আফগানিস্তানে জাতিসংঘের বিশেষ দূত হলেন রাবাব ফাতিমা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৬
  • ৩৪ বার
আফগানিস্তানে জাতিসংঘের বিশেষ দূত হলেন রাবাব ফাতিমা

প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বাংলাদেশের অভিজ্ঞ কূটনীতিক রাবাব ফাতিমাকে আফগানিস্তানে জাতিসংঘের সহায়তা মিশনের (ইউএনএএমএ) প্রধান এবং মহাসচিবের বিশেষ দূত হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময়ের কূটনৈতিক অভিজ্ঞতা, জাতিসংঘে নেতৃত্বপূর্ণ ভূমিকা এবং বহুপাক্ষিক সহযোগিতায় তাঁর দক্ষতার স্বীকৃতি হিসেবেই এই নিয়োগ এসেছে বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা।

জাতিসংঘের মুখপাত্রের দপ্তর থেকে বুধবার (১৫ জুলাই) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এ নিয়োগের ঘোষণা দেওয়া হয়। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা আনাদোলুসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, রাবাব ফাতিমা আফগানিস্তানে জাতিসংঘের সহায়তা মিশনের প্রধান হিসেবে কিরগিজস্তানের রোজা ওতুনবায়েভার স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন। একই সঙ্গে তিনি আফগানিস্তানবিষয়ক জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ দূতের দায়িত্বও পালন করবেন।

জাতিসংঘের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, রাবাব ফাতিমার জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ৩০ বছরেরও বেশি প্রশাসনিক ও কূটনৈতিক অভিজ্ঞতা রয়েছে। তাঁর কর্মজীবনে দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় কূটনীতি, আন্তর্জাতিক নীতিনির্ধারণ, উন্নয়ন সহযোগিতা, মানবিক কার্যক্রম, অ্যাডভোকেসি, কর্মসূচি পরিকল্পনা এবং বাস্তবায়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এসব অভিজ্ঞতা তাঁকে বিশ্বের অন্যতম জটিল রাজনৈতিক ও মানবিক সংকট মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনের জন্য উপযুক্ত করে তুলেছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

রাবাব ফাতিমা বর্তমানে জাতিসংঘের আন্ডার-সেক্রেটারি-জেনারেল এবং স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি), স্থলবেষ্টিত উন্নয়নশীল দেশ (এলএলডিসি) এবং উন্নয়নশীল ক্ষুদ্র দ্বীপরাষ্ট্রসমূহের (এসআইডিএস) উচ্চ প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ২০২২ সালের জুন মাসে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ পদে যোগ দেন এবং বৈশ্বিক উন্নয়ন, জলবায়ু পরিবর্তন, অর্থনৈতিক বৈষম্য ও টেকসই উন্নয়ন ইস্যুতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন।

এর আগে তিনি নিউইয়র্কে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে তিনি ওই দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও কার্যকরভাবে উপস্থাপনে ভূমিকা রাখেন। পাশাপাশি তিনি জাপানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর কূটনৈতিক নেতৃত্বে বাংলাদেশ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং বহুপাক্ষিক সহযোগিতার ক্ষেত্র আরও সম্প্রসারিত হয়।

জাতিসংঘে কর্মরত অবস্থায় রাবাব ফাতিমা একাধিক গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সংস্থার নেতৃত্ব দিয়েছেন। তিনি শান্তিবিনির্মাণ কমিশনের সভাপতি হিসেবে সংঘাত-পরবর্তী পুনর্গঠন ও শান্তি প্রতিষ্ঠার বিভিন্ন উদ্যোগে নেতৃত্ব দেন। এছাড়া ইউএন উইমেনের নির্বাহী বোর্ডের সভাপতি এবং জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৬তম অধিবেশনের সহসভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। একই সঙ্গে তিনি ইউনিসেফের নির্বাহী বোর্ডের সভাপতি এবং ইউএনডিপি, ইউএনএফপিএ ও ইউএনওপিএসের নির্বাহী বোর্ডের সহসভাপতির দায়িত্বও সফলভাবে পালন করেছেন।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র ক্যাডারে ১৯৮৯ সালে যোগ দেন রাবাব ফাতিমা। দীর্ঘ কূটনৈতিক জীবনে তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া নিউইয়র্ক ও জেনেভায় জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশন এবং কলকাতা ও বেইজিংয়ে বাংলাদেশ মিশনে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে সমৃদ্ধ অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন।

শুধু সরকারি দায়িত্বেই নয়, আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও তাঁর দীর্ঘ কর্ম-অভিজ্ঞতা রয়েছে। তিনি কমনওয়েলথ সচিবালয় এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)-এও গুরুত্বপূর্ণ পদে কাজ করেছেন। ফলে উন্নয়ন, অভিবাসন, মানবিক সহায়তা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিভিন্ন বিষয়ে তাঁর বাস্তব অভিজ্ঞতা রয়েছে, যা নতুন দায়িত্ব পালনে সহায়ক হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, আফগানিস্তানে জাতিসংঘের সহায়তা মিশনের প্রধানের দায়িত্ব বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশটিতে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, মানবিক সহায়তা, নারী ও শিশুদের অধিকার, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগিতা—সব ক্ষেত্রেই জাতিসংঘের সক্রিয় ভূমিকা রয়েছে। এ অবস্থায় রাবাব ফাতিমার মতো অভিজ্ঞ কূটনীতিকের নেতৃত্ব মিশনের কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

আফগানিস্তান দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক অস্থিরতা, অর্থনৈতিক সংকট এবং মানবিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। জাতিসংঘ দেশটিতে মানবিক সহায়তা, উন্নয়ন কর্মসূচি এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। বিশেষ দূত হিসেবে রাবাব ফাতিমার অন্যতম দায়িত্ব হবে আফগানিস্তানের অন্তর্বর্তী কর্তৃপক্ষ, আন্তর্জাতিক অংশীদার এবং বিভিন্ন মানবিক সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে জাতিসংঘের কার্যক্রম পরিচালনা করা।

কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই নিয়োগ শুধু রাবাব ফাতিমার ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সক্ষমতা এবং গ্রহণযোগ্যতারও একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি। বহুপাক্ষিক কূটনীতিতে বাংলাদেশের সক্রিয় ভূমিকা এবং দক্ষ কূটনীতিক তৈরির ধারাবাহিকতার প্রতিফলন হিসেবেও এই নিয়োগকে দেখা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব আরও শক্তিশালী করতে এবং জাতিসংঘের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে বাংলাদেশি কূটনীতিকদের অংশগ্রহণ বাড়াতে এই অর্জন ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত