওয়া হবে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ১৩(১) ধারা অনুযায়ী, বিশেষ পরিস্থিতিতে যদি কোনো প্রতিষ্ঠানে স্বাভাবিক উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব না হয় বা এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয় যা প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম অব্যাহত রাখাকে অসম্ভব করে তোলে, তাহলে নির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে কর্তৃপক্ষ সাময়িকভাবে কারখানা বন্ধ ঘোষণা করতে পারে। তবে এ ধরনের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে শ্রমিকদের প্রাপ্য অধিকার এবং আইনগত বিধান অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক।

শিল্প খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গাজীপুর দেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্পাঞ্চল হওয়ায় এখানে শ্রমিক অসন্তোষ বা উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার ঘটনা শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না; অনেক সময় এর প্রভাব সরবরাহ ব্যবস্থা, রপ্তানি কার্যক্রম এবং সামগ্রিক শিল্প পরিবেশের ওপরও পড়ে। বিশেষ করে তৈরি পোশাক ও জুতা শিল্পে সময়মতো উৎপাদন সম্পন্ন না হলে আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের কাছে পণ্য সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।

এদিকে কারখানা বন্ধের ঘোষণার পর শ্রমিকদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। তবে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত শ্রমিকদের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো লিখিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁদের দাবির বিষয়ে বিস্তারিত তথ্যও প্রকাশ করা হয়নি। ফলে শ্রমিকদের অভিযোগ ও কারখানা কর্তৃপক্ষের বক্তব্যের পূর্ণাঙ্গ চিত্র এখনো স্পষ্ট নয়।

শ্রম বিশেষজ্ঞদের মতে, শিল্পপ্রতিষ্ঠানে শ্রমিক ও মালিকপক্ষের মধ্যে যেকোনো বিরোধ দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা জরুরি। দীর্ঘদিন উৎপাদন বন্ধ থাকলে একদিকে যেমন প্রতিষ্ঠান আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ে, অন্যদিকে শ্রমিকদের জীবিকাও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে। তাই উভয় পক্ষের স্বার্থ বিবেচনায় সংলাপ ও মধ্যস্থতার মাধ্যমে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

গাজীপুর শিল্পাঞ্চলে অতীতেও বিভিন্ন সময় বেতন-ভাতা, চাকরির নিরাপত্তা, কর্মপরিবেশ এবং অন্যান্য দাবিকে কেন্দ্র করে শ্রমিক অসন্তোষের ঘটনা ঘটেছে। এসব পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসন, শ্রম অধিদপ্তর এবং শিল্প পুলিশ প্রয়োজন অনুযায়ী মধ্যস্থতার ভূমিকা পালন করে থাকে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতেও সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর কার্যকর উদ্যোগ শ্রমিক ও মালিকপক্ষের মধ্যে সমাধানের পথ সুগম করতে পারে।

কারখানা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কারখানা পুনরায় চালুর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে এবং সেই সিদ্ধান্ত যথাসময়ে শ্রমিক-কর্মচারীদের জানিয়ে দেওয়া হবে। একই সঙ্গে শ্রম পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে বলেও জানানো হয়েছে।

শিল্প খাতের স্থিতিশীলতা, শ্রমিকদের কর্মসংস্থান এবং উৎপাদন কার্যক্রম সচল রাখতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ এখন সময়ের দাবি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন, আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত সমাধানে পৌঁছানো গেলে শ্রমিক ও মালিক—উভয় পক্ষই দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি থেকে রক্ষা পাবে এবং শিল্পাঞ্চলের স্বাভাবিক পরিবেশও বজায় থাকবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত