গুলশানে চাঁদা দাবির অভিযোগে গ্রেপ্তার গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদের জানে আলম অপু

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১ আগস্ট, ২০২৫
  • ১৪১ বার

প্রকাশ: ০১ আগস্ট ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
একটি বাংলাদেশ অনলাইন

রাজধানীর অভিজাত এলাকা গুলশানে এক সাবেক সংসদ সদস্যের বাসায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির ঘটনায় বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদের (বাগছাস) অন্যতম নেতা জানে আলম অপুকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। শুক্রবার ওয়ারী এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। ঢাকা মহানগর পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ডিসি তালেবুর রহমান বলেন, গুলশান থানায় দায়ের করা একটি মামলার ভিত্তিতে দীর্ঘ অনুসন্ধান চালিয়ে ডিবির একটি বিশেষ টিম জানে আলম অপুকে গ্রেপ্তার করে। তিনি বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদের যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির সরাসরি সম্পৃক্ততার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এ ঘটনায় আগে থেকেই পুলিশের নজরদারিতে থাকা কয়েকজন ব্যক্তি, যাদের মধ্যে অধিকাংশই বিভিন্ন ছাত্র ও যুব সংগঠনের সাথে সংশ্লিষ্ট, ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার হয়েছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক নেতা আবদুর রাজ্জাক বিন সোলাইমান ওরফে রিয়াদ, ইব্রাহিম হোসেন ওরফে মুন্না, সাকাদাউন সিয়াম, সাদমান সাদাব এবং একজন অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোর।

গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, এই গ্রুপটি দীর্ঘদিন ধরে রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকাকে টার্গেট করে আর্থিক চাঁদা দাবি করে আসছিল। গুলশানের সাবেক এমপির বাসায় ৫০ লাখ টাকা দাবি করার ঘটনাটি মূলত গোয়েন্দা বিভাগের নজরে আসে ভুক্তভোগীর লিখিত অভিযোগের পর। এরপরই পুলিশ তদন্তে নামে এবং প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে অভিযান চালায়।

প্রাপ্তবয়স্ক চার আসামিকে ইতোমধ্যে আদালতে হাজির করে পুলিশ তাদের রিমান্ডে নিয়েছে। আদালতের অনুমতি অনুযায়ী বর্তমানে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে বলে জানিয়েছেন গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। রিমান্ডে তাদের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে বলে জানায় তদন্তসংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র।

অপরদিকে, অপ্রাপ্তবয়স্ক অভিযুক্তের বিষয়ে আলাদা আইন অনুযায়ী বিচারিক প্রক্রিয়া চলছে। তার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট শিশু আদালতে মামলার কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

জানা গেছে, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে কয়েকজন অতীতে বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক ও সামাজিক আন্দোলনের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের পরিচয় প্রচার করে থাকলেও বাস্তবে অর্থনৈতিক উদ্দেশ্যে এসব পরিচয় ব্যবহার করার প্রমাণ পেয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা।

ডিবি কর্মকর্তারা বলছেন, বর্তমানে যারা ছাত্র রাজনীতির ব্যানারে সক্রিয় থাকলেও বাস্তবে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে পুলিশ প্রশাসন। কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়। এ ঘটনার মধ্য দিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিরপেক্ষতা ও অপরাধ দমন কার্যক্রম আরও সুস্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি পাওয়া যায়নি। তবে সংগঠনের একাধিক সদস্য অভিযোগ অস্বীকার করে এটিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করছেন।

এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভাষ্য, প্রমাণ ও তথ্য ছাড়া কাউকে আটক করা হয়নি। চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় তদন্ত চালানো হচ্ছে এবং অপরাধ প্রমাণিত হলে অভিযুক্তদের কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে।

বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নামে চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে ডিবি পুলিশের এমন অভিযানে নাগরিক সমাজ থেকে মিশ্র প্রতিক্রিয়া পাওয়া যাচ্ছে। কেউ একে অপরাধ নিয়ন্ত্রণের স্বাগতযোগ্য পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ কেউ রাজনৈতিক নিপীড়নের অভিযোগও তুলেছেন।

বর্তমানে গোয়েন্দা বিভাগের পক্ষ থেকে মামলাটির তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। একইসঙ্গে, এ ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই বিষয়ে চূড়ান্ত কিছু বলা যাচ্ছে না বলেও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত