গ্রিন কার্ডে ১ লাখ ডলার বন্ডের ভাবনায় যুক্তরাষ্ট্র

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৬
  • ৩৬ বার
গ্রিন কার্ডে ১ লাখ ডলার বন্ডের ভাবনায় যুক্তরাষ্ট্র

প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের অন্যতম প্রধান পথ হিসেবে পরিচিত গ্রিন কার্ড পাওয়ার প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের পরিবর্তনের পরিকল্পনা বিবেচনা করছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদনকারীদের কাছ থেকে আগাম এক লাখ মার্কিন ডলার বন্ড বা জামানত নেওয়ার বিষয়টি পর্যালোচনা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, এই অর্থ আবেদনকারীদের নাগরিকত্ব অর্জনের আগ পর্যন্ত সরকারের কাছে জমা থাকবে এবং নির্ধারিত শর্ত পূরণ হলে পরবর্তীতে তা ফেরত দেওয়া হবে। তবে এই প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে কম আয়ের দেশগুলোর আবেদনকারীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনের পথ আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন অভিবাসন বিশ্লেষকরা।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ এবং দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর বর্তমানে একটি পরীক্ষামূলক কর্মসূচির আওতায় এই নীতির সম্ভাব্যতা যাচাই করছে। প্রস্তাবটি এখনও চূড়ান্ত হয়নি, তবে প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ে এটি নিয়ে আলোচনা চলছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বরাতে জানানো হয়েছে, স্থায়ী অভিবাসী ভিসার আবেদনকারীদের জন্য উচ্চমূল্যের একটি বন্ড আরোপের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, আবেদনকারীদের নাগরিকত্ব লাভের আগ পর্যন্ত এক লাখ ডলার বা প্রশাসন নির্ধারিত অন্য কোনো অঙ্কের অর্থ বন্ড হিসেবে জমা রাখতে হতে পারে। ব্যক্তিভেদে এই বন্ডের পরিমাণ ভিন্ন হওয়ার সুযোগও রাখা হতে পারে। নাগরিকত্ব পাওয়ার পর আবেদনকারীকে সেই অর্থ ফেরত দেওয়া হবে। তবে মার্কিন নাগরিকত্ব অর্জনের পুরো প্রক্রিয়া শেষ হতে সাধারণত কয়েক বছর সময় লাগে। ফলে দীর্ঘ সময়ের জন্য এই বিপুল পরিমাণ অর্থ সরকারের কাছে জমা রাখতে হবে।

প্রস্তাবটির অন্যতম উদ্দেশ্য হিসেবে কম আয়ের বিদেশিদের অভিবাসন নিরুৎসাহিত করার বিষয়টি সামনে এসেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর ভাষ্য অনুযায়ী, যেসব আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে নিজেদের আর্থিক ব্যয় বহন করতে ব্যর্থ হতে পারেন, তাদের ক্ষেত্রে এই বন্ড একটি আর্থিক নিরাপত্তা হিসেবে বিবেচিত হবে। অর্থাৎ কোনো ব্যক্তি যদি যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন, তাহলে সেই পরিস্থিতি মোকাবিলায় এই জামানত ব্যবহারের সুযোগ রাখা হতে পারে।

অভিবাসন নীতিবিষয়ক বিশ্লেষকদের মতে, প্রস্তাবটি কার্যকর হলে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়বে উন্নয়নশীল ও নিম্ন আয়ের দেশগুলোর আবেদনকারীদের ওপর। কারণ অধিকাংশ মানুষের পক্ষেই এককালীন এক লাখ ডলার জোগাড় করা অত্যন্ত কঠিন। ফলে যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও অনেক আবেদনকারী শুধুমাত্র আর্থিক সামর্থ্যের অভাবে গ্রিন কার্ডের আবেদন করতে নিরুৎসাহিত হতে পারেন।

বিশেষজ্ঞরা আরও মনে করছেন, এই ধরনের উচ্চমূল্যের বন্ড অভিবাসন ব্যবস্থায় নতুন এক অর্থনৈতিক বাধা সৃষ্টি করবে। এতে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ ধনী আবেদনকারীদের জন্য তুলনামূলক সহজ হলেও সীমিত আয়ের মানুষের জন্য তা আরও কঠিন হয়ে উঠবে। ফলে অভিবাসন ব্যবস্থায় অর্থনৈতিক বৈষম্যের প্রশ্নও নতুন করে আলোচনায় আসতে পারে।

ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই অভিবাসন নীতিতে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে। সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার, অবৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ এবং অভিবাসন প্রক্রিয়ায় কঠোর শর্ত আরোপ প্রশাসনের অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। নতুন এই বন্ড প্রস্তাবও সেই ধারাবাহিকতার অংশ বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

এর আগে চলতি বছরের জানুয়ারিতে ট্রাম্প প্রশাসন নিরাপত্তা ও নীতিগত কারণ দেখিয়ে ৭৫টি নির্ধারিত দেশের অভিবাসী ভিসা প্রক্রিয়া অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করার উদ্যোগ নেয়। জাতীয়তার ভিত্তিতে ভিসা প্রক্রিয়া সীমিত করার ওই সিদ্ধান্ত আদালতে আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে এবং বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়।

এ ছাড়া গত জুনে বিদেশি দক্ষ কর্মীদের জন্য এইচ-১বি ভিসা আবেদনের ক্ষেত্রে নিয়োগদাতাদের ওপর এক লাখ ডলার ফি আরোপের উদ্যোগও নিয়েছিল প্রশাসন। তবে সেই পরিকল্পনাও আদালতের আদেশে স্থগিত হয়ে যায়। ফলে নতুন গ্রিন কার্ড বন্ড প্রস্তাব বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও আইনি ও প্রশাসনিক নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অভিবাসন আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই প্রস্তাব বাস্তবায়নের জন্য বিদ্যমান অভিবাসন আইন, প্রশাসনিক বিধিমালা এবং বিচারিক পর্যালোচনার বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। প্রস্তাবটি কার্যকর হওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নীতিগত অনুমোদন এবং প্রয়োজন হলে আদালতের পর্যবেক্ষণও বিবেচনায় আসতে পারে।

অন্যদিকে অভিবাসী অধিকার নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠন ইতোমধ্যে এমন উদ্যোগের সমালোচনা শুরু করেছে। তাদের দাবি, অর্থনৈতিক সামর্থ্যকে অভিবাসনের প্রধান শর্তে পরিণত করা হলে বহু যোগ্য আবেদনকারী বৈষম্যের শিকার হবেন। তারা মনে করেন, অভিবাসন নীতিতে আর্থিক সক্ষমতার পাশাপাশি আবেদনকারীর দক্ষতা, শিক্ষা, কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা এবং আইন মেনে চলার বিষয়গুলোও সমান গুরুত্ব পাওয়া উচিত।

তবে ট্রাম্প প্রশাসনের সমর্থকদের একটি অংশের যুক্তি, যুক্তরাষ্ট্রের সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও সরকারি ব্যয়ের ওপর অতিরিক্ত চাপ কমাতে অভিবাসীদের আর্থিক সক্ষমতা যাচাই করা প্রয়োজন। তাদের মতে, যারা নিজস্ব সামর্থ্যে যুক্তরাষ্ট্রে জীবনযাপন করতে পারবেন, তাদের জন্য এমন বন্ড ভবিষ্যতে সরকারের আর্থিক ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হতে পারে।

বর্তমানে এই প্রস্তাবটি নীতিগত আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে এবং এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হয়নি। তবে এটি বাস্তবায়িত হলে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতিতে সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় পরিবর্তন হিসেবে বিবেচিত হবে। একই সঙ্গে বিশ্বজুড়ে গ্রিন কার্ড প্রত্যাশী লাখো আবেদনকারীর পরিকল্পনা ও প্রস্তুতিতেও এর উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত