সাতকানিয়ায় বন্যার্তদের পাশে সেনাবাহিনীর চিকিৎসাসেবা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৬
  • ৪১ বার
সাতকানিয়ায় বন্যার্তদের পাশে সেনাবাহিনীর চিকিৎসাসেবা

প্রকাশ: ১৬ জুলাই  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় অবনতিশীল বন্যা পরিস্থিতিতে দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে মানবিক সহায়তার অংশ হিসেবে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ বিতরণ করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। বন্যার পানিতে প্লাবিত ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় ১০ পদাতিক ডিভিশন ও কক্সবাজার এরিয়ার উদ্যোগে আয়োজিত বিশেষ ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পে প্রায় ৮৫০ জন বন্যার্ত চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেন। পাশাপাশি বিশুদ্ধ পানি নিশ্চিত করতে পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট এবং পানিবাহিত রোগ প্রতিরোধে খাবার স্যালাইনও বিতরণ করা হয়েছে।

বুধবার দিনব্যাপী সাতকানিয়ার বন্যাকবলিত এলাকায় পরিচালিত এই বিশেষ মেডিকেল ক্যাম্পে পাঁচজন অভিজ্ঞ চিকিৎসকের সমন্বয়ে গঠিত একটি মেডিকেল টিম রোগীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা, প্রয়োজনীয় পরামর্শ এবং চিকিৎসাসেবা প্রদান করেন। রোগীর শারীরিক অবস্থা মূল্যায়ন করে ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ওষুধ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়। চিকিৎসা নিতে আসা অধিকাংশ রোগী জ্বর, ডায়রিয়া, চর্মরোগ, সর্দি-কাশি, পানিবাহিত সংক্রমণ, উচ্চ রক্তচাপ এবং দীর্ঘদিনের বিভিন্ন শারীরিক সমস্যার জন্য চিকিৎসা গ্রহণ করেন।

সংশ্লিষ্টরা জানান, চলমান বর্ষা মৌসুমে অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে সাতকানিয়ার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। অনেক পরিবারের বসতবাড়ি পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় নিরাপদ পানীয় জল, স্বাস্থ্যসেবা এবং প্রয়োজনীয় ওষুধের সংকট দেখা দিয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে জলাবদ্ধতা অব্যাহত থাকায় পানিবাহিত রোগের ঝুঁকিও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে। এমন পরিস্থিতিতে দুর্গত মানুষের স্বাস্থ্যসুরক্ষা নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে এই বিশেষ মেডিকেল ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়।

চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি জনস্বাস্থ্য সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দিয়ে বন্যাকবলিত মানুষের মধ্যে এক হাজার পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট এবং এক হাজার প্যাকেট খাবার স্যালাইন বিতরণ করা হয়। চিকিৎসকদের মতে, বন্যার সময় দূষিত পানি ব্যবহারের কারণে ডায়রিয়া, আমাশয়, টাইফয়েড, চর্মরোগ ও অন্যান্য সংক্রামক রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই নিরাপদ পানি ব্যবহার এবং শরীরে পানিশূন্যতা প্রতিরোধে এসব উপকরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

মেডিকেল ক্যাম্প চলাকালে ১০ পদাতিক ডিভিশনের কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান মল্লিক কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। তিনি চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং বন্যার্তদের সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন। পাশাপাশি চিকিৎসাসেবা যেন সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হয় এবং কোনো দুর্গত ব্যক্তি প্রয়োজনীয় চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত না হন, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।

চিকিৎসাসেবা নিতে আসা স্থানীয় বাসিন্দারা সেনাবাহিনীর এই উদ্যোগকে সময়োপযোগী ও মানবিক বলে উল্লেখ করেন। অনেকেই জানান, বন্যার কারণে নিয়মিত স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ায় চিকিৎসা ও ওষুধ সংগ্রহ করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে নিজ এলাকার কাছেই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ ও বিনামূল্যে ওষুধ পেয়ে তারা স্বস্তি প্রকাশ করেন।

স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরাও সেনাবাহিনীর এই উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন। তাদের মতে, প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় সরকারি বিভিন্ন সংস্থার সমন্বিত কার্যক্রম মানুষের দুর্ভোগ অনেকাংশে কমিয়ে আনে। বিশেষ করে দুর্গত এলাকায় দ্রুত চিকিৎসাসেবা, বিশুদ্ধ পানি এবং স্বাস্থ্যসচেতনতা কার্যক্রম পরিচালনা ভবিষ্যতে বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি প্রতিরোধে সহায়ক হবে।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দীর্ঘদিন ধরেই প্রাকৃতিক দুর্যোগ, বন্যা, ঘূর্ণিঝড় ও অন্যান্য জরুরি পরিস্থিতিতে উদ্ধার অভিযান, ত্রাণ বিতরণ, চিকিৎসাসেবা এবং পুনর্বাসন কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। দেশের বিভিন্ন দুর্যোগকবলিত এলাকায় সেনাবাহিনীর মানবিক সহায়তা সাধারণ মানুষের আস্থা ও নির্ভরতার প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আবহাওয়া পরিস্থিতি এবং বন্যার অবস্থা বিবেচনায় প্রয়োজন হলে ভবিষ্যতেও এ ধরনের মেডিকেল ক্যাম্প পরিচালনা করা হবে। একই সঙ্গে দুর্গত মানুষের স্বাস্থ্যসুরক্ষা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ওষুধ, বিশুদ্ধ পানি এবং জরুরি চিকিৎসাসামগ্রী সরবরাহ অব্যাহত থাকবে। জনস্বার্থে এবং মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দুর্যোগকবলিত মানুষের পাশে থেকে ভবিষ্যতেও এ ধরনের সহায়তামূলক কার্যক্রম চালিয়ে যাবে বলেও সংশ্লিষ্টরা আশ্বাস দিয়েছেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত